কুতুবপুরে জনমত জরিপে ভোট যুদ্ধে এগিয়ে যারা
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪৬ পিএম
সদর উপজেলার অন্যতম জনবহুল ইউনিয়ন কুতুবপুর। এ ইউনিয়নে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিনাভোটে চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের ভোটের আমেজ অনেকটায় কমে গেলেও ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মেম্বার প্রার্থীরা। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইউপির অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত সময় দিচ্ছেন। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের আদর্শের বয়ানসহ ইউনিয়নে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, কুতুবপুর ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা দলবেঁধে প্রচার প্রচারণায় নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে তুলছেন। তারা অটোরিকশা, ইজিবাইক, ও রিকশায় মাইক বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৬২ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করছেন। এরমধ্যে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ৬২ জন মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন, জিএম আমিন হোসেন সাগর, মোস্তফা, আল মামুন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম মাতবর, শাহ মোঃ আফানুর সুইট, নাসির প্রধান, জাহাঙ্গীর আলম, আলাউদ্দিন হাওলাদার, নজরুল ইসলাম টিপু, হাজী রোকন উদ্দিন রোকন, মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, জাহাঙ্গীর আলম, বক্কর মিয়া, শেখ মোঃ ইমান আলী, বি এম কামরুজ্জামান আবুল, হান্নানুর রফিক রঞ্জু, রাজা মিয়া।
সংরক্ষিত নারী আসনের মেম্বার পদপ্রার্থী রাশেদা বেগম, অনামিকা হক প্রিয়াঙ্কা, রুবিনা আক্তার, আরজুদা বেগম খুকি ভোট যোদ্ধে এগিয়ে রয়েছেন। জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকলেও প্রার্থীরা মাঠে-ঘাটে কোমর বেঁধে অবিরাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসার সাথে ওয়ার্ডগুলোর বাজার, অলি-গলি, চায়ের দোকান, হোটেল, বিভিন্ন স্থাপনা ও বসত বাড়ির সামনে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরা সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যান্য প্রার্থীরাও বলেন জনগণের ইচ্ছাতেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।
তাই জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয় করবেন এ কামনা করছেন তারা। এদিকে নারী প্রার্থীদের সাথে মাঠে নেমেছেন স্বামী সন্তানরাও। তেমনি পুরুষ প্রার্থীদের সাথেও স্ত্রী সন্তানরা বসে নেই। সবার আশা ভোট যুদ্ধে জিততেই হবে। তবে সাধারণ ভোটাররা ভোট দেয়ার ব্যাপারে কোনও প্রার্থীকেই নিরাস করছেন না। প্রার্থীরা ব্যবসায়ী ভোটারদের দোকানে গিয়েও ভোট প্রার্থনা করছেন। শুধু তাই নয় মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের কাছেও যাচ্ছেন ভোটের আশায়। দিচ্ছেন নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি। আবুল কাশেম নামে এক ভোটার জানান, ভোট আসলে প্রার্থীদের আনা-গোনার কমতি থাকে না। ভোট শেষ হলেই তাদের দেখা পাওয়া যায় না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়ে, সে মোতাবেক কাজ করে না। তারা নির্বাচনের পর সব ভুলে যান।
ভোটার ইদ্রিস আলী জানান, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোতে তেমন কোন উন্নয়ন হয় না। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন ভোটার বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় ক্ষমতার জুড়ে অনেক প্রার্থীদের নির্বাচনীয় প্রচার প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর এই নির্বাচনে আচরণ বিধি নিষেধ কেউ মানছেন না। ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনীয় ক্যাম্প থাকার কথা থাকলেও একাধিক প্রার্থী বিশটিরও অধিক ক্যাম্প বসিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকেই আবার নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী না থাকার কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকার কথাও জানিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সরকার নিরপেক্ষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু-সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ সুন্দর করতে চাই। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে।


