দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার খবরে ফতুল্লাবাসীর মনে আশার আলো ফুটে উঠেছে।
এই ইউনিয়নেআগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী হতে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী,ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন,ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ লিটন,ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ও ছাত্রলীগের সভাপপতি আবু মোহাম্মদ শরিফুল হক। নৌকার প্রার্থী হতে ইতিমধ্যে জোর লবিং ও তদ্বীর শুরু করেছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত সাংসদ শামীম ওসমান তার আশির্বাদ কাকে দেবেন এ নিয়েও রয়েছে নানা মত। ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনের নৌকার প্রার্থী নির্ধারণে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।
মামলা জটিলতার কারনে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ আটকে ছিলো ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ইতিমধ্যে ফতুল্লার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী বিভিন্ন পোষ্টার ও ব্যানারে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। ফতুল্লা ইউনিয়নে সাংসদ শামীম ওসমানের আস্থাভাজনের মধ্যে রয়েছেন,খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন,মীর সোহেল আলী,ফরিদ আহম্মেদ লিটন,ফাইজুল ও আবু মোহাম্মদ শরিফুল হক। চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রতীক পেতে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন নৌকার মাঝি তা পরিস্কার হতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,নৌকার প্রতীকের প্রার্থীতার ব্যাপারে সাংসদ শামীম ওসমান যাকে চাইবেন তিনিই প্রার্থী হবেন। তবে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন বলে আশা করছেন তাদের মধ্য থেকে শামীম ওসমান কাকে সমর্থণ করবেন এ নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
নৌকার প্রার্থীর ব্যাপারে সাংসদ শামীম ওসমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা ফতুল্লা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের জন্য কতোটা সুখকর হবে তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন যারা চাইছেন তারা সবাই শামীম ওসমানের আস্থাভাজন। এবার আস্থা যদি একজনের দিকে যায় সেক্ষেত্রে তারা আগামীতে মনে ক্ষোভ পোষন করে রাখবে। এতে করে ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেও অনেকে মনে করছে বলেও তিনি জানান।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী বলেন, আগামী ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার আশা প্রকাশ করছি। যদি নৌকা প্রতীক না পাই,সেক্ষেত্রে যিনি পাবেন তার পক্ষ হয়ে কাজ করবো।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ লিটন বলেন, আশা করি নৌকা প্রতীক পাবো। মনোনয়ন না পেলে যিনি পাবেন তার জন্য কাজ করবো।
আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, নৌকা প্রতীক চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। না চাইলে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়েই কাজ করবো।


