Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবায় জিম্মি রোগী, অতিরিক্ত অর্থ আদায়

Icon

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫৪ পিএম

সোনারগাঁয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবায় জিম্মি রোগী, অতিরিক্ত অর্থ আদায়
Swapno

বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন এই সময়ে সরকারী সেবার পাশাপাশি দেশের অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় নানাভাবে মানব সেবায় নিয়োজিত। আবার কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সাধারণ মানুষকে সেবার নামে জিম্মি করে করোনাকালীন এই সময়ে সেবার নামে চালাচ্ছে অর্থ বাণিজ্য। কথায় বলে মানব সেবা পরম ধর্ম। 

 

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিরলস ভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গরীব, অসহায় মানুষের কল্যানে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছেন। এছাড়া অনেক সামাজিক সংগঠন অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেই মানব সেবাকে অবলম্বন করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি।

 

যারা কিনা হাসপাতালে আসা মূমুর্ষ রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি এসব অ্যাম্বুলেন্স সেবার মালিক ও চালকরা মানব সেবার নামে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে অসাধু এসব মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অনেক রোগীর স্বজনরা জানান, বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা মুমূর্ষু রোগীদের জিম্মি করে নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরী করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। 

 

যার ফলে অনেক গরীব ও অসহায় রোগী অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অর্থের অভাবে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা না পেয়ে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করছে। সোনারগাঁ উপজেলা হাসপাতালে আসা রোগীদের অভিযোগ, সরকারী ভাবে যে অ্যাম্বুলেন্সটি রয়েছে সেটি কোন দিনও রোগীদের প্রয়োজনে ব্যবহার হয়না। কখনো গাড়ী খারাপ থাকে আবার কখনো চালক খুঁজে পাওয়া যায় না। চালকের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করলে প্রায় সময় বন্ধ থাকে। ফোনে পাওয়া গেলে চালক বলেন তিনি জরুরী কাজে বাহিরে আছেন বলে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কেন তিনি এতসব তালবাহানা করেন তা হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলতে পারেন না। 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ৫ বছর আগে একটি বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৭টি বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। আগে রোগীরা ইচ্ছে মতো দামাদামি করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতো এখন সেটা পারে না। এখন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা নিজেদের স্বার্থের জন্য সিন্ডিকেট করে সিরিয়াল মোতাবেক অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকেন। সে জন্য সিরিয়াল পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রোগীকে জিম্মি করে তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা নিয়ে রোগীকে সেবা প্রদান করেন, নয়তো অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ। 

 

রোগীরা ইচ্ছা করলেও বাহির থেকে কিংবা অন্য অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেন না। এতে বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। গত কয়েকদিন পূর্বে বিষপান পান করা এক নারী রোগীকে সোনারগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। তখন রোগীর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স নিতে গেলে চালক ৩ হাজার টাকার কম ভাড়া হলে রোগী নিয়ে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। 

 

অন্য অ্যাম্বুলেন্সের চালকের নিকট গেলে চালক বলেন, আমাদের সিরিয়াল অনুযায়ী রোগী নিয়ে যেতে হয়। সিরিয়াল ছাড়া রোগী নিয়ে যাওয়া মালিকদের মানা। যার ফলে গরীর অসহায় রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে রোগীকে সিএনজি অথবা অটোরিকশায় করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা জানান, আগে কোন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিতে আসলে কে কতো কম ভাড়ায় যাবে তা নিয়ে ঝগড়া হতো। এতে রোগীরা কম ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স পেলেও বেশী লাভ হতো না অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের। তাই মালিকরা একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে তাদের ইচ্ছে মোতাবেক ভাড়া নির্ধারণ করে সিরিয়ালের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে। এতে তারা অনেক লাভবান হচ্ছেন।


এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার সাহা জানান, ‘আমি যখন হাসপাতালে থাকি তখন কোন বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেইনা। আমি চলে আসলে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। এসব অ্যাম্বুলেন্সগুলো অতিরিক্ত ভাড়ায় চলে সে ব্যাপারে অনেকে আমাকে অভিযোগ করেছে। করোনা শুরু হওয়ার পর আমাদের অ্যাম্বুলেন্স করোনা রোগীদের নমুনা আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় তারা এ সুযোগটি গ্রহণ করছে। যা কোন মানুষের জন্য কাম্য নয়। সেবা তো সেবাই, সেবার নামে যারা রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না।’ 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন