সানজিদ হত্যার ১৩ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম
নিহত সানজিদ
# একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর ট্রমায় রয়েছে পুষ্পা বেগম
# আদম ও কদম পেশদার ও চিহ্নিত অপরাধী
নগরীর তল্লা ছোট মসজিদ এলাকার চাঞ্চল্যকর সানজিদ হত্যা মামলার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত হত্যায় জড়িত কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আ. মোত্তালিব।
গত মাসের ২২ তারিখ (রোববার) রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর কিল্লারপুল ঈশা খাঁ রোড এলাকার জনৈক আসলাম মিয়ার বাড়ীর পশ্চিম পাশের রাস্তায় সন্ত্রাসীরা সানজিদকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সন্ত্রাসী মৃত মন্নাফের দুই ছেলে আদাম, কদম, মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে কবির, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে রনি ও অজ্ঞাত আরো ৫জন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মো. রিপন দেওয়ানের ১৭ বছর বয়সী ছেলে সানজিদকে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
হত্যাকান্ডের দিন রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নিহত সাজিদের বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে ছেলে হারা মা পুষ্পা বেগম এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সানজিদের স্বজনরা বলছেন, একমাত্র সন্তান হারিয়ে দিশেহারা পুষ্পা বেগম। সানজিদ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে সানজিদের মৃত্যু হয়েছে কথাটি কোন ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।
স্বজনরা বলছেন, প্রতিদিনই সানজিদের মাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে রাখতে হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর ট্রমায় রয়েছে পুষ্পা বেগম। প্রতিদিনই হঠাৎ হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে সানজিদের সন্ধান করছেন। যেদিন সাজনিদের মৃত্যু হয় সেদিন পুষ্পার অবস্থান খুবই আশংকা জনক ছিল। এলাকাবাসী আশঙ্কা করেছিলেন ছেলের মৃত্যুর শোকে তারও মৃত্যু হতে পারে।
অপরদিকে একাধিক মামলার আসামী আদম ও কদম এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এলাকাবাসী ভাষ্য এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একধিক মামলা রয়েছে। পুলিশে দৃষ্টিতে এরা খুবই ভয়ংকর অপরাধী। নাবালক সানজিদকে হত্যা করে বর্তমানে এরা আত্মগোপনে রয়েছে। সানজিদকে ফিরে পাওয়া যাবেনা কিন্তু হত্যাকান্ডের অভিযোগে এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে তুল্লা এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যেতে।
এলাকাবাসী বলছেন, তল্লা ছোট মসজিদ এলাকায় এরম বহু সন্ত্রাসী রয়েছেন যারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করছে। সানজিদের হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার হলে ওই সকল অপরাধীরাও আইনের কঠোরতা সম্পর্কে অবগত হত এবং অপরাধ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে তারা।
এদিকে সানজিদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আ. মোত্তলাবি যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, আসামীদের ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন তারা। অতিদ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলছেন, আদাম ও কদমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে হত্যার মতো ঘটনাও রয়েছে যার সকল তথ্য ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে নিহত সানজিদের বাবা হত্যা মামলাটির বাদী মো. রিপন দেওয়ানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, যে পর্যন্ত আসামীদের গ্রেপ্তার না করছে পুলিশ সেই পর্যন্ত তাদের কোন শান্তি নাই। একমাত্র সন্তানকে হরিয়ে রিপন দেওয়ান বলছেন, পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন তারা। তিনি আরো বরেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশও কাজ করছে। আদম ও কদম পেশদার ও চিহ্নিত অপরাধী। এর আগেও তারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। খুব বেশি দিন ওরা পালিয়ে থাকতে পারবেনা এমন আশ্বাস পুলিশ দিয়েছে বলছেন নিহত সানজিদের স্বজনরা।


