ফতুল্লায় নির্বাচন চায় নৌকা প্রত্যাশীরা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১৩ পিএম
দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনি সুবাতাস বইছে। ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে- এমন খবরে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি একাধিক নেতা। যদিও এই বছরই নির্বাচন হবে কিনা- তা হলফ করে বলছে না স্থানীয় সরকার বা নির্বাচন কমিশন।
তবে, ফতুল্লাবাসী মনে করছেন, যেহেতু ইউনিয়ন নিয়ে ঝুলে থাকা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে, সেহেতু নির্বাচন হওয়া নিয়ে কোন বাধা থাকার কথা নয়। তবে, স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে তদবীর করলে নির্বাচনের পথ আরো সুগম হবে বলে মনে করছেন ফতুল্লাবাসী। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ বাসিন্দারাও নির্বাচনের স্বাদ পেতে মুখিয়ে আছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত নির্বাচন না হওয়ায় ফতুল্লা ইউনিয়নে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় পরে আছে। নির্বাচন হলে গোটা ফতুল্লা এলাকার ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে উন্নয়নে রূপান্তর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। এদিকে, মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন- এমন খবরে স্থানীয়দের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন চেয়ে ফতুল্লায় নৌকা প্রতীক প্রত্যাশি একাধিক প্রার্থী আলোচনায় এসেছেন।
এই তালিকায় ইউনিয়নটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী, থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন এবং থানা আওয়ামী লীগের ১নং কার্যকরি সদস্য ও ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক অন্যতম। তারা প্রত্যেকেই নির্বাচন কামনা করে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশা করছেন। ইতিমধ্যেই তাদের কর্মী সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তাদের পক্ষে নির্বাচনি সালাম দেয়া শুরু করেছেন।
জানতে চাইলে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন বলেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। এবার নির্বাচন হতে পারে। আমি চাই যথা সময়ের মধ্যে নির্বাচন হোক। আমি স্বল্প সংখ্যক প্রতিনিধি দিয়েই ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের দাঁড়প্রান্তে সরকারের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। নাগরিক সুবিধাও শতভাগ নিশ্চিত করছি। আমাদের নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ভাই যদি আমাকে নির্বাচন করতে বলেন এবং নৌকার প্রতীক দেন, তাহলে আমি নির্বাচন করবো।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী বলেছিলেন, ‘ফতুল্লাবাসি নির্বাচন চায়। নির্বাচন হলে সাংসদ শামীম ওসমান ভাই যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করবো। ফতুল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আমাকে নির্বাচন করার জন্য উৎসাহি করছেন।’
ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম বলেন, ‘যদি নির্বাচন হয়, দল থেকে যদি আমার নেতা একেএম শামীম ওসমান সাহেব, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্যান্য নেতারা মিলে আমাকে সিলেক্ট করে এবং নৌকার প্রতীক যদি দেয়া হয়, তাহলে সবাইকে নিয়েই আমি নির্বাচন করবো এবং জনগণের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। গতবার হওয়ার কথা ছিলো তা হয়নি। এই বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, নির্বাচন কমিশন থেকে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়ে কোন নির্দেশনা আসেনি। আমি ফতুল্লার একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে দাবি জানাই, এই বছরই যেন নির্বাচনটা দেয়া হয়। কারণ ফতুল্লার মানুষ নির্বাচন থেকে বঞ্চিত। এর ফলে উন্নয়ন থেকেও বঞ্চিত। নির্বাচন হলে গণতন্ত্র ঠিক থাকে, এলাকায় উন্নয়ন হয়, মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিকঠাক হবে যদি নির্বাচিত চেয়ারম্যান থাকে।’
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন বলেন, ‘ফতুল্লার মানুষ নির্বাচন চায়। নির্বাচন যদি হয়, তাহলে আমার ইচ্ছা আছে আওয়ামী লীগের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার। আমি আমাদের নেতা একেএম শামীম ওসমান ভাইয়ের কাছে দলের মনোনয়ন চাইবো। তিনি যদি আমাকে নৌকার প্রতীক দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করবো।’
থানা আওয়ামী লীগের ১নং কার্যকরি সদস্য আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, ‘ফতুল্লায় সবশেষ ১৯৯৩ সালে নির্বাচন হয়েছিলো। এরপর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের মামলার কারণে হয়নি। যেহেতু মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, সেহেতু জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া উচিৎ এবং হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নিক। আর নির্বাচন হলে আমি দলের মনোনয়ন চাইবো। যদি আমাদের নেতা একেএম শামীম ওসমান ভাই আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।’


