Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

গ্যাস লিকেজে মৃত্যুকূপ ফতুল্লা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২২ এএম

গ্যাস লিকেজে মৃত্যুকূপ ফতুল্লা
Swapno


 
ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাসের সার্ভিস পাইপ লিকেজ থেকে ঘটে চলেছে একেরপর এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। এসব দূর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু মিছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাস লিকেজ থেকে প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসছে না তিতাস কর্তৃপক্ষ। এতে, ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় গ্রাহকদের।
 
স্থানীয় পর্যায়ের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেবল ফতুল্লাজুড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ রাইজার ও ততোধিক সার্ভিস পাইপে অসংখ্য লিকেজ রয়েছে। এসব লিকেজ থেকে প্রতিনিয়তই গ্যাস বেড়িয়ে আসছে। এতে করে আকষ্মিক দূর্ঘটনার চাঁপা আতঙ্ক নিয়েই দিনাতিপাত করছে ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জবাসী।
 
এরই মধ্যে গতকাল সকালে ফতুল্লার লালখা এলাকায় সাবেক মেম্বার মোক্তারের বাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মায়া রানী ও মঙ্গলী রানী বিশ্বাস নামে দুই নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে আরো দশজন।
 
এদিকে, পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই ভবনের নিচ তলা পুরোপুরি বিদ্ধস্ত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের দেয়ালের অংশ বিশেষ ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ইউনুস ভেন্ডারের টিনসেড বাড়ি, পশ্চিম পার্শ্বের শাহাদাতের দোকান এবং দক্ষিণে সাইফুলদের একটি দোকান পুরোপুরি বিদ্ধস্ত হয়ে যায়। পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই  ভবনটির একপাশ হেলে গিয়ে ঝুকিপূর্ন হওয়ায় তা সিলগালা করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
 
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, তিতাস গ্যাসের সার্ভিস পাইপ লিকেজ থাকায় বাড়ির নিচ তলার কক্ষে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। যদিও তিতাস কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাসের চুলো চালু রাখায় সেখান থেকে পুরো ঘরে গ্যাস জমে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে। যদিও এর নেপথ্য কারণ খুজে বের করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসন।
 
এদিকে, গেল কয়েক বছরে লালখা এলাকাসহ ফতুল্লার বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বহুজন। এতে গ্যাসের বিস্ফোরণে আতঙ্কের জনপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফতুল্লা অঞ্চল। তিতাস গ্যাস সংশ্লিষ্ট এসব ঘটনায় মৃত্যুপুরিতে পরিণত হচ্ছে ফতুল্লা।
 
তথ্য বলছে, গত কয়েক বছর আগে ওই লালখা এলাকাতেই ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন পর লালখা এলাকাতেই পাশের একটি বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। গত কয়েক মাস আগে ফতুল্লার রামারবাগ এলাকাটিতে আরো একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ৮ই মার্চ রাত ১২টার দিকে ফতুল্লার পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়। গত ২৩ এপ্রিল ফতুল্লার তল্লা জামাই বাজার এলাকায় মফিজুল ইসলামের বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত ৩০ জুলাই ফতুল্লার লালখা এলাকার একটি বাড়িতে গ্যাসের রাইজারের লিকেজ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ওই বাড়ির ৩টি বসত ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়। তাছাড়া, গত বছর তল্লা মসজিদে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৭ জনের প্রাণহানীর ঘটনা নাড়া দেয় গোটা দেশে। ওই ঘটনার পর তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস পাইপের লিকেজ সংস্কারে নজর দিবে বলে জনানো হলেও খুব একটা তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এসব ঘটনার পরও তিতাস কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফতুল্লার লালখা ও দক্ষিন সেহাচর এলাকাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গ্যাসের লাইন লিকেজ রয়েছে। এসব লিকেজ থেকে প্রায় সময়ই দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে। তবে, লিকেজ অনুসন্ধান এবং মেরামতের বিষয়ে উদাসীন তিতাস কর্তৃপক্ষ।’  
অন্যদিকে, তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ বা আবেদন না আসায় মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে তিতাস কর্তৃপক্ষের মনিটরিং কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।’
 
জানা গেছে, শহর বা শহরতলী ; তিতাস গ্যাস অফিসের অবহেলা রয়েছে সর্বত্র। ফতুল্লার সিংহভাগ গ্যাস পাইপ বহু বছরের পুরনো হওয়ায় মরিচা ধরে লিকেজ হয়ে আছে। কিন্তু তিতাস কর্তৃপক্ষ তা স্থায়ী ভাবে মেরামত করছেন না। লিকেজ থাকা সত্বেও তা সংস্কারের জন্য জোর দিচ্ছেন না। এক্ষেত্রে তিতাসের লোকদের উদাসীনাতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
 
এদিকে, বৃষ্টি মৌসুমে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে জ্বলাবদ্ধতা হলে তিতাসের সার্ভিস গ্যাস পাইপগুলোর লিকেজ থেকে গ্যাসের বুদবুদ আকারে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। তাছাড়া বাসা বাড়ির গ্যাস রাইজার থেকে শব্দসহ তীব্র গতিতে গ্যাস বেড়িয়ে আসে। রাইজারের পাইপগুলো মরিচায় পরিপূর্ন। বিভিন্ন সড়ক এখন আরসিসি ঢালাইয়ে রূপান্তর হওয়ায় এবং জলাবদ্ধতা না থাকায় গ্যাস পাইপ লিকেজ থাকলেও গ্যাস লিকেজের বিষয়গুলো চোখে পড়ছে না। তবে, ছুটির দিনে মিল ফ্যাক্টরী বন্ধ হলে সার্ভিস লাইনে গ্যাসের চাপ বেড়ে যায় এবং তা আরসিসি ঢালাইয়ের রাস্তা গলে বের হতে না পারলেও ঘনত্ব কম থাকা মাটির নিচ দিয়ে আশপাশের ড্রেনে বা কর্দমাক্ত স্থানে বুদবুদ আকারে বেড়িয়ে আসে। ফলে প্রায় সময় বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের জ্বলন্ত সিগারেট ফেলার কারণে আগুন জ্বলে উঠে।
 
স্থানীয়রা বলছেন, গ্যাস পাইপ বা রাইজার লিকেজের এমন ঘটনা গোটা জেলাজুড়ে। এরপরও তিতাস কর্তৃপক্ষ তা মনিটরিং করছেন না এবং নিচ্ছেন না কার্যকরি কোন ব্যবস্থাও।


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন