Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় জাহেদ আলীর বিরুদ্ধে চার অভিযোগ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১২:১১ এএম

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় জাহেদ আলীর বিরুদ্ধে চার অভিযোগ
Swapno

# মন্ত্রীপুত্রের সমর্থনে বেপরোয়া জাহেদ আলী, নষ্ট হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ


# আ’লীগ নেতার বাড়িতে স্বশস্ত্র হামলা, তুলে নেয়ার চারঘন্টা পর মুক্তি


# চনপাড়ার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে চালানো হয় হামলা, এলাকায় আতঙ্ক


# থানা ও নির্বাচন অফিসে পৃথক চার অভিযোগ, মাঠে তৎপর প্রশাসন


 
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান। তবে, সেই জনপ্রিয়তায় ইর্শ্বান্বিত হয়ে রূপগঞ্জেরই প্রভাবশালী একটি মহলের সমর্থনে নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে মিজানুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ আলী।

 

নির্বাচনী আচরণবিধিও লঙ্ঘন করছে জাহেদ আলী এবং তার কর্মী সমর্থকরা। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছে তারা। চালানো হচ্ছে সন্ত্রাসী হামলা। এসব হামলায় ব্যবহার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অভিযোগ এনে গতকাল রূপগঞ্জ থানায় পৃথক তিনটি এবং নির্বাচন অফিস কার্যালয়ে আরো একটি সহ মোট চার চারটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে জাহেদ আলী এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।  

 


এসব অভিযোগের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা না হলেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তবে, ওই ঘটনায় মামলা রুজুর মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আহতরা।
এদিকে, কায়েতপাড়াবাসির অভিযোগ, এক মন্ত্রীপুত্রের আস্কারায় জাহেদ আলী ও তার কর্মী সমর্থকরা অশান্ত করতে চাইছে কায়েতপাড়া ইউনিয়নকে। তারা আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমানের প্রচার-প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষে স্বশস্ত্র অবস্থায় এলাকায় মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।  

 


এদিকে, স্বতন্ত্রপ্রার্থী মিজানুর রহমানের দিকে গণজোয়ার থাকায় তাঁকে ঠেকাতে সন্ত্রাসী হামলা সহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে জাহেদ আলী। এর প্রেক্ষিতে জাহেদ আলী ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচন অফিস সহ রূপগঞ্জ থানায় পৃথক চারটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে গতকাল। এসব অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত করা হয় জাহেদ আলীকে। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে জাহেদ আলীর নেতৃত্বে বহিরাগত একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী স্বতন্ত্রপ্রার্থী মিজানুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে রক্তাক্ত করে। একই সাথে প্রায় ২৫টির মত ইজিবাইক ও সিএনজি ভাংচুর চালায়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 


ওই ঘটনা সহ পূর্বের এমন কয়েকটি হামলার ঘটনার সূত্র ধরে গতকাল রূপগঞ্জ থানায় তিনটি এবং নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে একটিসহ মোট চারটি অভিযোগ দায়ের করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান, হামলার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা টুকু এবং ছাত্রলীগ নেতা তুষার। এর মধ্যে প্রচার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগে নির্বাচন অফিস এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান, পিটিয়ে এবং কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা তুষার এবং বাড়িতে হামলা ও অপহরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা টুকু বাদী হয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

 


জাহেদ আলী ও তার কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, বিগত ২৭ অক্টোবর প্রতিক বরাদ্দ হবার পর থেকে একই ইউনিয়নে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ আলী প্রতিদিন আমার প্রচারনায় বাধা প্রদান করছে। তিনি নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রবেশ করিয়ে এ পর্যন্ত দফায় দফায় সাধারন মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাটসহ জনগণের জানমালের ক্ষতি করেছে। আচরণবিধি লঙ্গন জেনেও তিনি শত শত মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া করিয়ে ভোটারদের আতংকিত করছে। জনসভা করছেন।

 

তাছাড়া পথসভা উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানীমূলক বক্তব্য ও পোষ্ট করে লোকজনকে উত্তপ্ত করে তুলছেন। গত ২৬ অক্টোবর জাহেদ আলীর নেতৃত্বে চনপাড়া গ্রামের আমার কর্মী সেলিম রেজার বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। গত ২৭ অক্টোবর জাহেদ আলী ও তার লোকজন নাওড়া গ্রামে প্রবেশ করে এলাকার বহু মানুষের বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তারা ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে। গত ৩১ অক্টোবর পশ্চিমগাঁও এলাকায় আমার নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্ধোধন করার সময় হাজার হাজার বহিরাগত লোক জাহেদ আলীর নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত হয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করে। এ সময় তারা ২০/৩০ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে এবং ২৫/৩০ টি গাড়ি ভাংচুর করে।

 

একই দিন আমি সেখান থেকে চলে আসার পর আমার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ও রূপগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকুর বাড়ির গেইট ভেঙ্গে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরন করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তার বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ৩০/৪০ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে। চার ঘন্টা পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়। বর্তমানে আমি প্রচারণার কাজে মারাত্মকভাবে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছি।

 


এদিকে, এসব ঘটনায় থানায় মামলা না হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উর্ধ্বত্বন কর্মকর্তারা কায়েতপাড়ার চনপাড়া এলাকা পরিদর্শন করে। অভিযোগ উঠেছে, এক মন্ত্রীপুত্রের সমর্থনে ওই চনপাড়া থেকেই একদল সন্ত্রাসী এমন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলো।
জানা গেছে, আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই। তিনি ব্যস্ততার কারণে এবার নির্বাচনে অংশ না নিলেও কায়েতপাড়ার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তার ছোট ভাই মিজানুর রহমান নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার অহবান জানিয়েছেন।  



 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন