# দীর্ঘমেয়াদের ভারপ্রাপ্ত থেকেও পিছিয়ে ভারমুক্ততেও সংশয়
# যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে নামার সুযোগই পায়নি
# মন্দের ভালোকেই বেঁছে নেবে ইউনিয়নবাসী
দীর্ঘ ৩০ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় ওই এলাকার ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বইছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এই ইউনিয়নের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯২ সনে, তখন নুর হোসেন নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে কয়েক বছর পরে তিনি মারাযান। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন ঠেকাতে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের কুতুবআইল এলাকার বাসিন্দা কদর আলী। ১৯৯২ নির্বাচনের পরে এবার প্রায় ৩০ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালি মহলের ইশারায় এখানকার নির্বাচন হয় নাই। ফতুল্লার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন লড়াইয়ে নেমেছে। তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখা প্রতীক নিয়ে প্রচারনায় নেমেছে শাহ জাহান আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি কাজী দেলোয়ার হোসেন এবং ঘোড়া প্রতীক নিয়ে আছেন আলী আজম। তারা প্রত্যেকেই ফতুল্লার চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে চান। কিন্তু ভোটাররা কাকে বেছে নিবে তারা নিজেরাও তা জানেনা। ফতুল্লার ভোটারদের দাবী তারা এবার ভোট দিতে চান। সেই সাথে সঠিক যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে চান। এছাড়া নির্বাচনের আগেই যোগ্য প্রার্থীদের নানা ছলচাতুরি করে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ১০ বছর যাবৎ ফতুল্লা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপন। তার দাবী তিনি বিগত ১০ বছরে যেভাবে এলাকার রাস্তাঘাটের কাজ করেছে সে হিসেবে মানুষ তাকে এবারও ভোট দিবে। এছাড়াও করোনা কালিন সময়ে বিভিন্ন অসহায় মানুষের পাশে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফতুল্লার এমপি শামীম ওসমানের আশীর্বাদও তার উপর আছে। এই প্রভাবশালি নেতার আর্শিবাদ যার উপর থাকে সে অনেক ফুরফুরে থাকে। কিন্তু স্থানীয়রা জানান স্বপন তার আশীর্বাদ পেয়েও অনেকটা ব্যকফুটে আছে। কারন তিনি চেয়েছিলেন একক ভাবে যেতে।
অন্যদিকে স্বপনের বিপক্ষে ৩ জন প্রার্থী মাঠে আছে। তার মাঝে আশি দশকের তোলারাম কলেজের তুখোর ছাত্র নেতা এবং ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। ফতুল্লায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী হলেও স্বপন এবং হোসেনের মাঝে মূল লড়াই হবে। ইতিমধ্যে দেলোয়ার হোসেন মানুষের মাঝে ভালো সারা পেয়েছেন বলে জানান। সেই সাথে তিনিও নিজ উদ্যোগে করোনার সময় বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। দলমত নির্বিশেষে ফতুল্লার মানুষের মাঝে নিজের ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন। তার দাবী স্বপন চেয়ারম্যান থাকাকালীন তেমন কোন এলাকার উন্নয়ন হয় নাই। ফতুল্লার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতার নিরসন হয় নাই। আর এজন্য তাকে এবার ভোটাররা লা কার্ড দেখাতে পারে। এছাড়াও ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরো ২জন প্রার্থী থাকায় স্বপনের ভোট ব্যাংক কমতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
সচেতন মহলের মতে, ফতুল্লা ইউপির তফসিল ঘোষণা হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষ গুলো এখন ফতুল্লার উন্নয়ন হবে এমন মানুষকে বেছে নিতে চান। তারা যোগ্যব্যক্তিকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে। কেননা ফতুল্লাবাসি আর উন্নয়ন বঞ্চিত থাকতে চান না। কে বসবে ফতুল্লার ইউপি চেয়ারম্যানের চেয়ারে তা ভোটের মাধ্যমে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ হবে। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে।
ফতুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনের আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ‘আমি এতোদিন যাবৎ মানুষের জন্য যেভাবে নিস্বার্থভাবে কাজ করেছি তার প্রতিদান ফতুল্লার মানুষ আমাকে দিবে। সকাল বিকাল সব সময় আমি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করেছি। আমি চাই নির্বাচনে প্রতিটা প্রার্থী শেষ পর্যন্ত থেকে লড়াউ করুক। মানুষ যেন উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে। আমার দল থেকে মনোনীত হয়ে নৌকার প্রতীক নিয়ে আমি প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। মানুষ আমার ডাকে সারা দিচ্ছে। তারা আবার আমাকে পেতে চায়। আমি বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। ফতুল্লাবাসীর সেবক হয়ে আজীবন কাজ করে যেতে চাই। আশা করি ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়ে ফতুল্লার সেবক হয়ে কাজ করতে পারবো।’
স্বতন্ত্রপ্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফতুল্লাবাসী যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই নির্বাচিত করবে। আমি চাই প্রতিটা মানুষ যেন তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারে। এখানকার মানুষ দীর্ঘ দিন ভোট দিতে পারে নাই। এবার তারা ভোটের মাধ্যমে সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নিতে চান। সেই হিসেবে আমি মনে করি মানুষ আমাকে বেছে নিবে। আমি যখন তোলারাম কলেজের ছাত্র রাজনীতি করি তখন থেকে মানুষের পাশে আছি। সেই থেকে সকল মানুষের আপদে বিপদে দলমত ঊর্ধে গিয়ে কাজ করে যেতে চাই। এখন মানুষ অনেক সচেতন, ফতুল্লার মানুষ এতোদিন অবহেলিত থাকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে এবার লালকার্ড দেখাতে পারেন। মানুষ চায় উন্নয়ন। আর আমি ভোটে জয়ী হলে দলমত উর্ধে গিয়ে সকলকে নিয়ে এখানকার সমস্যা গুলো সবার আগে সমাধান করবো। আমি বিশ্বাস করি মানুষ আমাকে বেছে নিবে।’


