Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

থমথমে কায়েতপাড়া, পুরুষ শূন্য নাওড়া

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৬ পিএম

থমথমে কায়েতপাড়া, পুরুষ শূন্য নাওড়া
Swapno

 নির্বাচন পরবর্তী টানা ২০ দিনের সহিংসতার পর বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায়। বর্তমানে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গোটা নাওড়া। সে এলাকা যেনো এখন আতংকের নগরী। অন্য এলাকার কোন মানুষ প্রয়োজন হলেও সেখানে যাচ্ছেন না। হামলা আর গ্রেফতার আতংকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ।  


জানা গেছে, গত ১১ই নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নে টানা ২০ দিন ধরে চলছিলো নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। কায়েতপাড়ার ১নং ওয়ার্ডের নাওড়া এলাকায় এই সহিংসতা রূপ নিয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায়। প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ গুলি বর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্রের হামলায় আহত হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ।


এই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় এক পক্ষের মামলা নিয়েছে পুলিশ। ওই মামলায় বিজয়ী ইউপি সদস্য জসিম সহ ২২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল রাতে মামলার ২নং আসামী ও ১নং ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য মো. জসিমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সেখানকার বাসিন্দারা জানান, ১নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে হেরে যান রূপগঞ্জের অন্যতম সন্ত্রাসী ও মোশা বাহিনীর প্রধান মোশারফ। হারের বদলা নিতে গ্রামে একের পর এক তাণ্ডব চালান তিনি ও তার বাহিনীর লোকজন। রূপগঞ্জের এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী তার পক্ষ নেয়ায় মোশারফ হয়ে উঠে আরও বেপরোয়া। তবে, গ্রামবাসীও মোশারফের বিরুদ্ধে গড়ে তুলে স্বসস্ত্র প্রতিরোধ।  
 
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে মোশারফ বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় গ্রামবাসীর। এসময় গ্রামের ৪টি বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় ৪টি মোটর সাইকেল। হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অন্তত ১২ জন। মঙ্গলবারের ওই সহিংসতার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মোশরফের বোনের দায়েরকৃত ওই মামলায় ১নং ওয়ার্ডের বিজয়ী মেম্বার জসিমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মো. আবির হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, কায়েতপাড়ার নাওড়া এলাকা এখন থমথমে। পুরো এলাকা পুরুষ শূন্য। হামলার ঘটনায় মোশারফের পক্ষে তার বোন বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আমরা আমাদের অভিযান পরিচালনা করছি, কিন্তু এলাকা পুরুষ শূন্য হওয়ায় অভিযুক্তদের আপাতত পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা থেকে জসিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ১নং ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য এবং ওই মামলার ২নং আসামী। গত বুধবার রাতেও আমার নেতৃত্বে নাওড়ায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এলাকা পুরুষ শূন্য থাকায় অভিযানের তেমন কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।’


তিনি আরো বলেন, ‘নাওড়াসহ গোটা কায়েতপাড়ায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে আমরা পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আছে।’  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন