Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লার গলার কাঁটা গৃহস্থলি বর্জ্য

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১২ পিএম

ফতুল্লার গলার কাঁটা গৃহস্থলি বর্জ্য
Swapno

# ৩০ বছর নির্বাচন না হওয়ায় এখনো সমাধান মিলে নাই
# দীর্ঘদিন ক্ষমতাসিন দলের এমপি থাকা সত্বেও সমাধান হচ্ছে না
# মানুষ নতুন জনপ্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে আছে  

ফতুল্লা ইউনিয়নের কয়েকটি সমস্যার মাঝে অন্যতম সমস্যা হলো গৃহস্থলি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোন স্থান না থাকা। দীর্ঘ ৩০ বছর নির্বাচন না হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ফতুল্লা ইউনিয়নের এলাকা গুলো। তার মাঝে সবচেয়ে প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা।

 

এছাড়াও এখানে ঘরবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় আছে ভুক্তভোগীরা। এখানে ঘরবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলানোর কোন নির্দিষ্ট স্থান নেই। সেই সাথে ফতুল্লা পঞ্চবটি মোড় থেকে শুরু করে ফতুল্লা পোষ্ট অফিস পর্যন্ত জ্যাম যেন এই এলাকারবাসিন্দাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই সমস্যা এলাকাবাসি উত্তোলনের পথ খুঁজলেও তার কোন সদুত্তর মেলে নাই।


এছাড়াও আরো অন্যান্য সমস্যাতো আছেই। তাদের সমস্যা কথা যানাবে এমন ব্যক্তি খুজে পেতে দীন কে দিন প্রহর গুনতে হচ্ছে। কেননা বিগত ১০ বছর যাবৎ ফতুল্লা ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ ৪ জন জনপ্রতিনিধি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আর এজন্য ৯ টি ওয়ার্ডের মাঝে ৫ টিতেই জনপ্রতিনিধিহীন থাকায় মানুষের কষ্টের কথা কারো কাছে বলতে পারেন নাই। আর এনিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। তবে এবার ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন হতে যাওয়া স্থানীয়রা নতুন জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই সমস্যা গুলো সমাধানের দাবী জানান।


এদিকে ফতুল্লা একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ এখানকার ভোটাররা তাদের নিজেদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকায় অবহেলিত ছিল। তাই তারা আর অবহেলিত থাকতে চান না। নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা নির্বাচিত হবে তাদের মাধ্যমে ফতুল্লা জলাবদ্ধতা, গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলানো সমস্যা, যানজট সমস্যার সমাধান চান। যদিও এই সমস্যা সমাধান থেকে কবে মুক্ত হতে পারবে ফতুল্লাবাসী নিজেও জানে না।

 
ফতুল্লার শরীফ জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় নাই। কবে পাবো তাও জানি না। কিন্তু চেয়ারম্যান, এমপিরা এসে শুধু আশ্বাস দিয়ে যায়। প্রতি বছরে কয়েক হাজার মানুষকে জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে চলাচল করতে হয়। এছাড়া ময়লার সমস্যা দিন দিন বিরাট আকার ধারণ করছে। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় যে যেখানে পারছে ওই খানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দুষন করছে। আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা মানছে না মানুষ।
এছাড়া ফতুল্লা পঞ্চবটি এলাকার বাসিন্দা সোহেল জানান, যানজটের সমস্যাতো আমাদের এলাকার মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে আছে। এখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা দূর্বল। এই সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের কোন উদ্যোগ নেই। ফতুল্লার জনপ্রতিনিধি প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান থাকা সত্ত্বেও মানুষ তার সমাধান পাচ্ছে না।  


এদিকে নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী দীর্ঘ ৩০ বছর পর মানুষ আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লার  ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ ১ হাজার ৯শ’ পঞ্চাশ দিন পর এই এলাকার মানুষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিবে। তাই প্রতিটি ভোটার থেকে শুরু করে প্রার্থীদের একটাই দাবাী তারা যেন চেয়ারম্যান , মেম্বার পদে ভোট দিতে পারে। প্রভাবশালি মহল যেন কোন প্রার্থীদের হুমকি ধামকি দিয়ে বসিয়ে দেয়ার চেষ্টা না করে। মানুষের ভোটাধিকার যেন কেরে না নেয়া হয়।


অন্যদিকে দীর্ঘ ৩০ বছর এখানকার নির্বাচন না হওয়ায় ফতুল্লাবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও কিছু ব্যক্তির উন্নয়নের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কিছু প্রভাবশারী ব্যক্তির কারণে এখানকার মানুষ এতোদিন ভোট দিতে পারে নাই। ফতুল্লা ইউপির তফসিল ঘোষণা হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষগুলো এখন ফতুল্লার উন্নয়ন হবে এমন মানুষকে বেছে নিতে চান।


১০ বছর যাবৎ ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, তিনি ১০ বছরে দৃশ্যমান কি উন্নয়ন করেছে তা মানুষ জানতে চায়। ফতুল্লার লালপুর পোষাপুকুর পাড়, দাপা ইদ্রাকপুর, কাইমপুর, ফতুল্লা পাইলট স্কুল সংলগ্ম সড়কে সারা বছর জুড়ে পানিতে ডুবে থাকে। বর্ষাকাল আসলে এই এলাকা গুলোতে নৌকা দিয়ে মানুষের চলাচল করতে হয়। সেই সাথে খোশপাচঁরা রোগ বালাইয়ের কোন শেষ নেই। এমনকি শিক্ষার্থীদের ময়লাযুক্ত পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এনিয়ে ছাত্র ছাত্রী অভিভাবকদের ক্ষোভের শেষ নেই।  
ফতুল্লার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ বছর যাবৎ এখানে নির্বাচন  না থাকায় মানুষ বিভিন্ন সমস্যা পরে আছে। দীর্ঘ দিন পর আমাদের ফতুল্লায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমি মানুষের ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে এই সমস্যা গুলো নিয়ে সবার আগে কাজ শুরু করবো।  আর এজন্য ফতুল্লাবাসিকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষ আমারন ডাকে এগিয়ে আসবেও।


ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়াম্যান প্রার্থী মহসিন মিয়া জানান, দীর্ঘ দিন মানুষ ভোট দিতে না পারায় তাদের মাঝে ক্ষোভ জমে আছে। তাই ভোটাররা এবার চেয়ারম্যান, মেম্বার পদে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। সেই সাথে কোন প্রার্থীকে যেন বসিয়ে দেয়ার পায়তারা না করা হয় আমি দাবী জানাই। ফতুল্লার মানুষ আমাকে যথেষ্ঠ সাড়া দিচ্ছে। আমি জনপ্রতিনিধি হতে পারলে সর্ব প্রথম মানুলে দুভোগ জনিত সমস্যা গুলো সমাধান করবো। এই সমস্যা গুলোও থাকবে না।  


স্বতন্ত্র পদে চেয়ারম্যান প্রার্থী পরেশ দাস বলেন, আমাদের ফতুল্লায় বিভিন্ন  সমস্যায় আছে। তার মাঝে ময়লা আবর্জনা ফেলানো নিয়ে এখানকার মানুষ ভোগান্তিতে আছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা, যানজট সমস্যাতো আছেই। এই সমস্যা সমাধানে আমি এর আগে থেকে কাজ করে আসছি। নির্বাচন জয়ী হতে পারলে আরো বেশি করে কাজ করে যাবো।


ফতুল্লার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন জানান, আমি এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে সবার আগে আমাদের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধাতার সমাধান করবো। এখানকার মানুষের ময়লা ফেলানেরা কোন স্থান না থাকায় মানুষকে যে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তা আর হবে না। মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে এই সমস্যা দূর করবো।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন