ফতুল্লার সীমানা ঘেষে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীর তীর হয়ে উঠেছে ময়লার ভাগার। বিশেষ করে ফতুল্লা বাজার সংলগ্ন নদীটির তীরের অবস্থা ভয়াবহ। বছরের পর বছর ফতুল্লা বাজারের সকল আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। কেউ কেউ বর্জ্যগুলো সরাসরি নদীতেও ফেলছেন। এতে করে ভয়ানক ভাবে দূষিত হচ্ছে নদী। তাছাড়া, আশপাশের ডাইং-কারখানার কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত রঙিন তরল বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই ফেলা হচ্ছে নদীতে। এতে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি এবং ময়লার ভাগাড়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
ইতিপূর্বে এই বিষয়ে দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বাজার কমিটির নির্দেশনায় কিছুদিন আবর্জনা ফেলা বন্ধ রেখেছিলো বাজারের পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ব্যবসায়ীরা। তৎকালিন সময়ে বাজারের সভাপতি জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মোহাম্মদ হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেছিলেন, বাজারের ময়লা অপসারনের জন্য ময়লা বহনকারী গাড়ির ব্যবস্থা করবেন তিনি। তবে, দীর্ঘ দিনেও এর প্রতিফল হয়নি। উপরন্ত বাজারের ময়লায় সয়লাব হয়ে আছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর। দিনকে দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফতুল্লার সচেতন বাসিন্দারা বলছেন, ফতুল্লার গা ঘেষে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদীর বিস্তীর্ন তীর দুষণমুক্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে নিতে হবে কার্যকরি উদ্যোগ। পাশাপাশি বাজারের আবর্জনা যেন বুড়িগঙ্গা নদীতে না ফেলে নির্দিষ্ট ডাম্পিং পয়েন্টে ফেলা হয়, বাজার কমিটিকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ জানিয়েছেন ফতুল্লার সচেতন বাসিন্দারা।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লা মডেল থানা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় এই বাজারের ঠিক পেছনেই বুড়িগঙ্গা নদীতে তৈরী করা হয়েছে ফতুল্লা বাজারের ট্রলার বা নৌকাঘাট। তীর সংলগ্ন ঘাটের চারিদিকে বাজারের নানাবিধ ময়লার স্তুপে পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। বাজারের তরি-তরকারীর আবর্জনা ও গোস্তের দোকানের গো ময়লাগুলো এই ঘাটের সামনেই নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন বস্তায় বস্তায় বাজারের ময়লা ও পলিথিন ফেলা হয় নদীতে। ঢেউ ও স্রোতের টানে তা চলে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার বুকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লার একাধিক বাসিন্দা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ফতুল্লা বাজারের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এই ঘাটে বিকেলের সময়টায় এলাকার বিভিন্ন মানুষ আসে মুক্ত বাতাসের খোঁজে। কিন্তু ঘাটের চারপাশ তথা নদীর তীর ময়লা আবর্জনায় ঠাঁসা থাকায় এখানে এখন আর মুক্ত বাতাস পাওয়া যায় না। ময়লার গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকাটাই দ্বায়। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে নজর দেয়া উচিত।’
জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের এক ব্যবসায়ী যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বাজার কর্তৃপক্ষ ময়লা ফালানোর জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কিন্তু প্রতিদিনই ময়লা জমছে। এই ময়লাগুলো কোথায় ফেলবো! তাই বাজারের পাশর্^বর্তী নদীর তীরেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। বাজার কমিটি ময়লা ফেলার স্থান নির্ধারণ করে দেক। আমরা সেখানেই ফেলবো।’
এদিকে, বাজারের ময়লা নদীর তীরে ফালানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাজার কমিটির সভাপতি মো. হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে ময়লা ফালানোর মতো নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং পয়েন্ট নেই। তাছাড়া, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের গাড়িতে করে যে ময়লা অপসারণ করবো তার জন্যেও পর্যাপ্ত বাজেট নেই। কারণ এই বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ ব্যাগ আবর্জনা জমা হয়। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা একেক ব্যাগ ময়লা নেয়ার জন্যই মাসে ৫০ টাকার মত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকে, আর ৫০০ ব্যাগ ময়লার হিসেবে মাসে এই অর্থের পরিমান অনেক। আমাদের এতো ফান্ড নেই। তাই উপায় না পেয়ে বাজারের ব্যাবসায়ীরা ময়লাগুলো নদী ও তীরে ফেলছে।’
জানা গেছে, গত প্রায় দু’বছর আগে ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে গড়ে উঠা অবৈধ দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এসময় নদীর তীর ঘেঁষা এই বাজারের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেকু চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। নদীর পাড় ধংসস্তুপে পরিনত হলেও কিছুদিন পর আবারও পূরনো চেহারায় ফিরে আসতে শুরু করে। তবে, নদীতে বাজারের ময়লা ফেলা নিয়ে বাজার কমিটিকে কিছু বলতে দেখা যায়নি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে। তাই, এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন ফতুল্লার সচেতন মহল।


