আধিপত্য বিস্তারে ছাত্রলীগ নেতার হামলা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৯ পিএম
ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে পার্থ নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সিনহা। গতকাল দিনে দুপুরে ফতুল্লার পিলকুনি হিন্দুপট্টি এলাকায় আহতের নিজ বাসায় প্রবেশ করে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতা সিনহা ও তার সহযোগিরা। তা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, হামলার শিকার পার্থকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত পার্থ। তিনি দাপা ইদ্রাকপুরের পিলকুনি হিন্দুপট্টি এলাকার শংকর চন্দ্র দাসের ছেলে।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা সিনহাসহ ও ওই হামলার সাথে জড়িত অভিযোগে তার ভাই কথিত ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন শুভ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে আহত পার্থ উল্লেখ করেন, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনহা তার ভাই শুভ এবং তাদের সহযোগি অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পার্থর বাড়িতে প্রবেশ করে তার উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগ নেতা সিনহা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পার্থকে কুপিয়ে মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পার্থর স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকেও আহত করা সহ স্বর্নালংকার লুটে নেয় বলে অভিযোগ আনা হয়।
জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা সিনহা পিলকুনি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। মোবারক হোসেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং বর্তমান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। মূলত, আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন, তার ছেলে সিনহা এবং ভাগিনা শুব এলাকায় আধিপত্ত বিস্তার করতে প্রায় সময়ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে সিনহা ও শুভর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
তাছাড়া, এলাকায় কিশোরগ্যাং লালন পালনেরও অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেতা সিনহা এবং শুভর বিরুদ্ধে। এদিকে, সিনহা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হলেও ইমরান হোসেন শুভ ছাত্রলীগের কোন পদ-পদবীতে না থেকেও নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিয় দিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমরান হোসেন শুভ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতে পার্থ আমাদের দুই ছোট ভাইকে মারধর করেছিলো। ওই ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। ওই ঘটনা সম্পর্কিত এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। শত্রুতা বশতঃ আমাকে আসামী করা হয়েছে।’
ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার অভিযোগ অস্বীকার করে শুভ বলেন, ‘আমরা স্টুডেন্ট। আমরা ছাত্রলীগ পরিচয় দেই না। আর আমাদের এলাকায় আধিপত্ত বিস্তারের প্রয়োজন নেই। আমরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের। অনেকই হয়তো আমাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তুলে ধরে। তবে, আমি ১০ বছর যাবৎ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আছি। এই পরিচয়ে আধিপত্ত বিস্তারের জন্য কিছুই করিনি। এলাকায় কেউ খারাপ কাজ করলে আমরা বাধা দেই।’
এদিকে, অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশিক ইমরান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


