স্বপনের বড় বাধা আনারসের দেলোয়ার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৪ পিএম
# চাপ প্রয়োগের পরেও ৩ জন প্রার্থী মাঠে
ফতুল্লা ইউনিয়নের ১০ বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন। তিনি ১৯৯২ সনে ফতুল্লার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার নির্বাচিত হোন। ওই নির্বাচনই ছিল ফতুল্লার সর্বশেষ নির্বাচন। পরবির্ততে ফতুল্লার নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেন বহু আগেই মারা গেছেন। এছাড়াও আরও মারা গেছেন ৫ জন সদস্য (মেম্বার)।
সংরক্ষিত আসনের একজন নারী সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে গেছেন অনেক আগেই। লুৎফর রহমান স্বপন নামের একজন (মেম্বার) সদস্য দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী এবার প্রায় ৩০ বছর পর ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগ মনোননীত নৌকার প্রার্থী খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন সহ চেয়ারম্যান পদে ৪ জন নির্বাচন করছেন।
অন্য ৩ জন প্রার্থী হলেন ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি ও আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখার প্রার্থী শাহজাহান আলী, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী আজম। রাজনৈতিক মহলের মতে স্বপনের বিপক্ষে শক্তিশালি প্রার্থী হলেন আনারসের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। কেননা তারা দুজনে একই বংশের ব্যক্তি। সেই সাথে ফতুল্লায় দেলোয়ারের অনেক সমর্থন থাকায় অনেকটা ব্যাফুটে আছে স্বপন। যা নিয়ে রিতিমত চিন্তায় আছেন।
এদিকে খোজ নিয়ে জানাযায়, নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী ফতুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধতা পায়। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদ থেকে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়। চাপে পরে তারাও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মহসিন মিয়া, মোহাম্মদ রিপন, এবং পরেশ চন্দ্র দাস। তারা প্রত্যেকেই ৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু শত বাধা উপেক্ষা করে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে ভোটের মাঠে টিকে থাকেন নৌকারে প্রার্থী সহ ৪জন। তাদের একটাই দাবী ফতুল্লায় যেন কেউ পেশি শক্তি কায়েম করতে না পারে। নৌকার বিপক্ষে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন কাজী দেলোয়ার হোসেন এমনটাই জানান তিনি।
ফতুল্লার একাধিক ব্যক্তি জানান, ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী স্বপনের সাথে প্রধান লড়াই হবে আনারস প্রতীকের প্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেনের মাঝে। কেননা দেলোয়ার আশির দশক থেকে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে সামাজিক মূলক কাজ করে আসছে। তাকে ফতুল্লার মানুষ চিন জানে। ফতুল্লা নির্বাচনে ৩জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে বসিয়ে দিলেও দেলোয়ার হোসেনকে বসাতে পারেন নাই। তবে তাকেও বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় একটি প্রভাশালী মহল। আর এজন্য সচেতন মহলের মতে তাকেই স্বপনের বিপক্ষে হেভিওয়েট প্রার্থী মনে করেন। সেই সাথে স্বপনের জয়ের জন্য তিনি বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন। তার কারনে স্বপন এককভাবে চেয়ারম্যান হতে পারেন নাই। ভোটের লড়াইয়ে যে জয়ী হবে সেই হবে ফতুল্লার চেয়ারম্যান।
ফতুল্লা ইউপির চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি সব সময় ফতুল্লা মানুষের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করেছি। করোনার সময় ফতুল্লায় তেমন কোন জনপ্রতিনিধি ছিলনা তখনও মানুষের পাশে ছিলাশ। এখানকার ভোটারদের ভোটাধিকার যেন কেরে না নিতে পারে তার জন্য আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি চাই আমাদের ফতুল্লার মানুষ যেন সঠিক ভাবে ভোট দিতে পারে। আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমানের স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়।


