Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লা পাইলট স্কুল সড়কের জলাবদ্ধতা শেষ হবে কবে?

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ পিএম

ফতুল্লা পাইলট স্কুল সড়কের জলাবদ্ধতা শেষ হবে কবে?
Swapno

# প্রভাবশালী এমপি থাকা সত্ত্বেও সমাধান হচ্ছে না
# নির্বাচনী তফসিল হওয়ায় মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে
# প্রায় ১ হাজার ৯৫০ দিন পর ভোট হচ্ছে


 ফতুল্লায় এখন নির্বাচনী উৎসব বইছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় এখন নির্বাচনী আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে চেয়ারম্যান, মেম্বার পদে কে আসছে। চেয়ারম্যান পদে কি ভারমুক্ত হয়ে পুরনো ব্যক্তিই থাকবে, নাকি নুতুন নেতৃত্ব আসবে। বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে ভোটাররা এখন পর্যালোচনা করছে। সেই সাথে যারা এতোদিন দায়িত্ব পালনে ছিলেন  তাদের আমলনামা নিয়েও মানুষ এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। মানুষ তাদের থেকে কি পেয়েছে আর কি পান নাই তা নিয়ে জনগণ চিরচেনা রূপে বিশ্লেষণ করছে। সেই সাথে ফতুল্লার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন এলাকাবাসী। এই এলাকার মানুষের তথ্য মতে, এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন জলাবদ্ধতা, যা স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অনেক চেয়ারম্যান, এমপি আসছে আর গেছে কিন্তু এই জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও ময়লার সমস্যা দিন দিন বিরাট আকার ধারণ করছে। নিদিষ্ট স্থান না থাকায় যে যেখানে পারছে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে। আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা মানছে না মানুষ। এর ভুক্তভোগী হচ্ছে পুরো ফতুল্লা ইউনিয়নবাসী। যানজটের সমস্যাতো ওই এলাকার মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে আছে। আদৌ তা সমাধান হবে কি না জানে না স্থানীয়রা। ফতুল্লার জনপ্রতিনিধি প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান থাকা সত্বেও মানুষ তার সমাধান পাচ্ছে না।  


এদিকে নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ ৩০ বছর পর মানুষ আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লার ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ ১ হাজার ৯৫০ দিন পর এই এলাকার মানুষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিবে। তাই প্রতিটি ভোটার থেকে শুরু করে প্রার্থীদের একটাই দাবাী তারা যেন চেয়ারম্যান, মেম্বার পদে ভোট দিতে পারে। প্রভাবশালী মহল যেন কোন প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে বসিয়ে দেয়ার চেষ্টা না করে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফতুল্লার সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।  দীর্ঘ ৩০ বছর এখানকার নির্বাচন না হওয়ায় ফতুল্লাবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও কিছু ব্যক্তির উন্নয়নের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কিছু প্রভাশালি ব্যক্তির কারণে এখানকার মানুষ এতোদিন ভোট দিতে পারে নাই। ফতুল্লা ইউপির তফসিল ঘোষণা হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষগুলো এখন ফতুল্লার উন্নয়ন হবে এমন মানুষকে বেছে নিতে চান। ফতুল্লাবাসি আর উন্নয়ন বঞ্চিত থাকতে চান না।


ফতুল্লার একাধিক ব্যক্তি জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান স্বাধীনতার ৫০ বছরেও হয় নাই। ১০ বছর যাবৎ ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, তিনি ১০ বছরে দৃশ্যমান কি উন্নয়ন করেছে তা মানুষ জানতে চায়। তার সাথে মানুষ মন খুলে কথা পর্যন্ত বলতে পারেন না। ফতুল্লার ভোটাররা এবার ভোট প্রয়োগ করে এমন ব্যক্তিকে  জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চান যার মাধ্যমে এলাকার সমস্যার সমাধান হবে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লার লালপুর পোষাপুকুর পাড়, দাপা ইদ্রাকপুর, কাইমপুর, ফতুল্লা পাইলট স্কুল সংলগ্ম সড়কে সারা বছর জুরে পানিতে ডুবে থাকে। বর্ষাকাল আসলে এই এলাকা গুলোতে নৌকা দিয়ে মানুষের চলাচল করতে হয়। সেই সাথে খোসপাচঁড়া রোগ বালাইয়ের কোন শেষ নেই। এমনকি শিক্ষার্থীদের ময়লাযুক্ত পানি পাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এনিয়ে ছাত্র ছাত্রী অভিভাবকদের ক্ষোভের শেষ নেই।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফতুল্লার এক ব্যক্তি জানান, আমাদের এলাকার এমপি শামীম ওসমান হওয়া সত্বেও এখানকার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকে। পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থীরা ময়লা পানি পাড়িয়ে বিদ্যালয়ের গিয়ে অনেকে রোগাক্রান্ত হয়ে পরেছে। এমপি সাব নিজে এসে তা সমাধান করার আশ্বাস দিলেও তার সমাধান হয় নাই। এইযে পাইলট স্কুল সংলগ্ন সড়কে সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে। আর ছাত্র-ছাত্রীরা ভোগান্তি নিয়ে এখান দিয়ে চলাচল করে। এই পানিযে কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না। তার সাথে সুর মিলিয়ে কয়েকজন বলেন, এমপি সাহেবেরতো নিজের এলাকার চেয়ে সিটিতে নজর বেশি। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা চাইলেই সমাধান করে দিতে পারে। তাদের স্বদিচ্ছার অভাব থাকায় তা হচ্ছে না।


এলাকাবাসীর সূত্রমতে অন্য দিকে ফতুল্লার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন ১০ বছর যাবৎ দােিয়ত্ব থেকেও এর কোন সমাধান করতে পারেন নাই।  এতোদিন তিনি কি কাজ করেছে তা নিয়ে মানুষ নানা সমালোচনা করছে। চার মাস আগে ফতুল্লায় যখন জলাবদ্ধতা বিরাট আকারে ধারণ করে তখন মানুষ তাকে খুঁেজও পান নাই। তিনি তখন  মানুষের পাশে না থেকে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।


ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়াম্যান প্রার্থী মহসিন মিয়া জানান, দীর্ঘ দিন মানুষ ভোট দিতে না পারায় তাদের মাঝে ক্ষোভ জমে আছে। তাই ভোটাররা এবার চেয়ারম্যান, মেম্বার পদে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। সেই সাথে কোন প্রার্থীকে যেন বসিয়ে দেয়ার পায়তারা না করা হয়।


ফতুল্লার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘৩০ বছর যাবৎ এখানে নির্বাচন নেই। গত ১০ বছর ধরে চারজন দিয়ে এই ইউনিয়ন চলছে। একটা ইউনিয়ন এইভাবে চলতে পারে না। তাই এবার ফতুল্লা ইউপির নির্বাচনের তফসিল হওয়ায় মানুষ এলাকার সমস্যা নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। তাই মানুষ এবার ভোট দিতে চায়। কিন্তু বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বপন ভেবেছিলেন প্রথম, ২য় এবং ৩য় ধাপে ফতুল্লা ইউপির নির্বাচন তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় এবারও মনে হয় এখানকার নির্বাচন হবে না। তবে ৪র্থ ধাপে তফসিল ঘোষণা হওয়ায় তার মাথায় চিন্তার ভাঁজ পরে যায়। ফতুল্লার মানুষ নতুন নেতৃত্ব চান। এলাকার মুরুব্বিদের অনুরোধে আমিও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। যেহেত দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষের সেবা করে আসছি তাই আশা করি ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করবে।’  


ফতুল্লার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন জানান, ‘আমার দল আওয়ামীলীগ থেকে আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। আমার মনোনয়ন পাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে আমার নেতা এমপি শামীম ওসমানের। আমি এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে সবার আগে আমাদের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধাতার সমাধান করবো। এখানকার মানুষের ময়লা ফেলানেরা কোন স্থান না থাকায় মানুষকে যে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তা আর হবে না। মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে এই সমস্যা দূর করবো।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন