# নৌকার প্রার্থীসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ
# স্বপনের মাথায় চিন্তার ভাঁজ
# নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে যাঁচাই-বাঁচাইয়ের সুযোগ : স্বপন
ত্রিশ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তৈরী করছেন। একই সাথে মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিতেও কোন প্রার্থী পিছিয়ে নেই। সেই সাথে চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে হাটে মাঠে সর্বত্র এখন ফতুল্লা নির্বাচন নিয়ে আলোচনার চলছে। এই এলাকার মানুষ দীর্ঘ ৩০ বছর পর ভোট দিতে যাচ্ছে। কয়েক হাজার ভোটার আছে যারা ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই প্রথম ভোট দিবে। কেননা এখানে সীমানা সংক্রান্ত মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন বন্ধ ছিল। এতে করে এলাকাবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। ফতুল্লাবাসী আর উন্নয়ন বঞ্চিত থাকতে চান না। তারা এবার ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চান।
সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুসারে জানা যায়, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন মনোনয়ন ফরম জমাদেন। সোমবার যাছাই বাছাই পর্বে এই ৭ জনের মনোনয়ন বেধতা ঘোষনা করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফরোজা খাতুন। চেয়ারম্যান পদে ৭ জন হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান স্বপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী পরেশ চন্দ্র দাস, আলী আজম, কাজী দেলোয়ার হোসেন, মো. মহসিন মিয়া ও মোহাম্মদ রিপন। তবে তারা প্রত্যেকেই ফতুল্লার চেয়ারম্যান হতে চায়। কিন্তু চেয়ারম্যান হবে একজন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৭ টি মনোনয়ন জমা হয়। এর মাঝে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই সাথে সাধারণ সদস্য পদে ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা হলেও তার থেকে ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সব মিলিয়ে ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে ১২০ জনের মনোনয়ন বৈধতা পায়।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ফতুল্লা ইউনিয়নের পাশের ইউপি কুতুবপুরে একক ভাবে বিএনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামীলীগার মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ফতুল্লায় তার সম্ভাবনা নেই। তাই রাজনৈতিক মহলের মতে ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন নৌকার প্রার্থী হলেও জয়ের বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে বলে জানান। ইতিমধ্যে এবারের নির্বাচন গুলোতে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করায় মানুষ ভোটে আগ্রহী হয়েছে। সেই সাথে তারা ক্লিন ইমেজের নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়। এই দিক দিয়ে স্বপন অনেকটা ব্যাকফুটে আছে। সচেতন মহলের মতে ফতুল্লা ৬ জন প্রার্থী থাকায় স্বপনের মাথায় চিন্তার ভাঝ পরে গেছে। কেননা ভোটের মাঠে প্রার্থী বেশি থাকায় বেকায়দায় রয়েছেন তিনি। পুরান নেতৃত্বে মানুষের অনীহা হয়ে আছে। দীর্ঘ দিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটার নতুন নেতৃত্ব চায় বলে জানান এলাকাবাসি। ফতুল্লাবাসি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর পর নির্বাচন পেয়ে মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ উৎসব কাজ করছে। সেই সাথে প্রতিটি মানুষ দাবী তুলেছে তারা যেন ভোট দিতে পারে। তাদের ভোটাধিকার যেন কেরে না নেয়া হয়।
ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এলাকার মুরুব্বিদের অনুরোধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। যেহেতুৃ ফতুল্লায় দীর্ঘ দিন যাবৎ বিভিন্ন সেবা মুলক কাজ করে আসছি সে হিসেবে মানুষ আমাকে চায়। কেননা ইতিমধ্যে আমি দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় ভোটের মাধ্যমে ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। করোনার সময়ে মানুষের পাশে থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সহযোগিতা করেছি। সেই সাথে এলাকায় আমার যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। তাই আমি বিশ্বাস করি সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মানুষের ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে সেবা করতে পারবো। যেহেতু দীর্ঘ ২ যুগের পর নির্বাচন হচ্ছে সে হিসেবে আমার বসে পরার কোন সম্ভাবনা নেই। আমাকে কেউ চাপ দিয়ে বসাতে পারবেনা। ফতুল্লাবাসি একটা সুষ্ঠ নিরেপেক্ষ নির্বাচন চায়।
ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্ম রিপন বলেন, আমি এলাকার মুরুব্বিদের অনুরোধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দীর্ঘ দিন নির্বাচন না হওয়ায় এখানকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা এবার নতুন জনপ্রতনিধি নির্বাচিত করে ফতুল্লার উন্নয়ন চায়। আর আমি মানুষের পাশে থেকে সব সময় সেবা করে যেতে চাই। আর এই সেবা করার মাধ্যমে আমি জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার উন্নয়ন করতে চাই।
আরেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী মহসিন মিয়া বলেন, মানুষের পাশে থেকে সবসময় সেবা মূলক কাজ করে গেছি। ফতুল্লার মানুষ আমাকে চায়। তাদের ভালোবাসায় ভোটে জয়ী হয়ে ফতুল্লার উন্নয়ন মূলক কাজ করে যেতে চাই। সব সময় জনগণের পাশে থেকেছি। সামনেও থাকবো। মানুষ এখন নতুন নেতৃত্ব চায়। পুরান নেতৃত্বে মানুষের অনীহা হয়ে গেছে। তারা ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে বেছে নিতে চাই। সেই হিসেবে আমি ভোটাদের মনের কোঠায় আছি।
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখা প্রতীক প্রার্থী শাহ জাহান আলী বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আর এজন্য ভোটারদের মাঝে একরকম উৎসব কাজ করছে। আমরা সমাজে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আমি প্রার্থী হয়েছি। সেই সাথে মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যতে চাই। বইসা যাওয়ার কোন চিন্তা নেই।
ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের এলাকার মুরুব্বিদের অনুরোধে আমি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। জনগনের হয়ে করতে চাই। করোনা কালিন সময়ে মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। আর এজন্য এলাকার সকলের সম্মতি নিয়ে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। মানুষও আমার ডাকে ভালো সারা দিচ্ছে।
আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক প্রার্থী খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ১০ বছর যাবৎ যেভাবে আমি মানুষের সেবা করেছি সে হিসেবে ভোটারদের থেকে অনেক ভালো সারা পাচ্ছি। অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ে ফতুল্লায় প্রার্থী বেশি আছে আমাদের এখানে। আর আমি চাই সকল প্রার্থী নির্বাচ পর্যন্ত থাকুক। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা এবং নিজেকে যাচাই বাচাই করার অন্যতম সুযোগ।
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ৩-৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৭ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ ডিসেম্বর।


