Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আড়াইহাজারে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাঁপ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০৭ পিএম

আড়াইহাজারে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাঁপ
Swapno

আড়াইহাজারে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে মরিয়া ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা মাঠে নেমেছেন আদাজল খেয়ে। দলটির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ বেকায়দায় পড়তে দলটি’র নীতি নির্ধারকরা। একই দলের হলেও কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিচ্ছেনা। একে অপরকে ঘায়েল করতে সরাকে ধরা জ্ঞান করতেও পিছ পা হচ্ছে না। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে এবং অনেকেই র্দুসময়ে দলটির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, এমন অনেকেই এবার প্রার্থী হয়েছেন। তবে একটি ইউনিয়ন ব্যতিত প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে প্রায় ডজন খানেক করে সম্ভাব্য প্রার্থী। ইউনিয়নগুলোতে উৎসবের পাশাপাশি রয়েছে উত্তেজনা। প্রতিটি ইউনিয়নেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে রয়েছে নানা গুনজন। ১০ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে তফসিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর। 

 

তবে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে বিভিন্ন কারণে এবার আলোচনায় স্থানীয় হাইজাদী, বিশনন্দী, ব্রাহ্মন্দী, সাতগ্রাম, খাগকান্দা ও উচিৎপুরা ইউনিয়ন। এতে সবার দৃষ্টি এখন উক্ত ইউনিয়নগুলোতে। এসব ইউনিয়নগুলোতে প্রার্থীদের ঘুম অনেকটাই হারাম হয়ে যাওয়ার মতোই অবস্থা। দিনভর এলাকায় প্রচারণায় থাকার পর সন্ধ্যা হলেই ভিড় করছেন উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ে। সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও শোডাউন পাল্টা-শোডাউন নিয়ে কিছু ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছিল ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে প্রার্থীদের শোডাউন। তবে অব্যাহত রয়েছে উঠান বৈঠকসহ নেটদুনিয়ায় প্রচার-প্রচারণা। সরেজমিন কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন বাগাতে ক্ষমতাসীন দলের বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থী এবার মাঠে রয়েছেন। তারা এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে টানতে নানা লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এতে তৃণমুল নেতাকর্মীদের কদর আগের চেয়ে বেড়েছে। নির্বাচনী আলোচনায় অনেকটাই সরগম চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে হাট-বাজারগুলোতে। আলোচনায় মুখরিত প্রার্থীদের অতীত নানা কর্মকান্ড নিয়ে। তবে প্রতিটি ইউনিয়নেই এবার নতুন মুখ মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যানরা প্রচারণায় অনেকটাই খোশ মেজাজে রয়েছেন। এবারও তারা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ আশা করছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকেই কিছুটা বেকায়দায়ও রয়েছেন। 

 

তবে প্রার্থীরা এক মূহুর্তের জন্য বসে নেই। তারা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এলাকা এলাকায় চষে বেড়ানোসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব রয়েছেন। জানা গেছে, স্থানীয় হাইজাদী ইউনিয়নে এবার নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন। এর আগেও তিনি দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশায় লবিং করে যাচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া (রাশেদ), থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য জোনায়েদ হাসান প্রিন্স ও সাবেক চেয়ারম্যান মোতাবিল ভূঁইয়া। খাগকান্দা ইউনিয়নে এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম। তার বাবা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু’র মৃত্যু বরণ করলে তিনি উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়াও এই ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মাহাবুব আলম, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও রেজাউল করিম ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন। উচিৎপুরা ইউনিয়নে নৌকার প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মোল্লা।

 

 তিনি এর আগে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে ছাড়াও এখানে থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মাহাবুবুর রহমান বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট সেলিম ইমরান, বেনজীর আহমেদ ও ইসমাইল হোসেনসহ আরো কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বিশনন্দী ইউনিয়নে প্রচারণায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। তিনি এর আগেও দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাকে ছাড়াও থানা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহীন সরকার, যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশায় লবিং করছেন। সাতগ্রাম ইউনিয়নে প্রচারণায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান অদুধ মাহমুদ। তিনি এর আগেও দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

 

তাকে ছাড়াও মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল, জোবায়ের হোসেন, আমির হোসেন ও আনোয়ার আলীসহ আরো কয়েকজন। মাহমুদপুর ইউনিয়নে মাঠে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আমান উল্যাহ (আমান)। এছাড়াও রয়েছেন বাবুল,সফর আলী ও সোহবার হোসেনসহ আরো কয়েকজন। প্রসঙ্গত.১৩ নভেম্বর দিনভর আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যালয়ে সভার আয়োজন করা হয়। তাতে প্রার্থীদের মধ্যে অধীকাংশই উপস্থিত ছিলেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন