যুগের চিন্তা রিপোর্ট : সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিএনপির মেম্বার প্রার্থীদের কাছে সরকার দলীয় প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতাদের পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে ভোটের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজিত হওয়ার পরথেকেই বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি। শুধু তাই নয়, মেম্বার প্রার্থীর সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এলাকার থেকে বিতাড়িত করার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
নির্বাচিত হওয়ার দুই দিনের মাথায় এমন ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার বাবুল ও তার সহযোগীরা। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এই নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, নবনির্বাচিত মেম্বার বাবুল মিয়া বিএনপির সক্রিয় সদস্য, তার বিরুদ্ধে বিএনপি জামায়াতের গ্রেনেড বিস্ফোরক মামলা সহ বিভিন্ন মামলার আসামি তিনি। তার সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম কুতুবপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুর রহিম ও হাফেজ। নির্বাচনের পরপরই রহিম ও হাফেজ কুতুবপুর ইউনিয়ন ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদারের কর্মী ইউনুসকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত জিডি দায়ের করা হয়েছে যাহারা জিডি নং-৬১৬। এখানেই শেষ নয়, নবনির্বাচিত বাবুল মিয়ার পক্ষে গতকাল সকাল ৯ ঘটিকার সময় চিতাশাল এলাকায় খবির উদ্দিন খবির ও তার স্ত্রী ঝর্ণা এক মোদি দোকানীকে আলাউদ্দিন হাওলাদারের পক্ষে নির্বাচন করায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন এলাকা থেকে বিতাড়িত করে দেওয়ার হবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পক্ষে সমর্থীত ব্যক্তিদের।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নয়ামাটি মুসলিম পাড়া এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের আওয়ামীলীগ করাই কি ছিল অপরাধ! এখন বিএনপি জামায়াতে লোকজন আমাদের এলাকা থেকে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদান করে। এমন যদি হয় তাহলে এই কুতুবপুর ৫ নং ওয়ার্ডে রক্তের বর্ণা বয়ে যাবে। আমরা অনেক সহ্যকরেছি আর না। বিএনপি জামায়াতে লোকজন হুমকি ধামকি দিবে আর আমরা চুপচাপ বসে থাকবো তা হবে না। এই ৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক আগাছা রয়েছে তাদের কারণে আজ আওয়ামী লীগের এই অবস্থা।
নামধারী আওয়ামী লীগের সবাই বিএনপির সাথে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে ডুবিয়েছে। সেই সব আওয়ামী লীগ নেতারাই আজ বিএনপি জামায়াতে মেম্বার প্রার্থীকে ফুলের মালা গলায় দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন, সত্যিই ঘৃণা করে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক জন বলেন, কুতুবপুর ৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বাবুল মিয়া বিজয়ী হওয়ার পরথেকে অত্র এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন ৫ ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুর রহিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ও আমার ছোট ভাই তাই ওকে হুমকি ধামকি দিতেই পারি, এইটা একটা মিস্টেক হয়েছে। যে কেউ থানায় জিডি করতেই পারে তাতে কি আসে যায় বলেন। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রাকিবুজ্জামান জানান, থানায় জিডি হয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


