Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মোশারফ বাহিনীর তাণ্ডবে দিশেহারা মানুষ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ পিএম

মোশারফ বাহিনীর তাণ্ডবে দিশেহারা মানুষ
Swapno


# বাড়ি ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, গুলি, এলাকায় চাপা আতঙ্ক
# পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী দাঁড়ালেন অভিযুক্তের পাশে, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
# ২০ দিনেও থামেনি নাওড়া গ্রামের সংঘাত, পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প

 
 ২৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কায়েতপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ৭৫ হাজার লোকের বসবাস। ইউনিয়নটির অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বারা পদদলীত হচ্ছিল বছরের পর বছর। এমন নির্যাতিত বাসিন্দাদের জন্য শান্তির দুত হয়ে এসেছিলেন ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান রংধনু গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে এলাকায় শান্তিপ্রতিষ্ঠাই ছিলো তার প্রধান লক্ষ। তবে, এবারের নির্বাচনে সমালোচিত জাহেদ আলী কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে ইউনিয়নটি। বিশেষ করে, ১নং ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন স্থানীয় সাংসদের সমর্থনে দিনকে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বহিরাগত ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা বর্বর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। প্রতিপক্ষের প্রতি গুলি বর্ষন, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটতরাজ চালাচ্ছেন মধ্যযুগীয় কায়দায়। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসবের পরও সেই সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেনের পাশেই দাঁড়িয়েছেন রূপগঞ্জের সাংসদ ও তার পুত্র। এতে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়াবাসীর হৃদয়ে হচ্ছে রক্তক্ষরণ।


 
জানা গেছে,  গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে টানা ২০ দিন যাবত চলছে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। প্রতিদিন ঘটছে হামলা মারধর, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ আর বোমা ও গুলি বর্ষনের ঘটনা। ১নং ওয়ার্ডে পরাজিত মেম্বার সন্ত্রাসী মোশারফের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এই তান্ডব চালাচ্ছেন। এতে এখনো পর্যন্ত অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সহিংসতা প্রতিরোধে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।


 
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সেখানকার বাসিন্দারা জানান, ১নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে হেরে যান রূপগঞ্জের অন্যতম সন্ত্রাসী ও মোশা বাহিনীর প্রধান মোশারফ। হারের বদলা নিতে গ্রামে একের পর এক তাণ্ডব চালাচ্ছেন। রূপগঞ্জের এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সরাসরি তার পক্ষ নেয়ায় মোশারফ হয়ে উঠেছেন আরও বেপরোয়া। তবে, গ্রামবাসীও মোশারফের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন স্বসস্ত্র প্রতিরোধ।


 
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে মোশারফ বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় গ্রামবাসীর। এসময় গ্রামের ৪টি বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় ৪টি মোটর সাইকেল। মোশা বাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অন্তত ১২ জন।


 
এসব ঘটনা পরিদর্শনে বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক)। এসময় তিনি সরাসরি মোশারফ আর তার পক্ষের লোকজনের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করে ক্ষতিপূরণ দেন। গ্রামবাসী বারবার আবদার করলেও গ্রামের লোকজনকে তার প্রতিপক্ষ রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের অনুসারী দাবি করে মন্ত্রী গ্রামের অন্য কোন ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেননি। খোঁজ নেননি আহত ব্যক্তিগণের। মন্ত্রীর এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সেখানকার মানুষ।


 
গতকাল নাওড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক পরিবারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী নাওড়া এলাকা পরিদর্শনে আসছে শুনে আমরা কিছুটা আশ্বাস পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তিনি আমাদেরও খোঁজখবর নেবেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে কেবল তার কর্মী সন্ত্রাসী মোশারফ ও মোশারফের পক্ষের লোকজনের বাড়ি পরিদর্শন করে চলে গেছে। আমরা মন্ত্রীর কাছ থেকে এটা আশা করিনি। তিনিতো সকলের এমপি, সকলের মন্ত্রী। আমরাইতো তাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছি বিধায় প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। তবে, তিনি কেন আমাদের কাছে আসলেন না! তিনি আসলেন সন্ত্রাসী মোশারফের পক্ষ হয়ে। যেই সন্ত্রাসী আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।’
 
এলাকাবাসী জানান, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ দুই ধারায় বিভক্ত। একপক্ষে মন্ত্রী গাজী আর তার ছেলে পাপ্পা ও অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। রফিককে কোনঠাসা করতে মন্ত্রী সন্ত্রাসী মোশারফের পক্ষ নিয়ে কায়েতপাড়ার সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছেন বলে দাবি তাদের। এ কারণে গত ২০ দিনেও থামেনি নাওড়া গ্রামের সংঘাত।
 
এদিকে, সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় নাওড়ায় আসলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে না দাঁড়িয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোশারফের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা হয়েছে। যার নামে ৩৫টি মামলা হয়, সে ব্যক্তি সন্ত্রাসী ছাড়া অন্যকিছু নয়। মন্ত্রী সেই সন্ত্রাসীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আরো বেশি উস্কে দিলেন, যাতে সে আরো বেশি করে নাওড়াবাসীর প্রতি অত্যাচার অবিচার করতে পারে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষিদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।’  
 
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার ‘গ’ অঞ্চল আবির হোসেন বলেন, ‘নাওড়া গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পুলিশ র‌্যাব আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাতদিন পরিশ্রম করছে। এসব হামলা সংঘর্ষে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। নাওড়ায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছি। আমরা সংঘাত থামানোর সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন