Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় চাচার সাথে ভাতিজার টক্কর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪৩ পিএম

ফতুল্লায় চাচার সাথে ভাতিজার টক্কর
Swapno

# ভাতিজার টেনশনে ঘুম হারাম চাচার
# মানুষ পরিবর্তন চায় বলে আশাবাদী ভাতিজা


ভাষ্যমতে নির্বাচন হলো নিজেকে যাচাই বাচাই করে নেয়ার একটি মাধ্যম। ইতিমধ্যে তার বিপক্ষে ৩ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়েছেন মাঠে আছে। কিন্তু এর মাঝে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আলী আজমকে এখনো পর্যন্ত কেউ দেখে নাই। এমনকি ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে তার কোন পোষ্টার ব্যানার নেই। সেই সাথে নেই কোন প্রচারণা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি কাজী দেলোয়ার হোসেন আনারস মার্কা নিয়ে মাঠ চষে বেরাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাত পাখা নিয়ে আছে শাহ জাহান আলী। তিনিও এখনো পর্যন্ত মাঠে নামেন নাই।

 

চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থী হলেও তার মাঝে ২ প্রার্থী আলী আজম এবং শাহ জাহান আলীকে ফতুল্লার মানুষ এখনো পর্যন্ত দেখেন নাই। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বপন জয়ী হওয়ার জন্য নিজস্ব কুটকৌশলে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। মাঝ খানে স্বপনের বিষফোড়া হয়ে উঠেছে দেলোয়ার হোসেন। রাজনৈতিক মহলের মতে স্বপনের বিপক্ষে দেলোয়ার হোসেনকে শক্তিশালি প্রার্থী হিসেবে মনে করেন ফতুল্লাবাসি। নতুন মুখ হিসেবে স্বপনের জন্য হোসেন বিরাট বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। সব দিক দিয়ে বিপদে আছে স্বপন।


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ফুতল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপন এবং ফতুল্লা বাজার কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ীর সন্তান। তারা সম্পর্কে একে অপরে চাচা ভাতিজা হয়। অর্থাৎ দেলোয়ার হোসেন সম্পর্কে স্বপনের ভাতিজা হন। ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনে এই চাচা ভাতিজার মাঝে মূল লড়াই হবে। মাঠে শক্তিশালি প্রার্থী হিসেবে ভোটাররা তাদের দুজনকে চিনে এবং জানে। আর এনিয়ে ফতুল্লায় ব্যাপক সারা পেয়েছে তারা।  সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন, চাচা কি ভাতিজার সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে নাকি মাঠ ছেড়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে। যদিও চাচা নৌকার প্রার্থী আর ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কা নিয়ে ভোটার দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। কিন্তু নৌকার প্রার্থী স্বপন ভোটারদের পাশা পাশি গুরুর দরবারে যাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফতুল্লার প্রভাবশালি নেতাকে তারা গুরু হিসেবে সম্বোধন করেন। গুরুর দরবারের আশীর্বাদ পেলেই তার জয় অনেকটা নিশ্চিত। তাই গুরুর দরবারে যেতে তিনি ভুলে যান নাই।  


কিন্তু ফতুল্লার মানুষ এবার পরিবর্তনের দিকে নজর দিচ্ছে। পরিবর্তনের দিক দিয়ে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছে আশির দশকের তোলারাম কলেজের তুখোর ছাত্র নেতা স্বপনের ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন। ফতুল্লার মানুষ দীর্ঘ দিন ভোট দিতে না পারায় নৌকা মার্কা মানুষের মাঝে এক ধরনের এলার্জি হয়ে আছে। ফতুল্লাবাসির মতে এই মার্কাকে ভোটাররা অনেকে অপছন্দ করেন। সেই সাথে দীর্ঘ দিন ভোট দিতে না পারায় তাদের মাঝে এক প্রকার ক্ষোভ জমে আছে। তাই এবার ফতুল্লাবাসি নতুন ব্যক্তিকে বেছে নিতে চান। তার জবাব দিবে ভোটের মাধ্যমে। তবে চেয়ারম্যান পদে চাচা ভাতিজা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শেষ পর্যন্ত ভাতিজা চাচার সাথে লড়াইয়ে টিকে থাকবে কি না তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসিন দলের নৌকার প্রার্থী স্বপন বসে পড়ার অবস্থায় নেই। তবে দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে শঙ্কায় আছে ভোটাররা। আনারস প্রতীকের দোলোয়ারের দাবী তাকে কেউ অর্থের লোভ দেখিয়েও বসাতে পারবে না। এবং তিনি মাঠে থেকে মানুষের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের লড়াই করে যাবেন।


স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফতুল্লার মানুষ এবার পরিবর্তন চান। তারা যদি ভোট প্রয়োগ করতে পারে আমার বিশ্বাস এখানে পরিবর্তনের বিপ্লব ঘটবে। নতুন প্রার্থী হিসেবে আমি মানুষের আস্থার জায়গায় আছি। কেননা আশির দশকে আমি ছাত্র রাজনীতিতে থাকা কালিন এই এলাকার মানুষের পাশে আছি। জনপ্রতিনিধি হই আর না হই সব সময় মানুষের পাশে থেকে সেব করে যাবো। সেই সাথে নৌকার প্রার্থী স্বপন সম্পর্কে আমারই চাচা হন। তার জন্যও আমি মানুষের কাছে দোয়া চাই।’  


অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী স্বপন বলেন, ‘আমি চাই নির্বাচনে যারা প্রার্থী আছে তারা শেষ পর্যন্ত থাকুক। আমি এতোদিন যে পরিমান কাজ করেছি তার ফল হিসেবে ভোটের মাধ্যমে মানুষ আমাকে বেছে নিবে। এছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই বাচাই করে নেয়া যাবে। আশা করি মানুষ আমাকে ভোটের মাধ্যমে জয়ী করে আবারো সেবা করার সুযোগ দিবে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন