Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মতির গতিতে চোখ অপর দুই প্রার্থীর

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৪ পিএম

মতির গতিতে চোখ অপর দুই প্রার্থীর
Swapno

আলীরটেক ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির উত্থান বিএনপির রাজনীতি থেকেই বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ২০১৬ সনে  জেলার একজন শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধির আশির্বাদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে বিনা ভোটে মতিউর রহমান মতি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তাকে আগে কখনোই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে দেখেনি এলাকাবাসী।

 

তার জীবনের রাজনীতি শুরু হয়েছে বিএনপি দিয়ে। পরে তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন ওই দলে ভীড়ে নিজেও তাদের দলের কর্মী হয়ে যান। তিনি এক এক সময় এক এমপির আশীর্বাদে চেয়ারম্যান হয়ে যান। কিন্তু তিনি আসলে প্রকৃত ভাবে কোন দল করেন তা তার সমর্থকরাও অনেকে জানে না।

 


আলীরটেকের প্রবীন রাজনীতিবিদরা জানান, এই মতিউর রহমান মতি ডিক্রিরচরে প্রয়াত বিএনপি নেতা আইস আলী মাদবরের বাড়ীতে থেকে বড় হন। ওই ইউনিয়নে তার নামে কোন জায়গা বা জমি নেই। ওই এলাকায় তার কোন বাড়িঘর নেই। মতিউর রহমান মতি নব্বই দশকের শুরুর দিকে বিএনপির আমলে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন নারায়ণগঞ্জের বিএনপির এমপির আশীর্বাদ নিয়ে তিনি জনপ্রতিনিধি হন।

 

পরে নব্বইর দশকের মাঝামাঝিতে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আলীরটেকে মতি আওয়ামীলীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে গিয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনে মাঠে কাজ করেন। ওই নির্বাচনে একজন শিল্পপতির নির্দেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিলেন মতিউর রহমান মতি। ওই সময় কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম এমপি শামীম ওসমানের কাছে পরাজিত হন। তৎকালিন সময়ে আলীরটেক ইউপি ৪ আসনের অর্ন্তভূক্ত ছিলো।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে মতিউর রহমান মতি যখন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তখন তাকে সবাই বিএনপি সমর্থক হিসেবেই জানতো। পরে ম্যানেজে পটু মতি শামীম ওসমানকে ম্যানেজ করে ৯৬ পরের নির্বাচনে বিনাভোটে চেয়ারম্যান হন। তখন তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগের কর্মী পরিচয় দিতেন বলে জানান এলাকাবাসি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মতির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছিল মেম্বাররা। পরে ওই শিল্পপতিকে দিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে ম্যানেজ করে আবারও বিএনপি সমর্থক বনে যান মতি।

 

একই সাথে ২০০১ সনের পরে আলীরটেক ইউপি নির্বাচনে এমপি গিয়াসকে ম্যানেজ করে আবারও বিনাভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচনে  ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে জাতীয় পার্টির এমপি নাসিম ওসমানকে ম্যানেজ করেন মতি। ম্যানেজ পটু মতিকে আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতিতে কখনোই সক্রিয় দেখা যায়নি। আলীরটেকে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ইউপি চেয়ারম্যান থাকলেও উল্লেখযোগ্য তেমন কোন উন্নয়ন করেননি মতি এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। যেকারণে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার বিপক্ষের প্রার্থী জাকিরের সাথে ভরাডুবি ঘটে মতির। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 


এদিকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কখনোই সক্রিয় না থাকলেও একজন জাতীয়পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকে ভগ্নিপতি সম্বোধন করে ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মতি। এবারও একই কায়দায় ম্যাকানিজমে নেমেছেন বলে জানাযায়। সেই পুরোনো কায়দায় আবারও অটোপাশে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন ৩ বারের বিনাভোটের জনপ্রতিনিধি মতি। তার এই কর্মকান্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, আসলে তিনি কোন দলের রাজনীতি করেন। তার চরিত্রের সাথে সুবিদাবাদির কাজের সাথে মিল আছে। অর্থাৎ পানির মত। পানিকে যে পাত্রে রাখা হয় তখন তা ওই পাত্রের আকার ধারণ করে। তিনি অনেকটাই ওই রকম। যখন যে এমপি আসে তাকে তিনি ম্যানেজ করে ফেলেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে বহুরুপি মতির গতি এবার কোন দিকে।

 


অন্যদিকে আলীরটেক ইউপির এই জনপ্রতিনিধিকে অনেকে খয়রাতি চেয়ারম্যান বলে আখ্যায়িত করেছে। ২০১১ সনের নির্বাচনে তার ভরাডুবি হওয়ার পর মতির জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায় নেমে যায়। তার পাশে কিছ গৃহপালিত ব্যক্তি ছাড়া কোন লোক পাওয়া যায়না বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। আলীরটেকের ইউপি নির্বাচনের আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী সায়েম গত কয়েকদিন আগে এক সভায় বলেন, মতিউর রহমান গতবার আমার কাছে ভিক্ষা চেয়ে চেয়ারম্যান হন। তখন তিনি বলেছিলেন ২০২১ সনের নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হবেন না। কিন্তু এবারও গতবারের মত একই কায়দায় নেমেছে। তিনি ওয়াদা ভঙ্গকারী। তবে আমরা তাকে এবার অটোপাশে চেয়ারম্যান হতে দিবো না। আমার এই কথার সাথে আলীরটেকবাসিও একমত প্রকাশ করেন। এবার ওই এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণ আলীরটেকের উন্নয়ন চায়।

 


আলীরটেক তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানান, দল ক্ষমতায় থাকলেও নব্য এসকল হাইব্রীড আওয়ামীলীগ নেতাদের দাপটে কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন আলীরটেক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টির টিকেটে নির্বাচিত হওয়ায় তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেরকে জনপ্রতিনিধিরা চেনেন না বলেই চলে। একই সাথে এমপির কাছে তাদের মূল্যায়নও নেই। এমপি চেনেন শুধু নব্য আওয়ামীলীগ নেতা ও চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতিকে।

 

আর এ সুযোগে মতিউর রহমান মতিও তার অনুগামীদের দিয়ে বিভিন্ন সেক্টর নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিয়েছেন। তা ধরে রাখার জন্য এবারও তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান হতে চান বলে একটি সূত্র জানায়। কিন্তু এই নৌকার প্রতীক পাওয়ার জন্য তার বিপরীতে জাকির হোসেন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কার ভাগ্যে এই নৌকা প্রতীক নামক সোনার হরিন আছে তা দেখার অপেক্ষায় আছে স্থানীয়রা। আলীরটেক বাসির একটাই দাবী তারা ভোট দিতে চান। ভোটের লড়াইয়ে যে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে তাকে তারা স্বাগত জানাবে। বিনাভোটের খয়রাতি চেয়ারম্যান তারা আর চান না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন