রাজধানীতে চাহিদা মেটাচ্ছে রূপগঞ্জের খাঁটি দুধে উৎপাদিত দই
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৩ পিএম
মিষ্টি দইয়ের প্রতি প্রেম নেই এমন বাঙালির সংখ্যা খুবই কম। রাজধানী ঢাকায় রয়েছে দইয়ের ব্যাপক চাহিদা। তবে সে চাহিদা মেটাতে খাঁটি গরুর দুধে তৈরি করা দই পেতে অনেকেই বগুড়ার বিখ্যাত দইয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে তার চেয়ে আরো সুস্বাদু দই পেতে এখন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাটবাজারে গড়ে ওঠেছে দই উৎপাদন ও বিক্রির দোকান। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীর অভিযাত মিষ্টির দোকানে শোভা পাচ্ছে রূপগঞ্জের দই।
কথা হয় রাজধানীর যাত্রাবাড়ির চাইপাই রেস্টুরেন্টে ব্যবস্থাপক সোহেল খানের সঙ্গে। তিনি জানান, রূপগঞ্জের একাধিক খামারী দুধ দিয়ে যেতেন,ওই দুধ দিয়ে আগে দই বানানো হতো। এখন রূপগঞ্জ থেকে সরাসরি দই দেয়া হয়। আবার খিলক্ষেত থানার গণেশ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক পরান মন্ডল বলেন, কীভাবে সঠিকভাবে মন মতো স্বাদের তৈরি করা যায় তা রূপগঞ্জের কারিগররা ভালো জানেন। তাদের দইয়ের চাহিদা থাকায় ওখান থেকে অর্ডার করে নিয়ে আসি। পূর্বাচলে শতাধিক খামারীরা ওই দুধের জোগান দেয়।
পূর্বাচল হাবিননগর এলাকার আবুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক আবুল হোসেন বলেন, বগুড়ার দই মুখে মুখে থাকলেও রূপগঞ্জের দই যে একবার খাবে তার আর অন্য দই পছন্দ নাও হতে পারে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফয়সাল আহমেদ বলেন, শরীরকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে দইয়ের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এতে উপস্থিত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভাল ব্যাকটেরিয়ারা ওজন কমানোর পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে, শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দূর করতে, হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে, ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে, জ্বরের প্রকোপ কমাতে এবং প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এদিকে রূপগঞ্জের ভুলতাস্থ তাঁতবাজারের ঢাকা সুইট্স এন্ড বেকারীতে গিয়ে দেখা যায় দই উৎপাদনের মহা আয়োজন। কারখানার কারিগররা স্থানীয় গাভী থেকে আহরিত দুধকে দইয়ে রূপান্তর করতে সারি সারি মাটির পাত্র রেখেছেন। কেউ দিচ্ছেন জ্বাল, কেউ ঢালছেন দুধ, কেউবা ঢেকে দিচ্ছেন পাত্রগুলো। এভাবে দিনশেষে ৫ শতাধিক কেজি দুই উৎপাদন করছেন ওই কারখানাটি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানা মালিক আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের ঢাকা সুইটস এর স্থানীয়ভাবে ৪ টি শাখা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকান এমনকি অভিযাত খাবার হোটেলেও বিক্রির চাহিদা রয়েছে। ফলে তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গড়ে ৭০০ থেকে দেড় হাজার কেজি আমাদের নিজেদের কারখানায়ই উৎপাদন করি। অর্ডার বেশি থাকলে তখন আরো বেড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাঁটি দুধ ব্যবহার করায় এর ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।


