# কায়েতপাড়ায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে আনারস মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজান
# অলিতেগলিতে রব উঠেছে আনারস মার্কার, জয়গানের আগাম সুর
# উপযুক্ত প্রার্থী না দেয়ায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নেই স্থানীয় আ’লীগ
# ভোটারদের ভালোবাসা দেখে অনেকে ইর্শ্বান্বিত : মিজানুর রহমান
# কায়েতপাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত থাকবে : রফিক চেয়ারম্যান
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নেরই সন্তান মিজানুর রহমান। ইউনিয়নবাসীর কাছে তিনি এখন আশা-ভরসা এবং আস্থার প্রতীক। এমন আস্থার কারণেই জনগণের সমর্থনে তিনি কায়েতপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে কায়েতপাড়াবাসীর গণজোয়ার দেখা গেছে। গতকাল দিনব্যাপী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন কায়েতপাড়ার বিভিন্ন গ্রামে। প্রচার-প্রচারণা বা গণসংযোগ করছেন এলাকাবাসীকে সাথে নিয়েই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমানকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন ভোটাররা। তাঁকে একনজর দেখার জন্য ভীর করছেন শিশু থেকে শুরু করে হাড় কাপুনে বৃদ্ধরাও। কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ বা কে খ্রিস্টান; চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমানের কাছেও কোন সম্প্রদায়, বর্ন বা শ্রেণি ভেদাভেদ নেই। তিনিও পরম ভালোবাসায় সবাইকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে তার নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমানের পক্ষে আনারস মার্কায় ভোটও চাইছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার অলিগলিতে রব উঠেছে আনারস মার্কার। মিজানুর রহমানের বিজয়ের আগাম জয়গান গাইছেন ভোটাররা। কায়েতপাড়ায় নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকসহ সর্বমোট চারজন প্রার্থী থাকলেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান। এমনটাই বলছেন কায়েতপাড়ার ভোটাররা।
জানা গেছে, মিজানুর রহমানের বড় ভাই রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তার জনপ্রিয়তা অপরিসীম। কায়েতপাড়াবাসীর মুখে মুখে রফিক চেয়ারম্যানের নাম এবং গুনকীর্তন চলমান। কেননা, বিগত পাঁচটি বছর রফিক চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের মানুষদের জন্য নিজেকে উজার করে দিয়েছেন। সুখে দুঃখে মানুষের পাশে থেকেছেন, এখনো আছেন। ইউনিয়নবাসীর প্রতিটি উৎসবের অংশ হয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কায়েতপাড়ার প্রতিটি অলিগলির সড়ক এই রফিক চেয়ারম্যানের ছোঁয়ায় উন্নত। তিনি এলাকার মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এবার তিনি নির্বাচন করছেন না।
তবে, ইউনিয়নবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মানুষের সেবায় তিনি তার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তার ছোট ভাই মো. মিজানুর রহমানকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছেন। তাইতো এলাকার সাধারণ মানুষও আনারস প্রতীক পাওয়া মিজানুর রহমানের জয়গানের আগাম সুর ধরেছেন।
এদিকে, মিজানুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তার পক্ষেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে জাহেদ আলী নৌকা প্রতীক পেলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, কায়েতপাড়ায় নৌকার মাঝি হিসেবে জাহেদ আলী যোগ্য নয়। তার প্রতি স্থানীয় ভোটারদের আস্থা নেই। তাই এলাকাবাসীর বৃহৎ স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বর্তমান সফল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমানের আনারস মার্কার প্রতিই আস্থা রেখেছেন। গতকালের দিনব্যাপী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা দৈনিক যুগের চিন্তাকে এমন অভিব্যক্তিই প্রকাশ করেছেন। গতকাল দিনব্যাপী গণসংযোগের মধ্যে নগরপাড়া, পশ্চিমগাঁও, নাউরা, কায়েতপাড়া, ইছাখালী, ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা, ইছাখালি, বরুনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন মিজানুর রহমান।
এসব উঠান বৈঠকে মিজানুর রহমান বলেন, আমার ভাই রফিকুল ইসলাম আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছে। তিনি ব্যস্ততার কারণে এবার নির্বাচন না করলেও আপনাদের কথা ভেবে আমাকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছে। আপনারা আমারপ্রতি যেই ভালোবাসা দেখিয়েছেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার ভাইয়ের ন্যায় সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসা দেখে অনেকে ইর্শ্বান্বিত। তারা একজন মন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে হামলা-মামলা চালিয়ে আপনাদের ভীত করতে চাইছে। তারা চাইছে, এই জনপদকে আবারও সেই জাহেলি যুগের বর্বরতা প্রতিষ্ঠা করতে। তারা সন্ত্রাস ও মাদকের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু আমরা শান্তি চাই। তাই আপনাদের সমর্থন নিয়েই এই সন্ত্রাসবাদকে রুখে দিব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ে তারা বড় আওয়ামী লীগার নন। আমাদের পাশে যারা আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য অংগ সংগঠনের নেতারা আছেন, সেই পরিমান আওয়ামী লীগার বর্তমানে ওই নৌকার প্রার্থীর পাশেও নেই। কিন্তু একজন মন্ত্রী সাহেব আমাদের দাবিয়ে রাখতে যাকে নৌকার মাঝি বানিয়েছেন, তিনি যোগ্য ব্যক্তি নয় বলেই আপনাদের সমর্থনে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তাই, আপনারা যদি উন্নয়ন চান, শান্তি চান, তাহলে ১১ তারিখে আনারস মার্কায় ভোট দিবেন বলে আমি আশাবাদি।’
এদিকে, মিজানুর রহমানের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ছিলেন তার বড় ভাই এবং বর্তমান সফল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘১১ তারিখ নির্বাচন হবে। নির্বাচনে আপনারা আনারস মার্কায় ভোট দিবেন। যারা মুখে অনেক বড় বড় কথা বলে, যারা মিথ্যা কথা বলে তাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, নৌকা এখনো আমার। নৌকার মাঝি এখনো আমি। আগামীতেও এখানে নৌকা থাকবে, কেবল মাঝিটা বদলাবে। নৌকার মাঝিটা বদলে আমরা ইনশাআল্লাহ সোনার নৌকা উপহার দিবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই আমার কায়েতপাড়া, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত সমাজ থাকবে। আপনারা জানেন যে লোকটা আমার ভাইয়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে, সে অতীতে আরো তিনবার নির্বাচন করেছে। প্রতিবারই হেরেছে। আল্লাহর রহমতে হ্যাটট্রিক, ফাস্ট ডিভিশনে ফেল। তারপরে তার কাজ কি, এবারো সে চতুর্থবার দাঁড়িয়েছে। ইনশাআল্লাহ এবার আপনারা তাকে এক হালি পূরণ করাবেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বাশার টুকু, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আউয়াল, সিনিয়র সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম, সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন, রূপগঞ্জ থানা যুবদলের সহ-সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর ভূইয়া, আলতাফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজউদ্দিন আহমেদ, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান বাদল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার প্রমুখ।


