Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রূপগঞ্জে উৎপাত বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩০ পিএম

রূপগঞ্জে উৎপাত বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের
Swapno

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। বিশেষ করে ফাঁকা রাস্তা ও বাজার এলাকাগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেশি। দিনে বিচরণ কম চোখে পড়লেও বিকেল গড়াতেই বাড়ছে সংখ্যা।

 

কুকুরের চিৎকার আর চেঁচামেচিতে ভাঙছে রাতের নিস্তদ্ধতা আর অতিষ্ট হয়ে উঠছে জনজীবন। এসব কুকুরের কামড় ও আচড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সম্প্রতি উপজেলার ভূলতা গাউছিয়া, তারাবো, গোলাকান্দাইল ও ভোলাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুকুরের উৎপাত দেখা গেছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তারা। একদিকে কামড়ানোর আশঙ্কা অন্যদিকে খাবার নষ্ট করাসহ রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ কুকুর দলের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড়ে সংক্রমণ, টিটেনাস রোগের আশঙ্কা থাকে। শিশুদের নাক-মুখে কুকুর কামড়ালে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই তারা মারা যায়। র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর বা চিকার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। আমাদের দেশে মূলত কুকুরের কামড়ে বা আঁচড়ে (রক্ত বের না হলেও) জলাতঙ্ক রোগ বেশি হয়।

 

তাদের মতে, শরীরের কোন অংশে কামড় বা আঁচড় দিয়েছে, তার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কতদিনে জলাতঙ্ক দেখা দেবে। সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে তিন মাসের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। শরীরের নিচের অংশে কামড় বা আঁচড় দিলে এবং এর মাত্রা কম হলে সাত বছর সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে মানুষ সাধারণত বাঁচে না। ‘আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করে। ক্ষত স্থানে ব্যথা হয়, জ্বালাপোড়া করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঢোক গিলতে গলায় ব্যথা লাগে। জ্বরও হতে পারে। খিঁচুনিও হতে পারে। মুখ দিয়ে লালা ঝরে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ইচ্ছা থাকলেও পানি খেতে পারে না। বাতাস সহ্য করতে পারে না। মৃত্যুর আগে আলো দেখলে ভয় পায়। আবার পা থেকে শুরু করে পুরো শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে’।

 

আক্রান্ত কুকুর চেনার উপায় হলো: র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুর যেখানে যা পায়, কামড়ানোর চেষ্টা করে। উদ্দেশ্যহীনভাবে ছুটে বেড়ায়। মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে। সারাক্ষণ ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। খাবার দিলেও খেতে পারে না।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিসার ডাঃ লুৎফুন্নাহার বেগম জানান, জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে কুকুরকে জলাতঙ্ক টিকা প্রদান করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন জনস্বাস্থ্য নিয়েই ভাবতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর ক্ষতস্থানে ক্ষারযুক্ত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ধুয়ে নিতে হবে এবং র‌্যাবিস ভাইরাসের টিকা নিতে হবে। কুকুরের কামড়ে জখমের ধরণ অনুযায়ী এন্টি র‌্যাভিস ভ্যাকসিন (এআরভি) ও ইআরআইজি নামের দুটি ভ্যাকসিন শরীরে দিতে হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন