নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা করে নিজেদের অবস্থান তৈরী করছেন। সেই সাথে মাঠে ময়দানে হাটে বাজারে গিয়ে ভোটারদের মনজয়ের চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ ফেস্টুন ব্যানার টানিয়ে নির্বাচনী সালাম দিচ্ছে।
অন্যান্য ইউনিয়নের মত সদর উপজেলার কাশিপুর ও আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদল ও সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন শিকদার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুন টানিয়েছে। অপর দিকে আলীরটেক নৌকা পাওয়ার জন্য তিন প্রার্থী লড়াই করছে। দুই প্রার্থী মাঠে না থাকলেও নতুন মুখ চেয়ারম্যান প্রার্থী সায়েম আহম্মেদ সভা সমাবেশ করে অনেকটা মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ২০১৬ সনের নির্বাচনে একে অপরকে ছাড় দিলেও এবার কেউই ছাড় দিবেনা বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলীরটেক ইউনিয়ন থেকে এবার বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং তরুণ চেয়ারম্যান প্রার্থী সায়েম আহম্মেদ নির্বাচন করবে। অপরদিকে তার পার্শবর্তী ইউনিয়ন কাশিপুরে নির্বাচন করবে সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন সিকদার ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল। তারা প্রত্যেকেই নৌকার মধু আহরণ করতে চায়। অর্থাৎ নৌকা পেতে চায়। কিন্তু নৌকা মার্কা নামক প্রতীক সোনার হরিণ কার ভাগ্যে আছে তা এখনো কেউই জানে না। তা পাওয়ার জন্য তারা সবাই নিজদের মত করে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সবাই এক গুরুর দরবারের আর্শীবাদের অপেক্ষায় আছে বলে জানা যায়। গুরু কাকে আর্শীবাদ করে সেই অপেক্ষা আছেন তারা। কেননা গুরুর আর্শীবাদ পেলেই তাদের চেয়ারম্যান হওয়ার ধাপটি অনেকটা নিশ্চিত।
এদিকে ২০১৬ সনের নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমানের কথায় কাশিপুরের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদলকে সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন সিকদার ছাড় দেয়। গত বারের নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান মোমেন সিকদারকে বাদল চেয়ারম্যান ছাড় দিতে বলে। তার কথায় তিনি সরে যান। তখন তিনি ২০২১ এর নির্বাচনের জন্য সাবেক চেয়ারম্যানকে প্রস্তুতি নিতে বলেন। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতিও তাতে সম্মতি প্রকাশ করে বলে জানা যায়। কিন্ত এবার নির্বাচনে বাদল চেয়ারম্যান তার কথায় নেই।
তিনিও নির্বাচন করতে চান। তাও আবার গতবারের মত অটো পাশে চেয়ারম্যান হতে চান। তাই এবার মোমিন সিকদারও তাকে ছাড় দিবে না বলে জানা যায়। তিনি তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ইতি মধ্যে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এবার মোমেন সিকদার শক্ত অবস্থানে আছেন বলে জানান এলাকাবাসী। অপরদিকে বাদল চেয়ারম্যানকেও ওই ইউনিয়নের হেভিওয়েট প্রার্থী মনে করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে আলীরটেক ইউনিয়নে তিন প্রার্থী মাঠে আছেন। তারাও নিজেদের মত করে দৌড়ঝাঁপ করছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের সমর্থিত প্রার্থী মতিউর রহমান মতি, আরেক প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের খুব কাছের ব্যক্তি সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, সেই সাথে এলাকায় জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে আছেন তিনি। ২০১১ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জাকিরের কাছে মতির ভরাডুবি হয়েছে। আরেক প্রার্থী সায়েম আহম্মেদও এবার ঢাকঢোল বাজিয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন।
ইতিমধ্যে আলীরটেকের মাঠ তিনি গরম করে রেখেছেন। নির্বাচনের দাবী জানিয়ে বিশাল শোডাউন করেছেন। তার দাবীর সাথে ওই এলাকার মানুষও একমত পোষণ করেছেন। গত নির্বাচনে অদৃশ্য কারণে জাকির এবং সায়েম সরে দাঁড়ালেও এবার আর তা হবে না। এবার কেউ মাঠে থাকুক আর না থাকুক সায়েম মাঠে থাকবে বলে জানা যায়। এবং তিনি নির্বাচন করবেন। ফলাফল যাই হয় তা তিনি মেনে নিবেন। কিন্তু কেউ কাউকে এবার আর ছাড় দিবে না বলে জানান একটি সুত্র। সব কিছু ঠিক থাকলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৯ তারিখ ২য় ধাপের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তখন কি পরিবর্তন হয় তার অপেক্ষায় আছে ভোটাররা।


