# মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ
# বিনা লড়াইয়ে পার পাচ্ছেননা স্বপন
# পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে এলাকাবাসী
বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ ৩০ বছর পরে ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার ৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তফসিল অনুসারে ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এদিকে ফতুল্লার নির্বাচনকে গিরে নানা সমীকরণ চলছে। তার মাঝে সবচেয়ে বলোচিত হচ্ছে ফতুল্লার চেয়ারম্যানের চেয়ারে কে বসছে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তবে ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী মানুষ নতুন মুখ চায়। সেই প্রত্যাশায় আড়াই যুগের অবসান হোক। ফতুল্লায় আসুক নতুন মুখ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর নির্বাচন না হওয়ায় ফতুল্লার মানুষ অবহেলিত ছিল। সেই সাথে তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু ফতুল্লার মানুষ এবার ভোট দিয়ে নতুন মুখ নির্বাচিত করতে চান। যারা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছিল ওই সমস্ত ষড়যন্ত্রকারীদের ভোট দিবে না বলে জানান এলাকাবাসী।
সদর উপজলা নিবার্চন অফিসর তথ্যানুসারে, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চন চেয়ারম্যান পদ ৭ জন মনোনয়ন ফরম জমা দেন। যাছাই বাছাই পর্বে এই ৭ জনর মনােনয়ন বৈধতা ঘোষণা করে উপজেলা নিবার্চন অফিসার আফরোজা খাতুন। চেয়ারম্যান পদে ৭ জন হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী, স্বতন্র প্রার্থী পরেশ চদ্র দাস, আলী আজম, কাজী দেলোয়ার হোসেন, মহসিন মিয়া ও মোহাম্মদ রিপন। তারা প্রত্যোকেই ফতুল্লার চেয়ারম্যান হত চায়। কিন্ত চেয়ারম্যান হবে একজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লা ইউনিয়নের পাশের ইউপি কুতুবপুরে একক ভাবে বিএনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামীলীগার মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নিবার্চিত হলেও ফতুল্লায় তার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু নৌকার প্রার্থীকে এককভাবে জয়ী করা চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। কেননা ইতিমধ্যে ফতুল্লার প্রার্থীদর উপর হুমকি ধামকি শুরু হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এই হুমকি ধামকির নাটের গুরু একটি প্রভাবশালী মহল। যাদের ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তবে নিবার্চন কোন শক্তির ইশারায় প্রার্থীরা বসবে না বলে জানান। তারা ভােটের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয় যেতে চান। রাজনৈতিক মহলের মতে ফতুল্লা ইউপি নিবার্চনে লুৎফর রহমান স্বপন নৌকার প্রার্থী হলেও জয়ের বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে বলে জানান।সচেতন মহলের মতে ফতুল্লা ৬ জন প্রার্থী থাকায় স্বপনর মাথায় চিন্তার ভাঁজ পরে গেছে। কেননা ভোটের মাঠে প্রার্থী বেশি থাকায় বেকায়দায় রয়েছেন তিনি।
ফতুল্লা ইউপি নিবার্চন স্বতন্র প্রার্থী কাজী দেলােয়ার হােসেন বলেন, আমি ফতুল্লাবাসির দােয়া নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। যেহেতু ফতুল্লায় দীর্ঘ দিন যাবৎ বিভিন্ন সেবা মুলক কাজ কর আসছি সে হিসেবে মানুষ আমাকে চায়। কেননা ইতিমধ্য আমি দলমত নির্বিশষে সর্বস্তরের মানুষের ভালাবাসায় ভোটের মাধ্যমে ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি নিবার্চিত হয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ অনেক দিন পর ফতুল্লায় ভোট দিতে যাচ্ছে। তাই তারা এবার নতুন মুখ বেছে নিতে চায়। এবং ভোটাররাও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে চায়।সেই হিসেবে আমি অথবা এগিয়ে আছি। আশা করি মানুষ আমাকে ভোটের মাধ্যমে জয়ী করবে।
ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ রিপন বলেন, নিবার্চনে যেহেতু প্রার্থী হয়েছি মাঠে থেকে ফলাফল নিয়ে ফিরবো। মানুষ যাকে ভোট দিয়ে নিবার্চিত করবে তাকেই স্বাগত জানাবো। মানুষ এখন তরুণদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে চান। তরুণদের পছন্দের তালিকায় আমি আছি। কিন্তু কোন প্রভাবশালী মহল যদি বসানোর পায়তারা করে কোন কাজ হবে না। মানুষ ভোট দিতে চায়। ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে নতুন মুখ বেছে নিতে চান।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া বলেন, নিবার্চনে যেহেতু প্রার্থী হয়েছি সে হিসেবে হুমকি ধামকি আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যতই হুমকি ধামকি আসুক না কেন আমাকে বসাতে পারবে না। প্রয়াজন লাশ হবো তাও আমাক বসাতে পারবে না। মানুষ আমার ডাকে ভালো সারা দিচ্ছে। একই সাথে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় আমি আছি। আশা করি জয়ী হয়ে মানুষের সেবা করতে পারবো। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নিবার্চনে চেয়ারম্যান প্রার্থী পরেশ চন্দ্র দাস বলন, মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। তরণ প্রার্থী হিসেবে ভোটার মাঝে ভালো সাড়া পাচ্ছি। মানুষ এবার নতুন মুখ দেখতে চায়। তার মাঝে নতুন তালিকায় আমি আছি।
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ৩-৫ ডিসম্বর আপিল নিষ্পত্তি, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৭ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ ডিসেম্বর।


