হোসেনের দৌঁড়ে স্বপনের নাভীশ্বাস
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৩ পিএম
# হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় স্বপন
# বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা
স্থানীয় নির্বাচনের ২য় ধাপে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের নির্বাচন ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। তখন এই উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাড়া কাশিপুর,গোগনগর, বক্তাবলী, এনায়েত নগর,কুতুবপুর,আলীরটেকের নির্বাচন হয়। কিন্তু ২য় এবং তৃতীয় ধাপে ফতুল্লা ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হওয়ায় এখানকার মানুষ অনেকটা ধরে নিয়েছে এবারও বুঝি ফতুল্লার নির্বাচন হবে না। তবে সব জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে অবশেষে ৪র্থ ধাপে ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ায় উচ্ছসিত হন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই দিন ভোটাররা বেছে নিবে ফতুল্লার চেয়ারম্যানের চেয়ারে কাকে নির্বাচিত করবে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ফতুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের সাথে আনারস প্রতীকের দেলোয়ার হোসেনের মাঝে মূল লড়াই হবে। তাদের ছাড়া আরও দুজন প্রার্থী থাকলেও ওই দুজন নিয়ে ভোটারদের মাঝে তেমন একটা আলোচনা নেই। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে নৌকার প্রার্থী স্বপন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কার হোসেনের মাঝে ভাগ শিংহে লড়াই হবে। স্বাভাবিক ভাবে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে শক্তিশালি হিসেবে ধরা হয়। তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী দোলোয়ার হোসেন স্বপনের ভাতিজা হওয়ায় তাকেও সচেতন মহল হেভিওয়েট প্রার্থী মনে করেন। আর এ জন্য তাদের দুজনের ভাগে শিংহে লড়াই হবে বলে জানান স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় নৌকার প্রার্থীদের সাথে অনেক দুর্বল প্রার্থীও জয় পেয়েছে। তার মাঝে বন্দরের ধামঘর ইউনিয়ন নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম নৌকা প্রতীক পেয়েও তার প্রতিপক্ষ দূর্বল স্বতন্ত্র প্রার্থী কামালের কাছে পরাজিত হন। অন্য দিকে কাশিপুরে হাত পাখার প্রার্থী নির্বাচনের আগের দিন শাহ জাহান আলী বসে পরেও কোন প্রচার প্রচারনা না করে এমনকি পোলিং এজেন্ট ছাড়াই শুধু মার্কা দিয়ে প্রায় ১৩ হাজার ভোট পান। যা পুরো শহরে আলোচনা তৈরী হয়। তাই সর্বমহলে আলোচনা হচ্ছে ফতুল্লায় স্বপনের অবস্থায় নরেবরে থাকায় এখানে তার কপাল পুড়তে পারে।
এদিকে সচেতন মহলের মতে ফতুল্লা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী স্বপন অনেকটা হেরে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন। কেননা গত দশ বছরে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে থেকেও ফতুল্লার জলাবদ্বতা, বর্জ্য ফেলানো এবং পঞ্চবটি থেকে পোষ্ট অফিস পর্যন্ত জানযটের সমস্যা নিয়ে তেমন কোন সমাধান করতে পারেন নাই। তার এই ব্যর্থতার জন্য ভোট ব্যাংক কমেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্বমহল। তাই তিনি এবার ভোটারদের দ্বারে না গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির দরবারে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছেন। সেই সাথে স্বপন যাকে গুরু বলে মানেন সেই ফতুল্লার প্রভাবশালি নেতার দরবারে যেতেও মিস করেন নাই। আর এনিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সেই গুরু তাকে এবার পার করাতে পারবে কি। নাকি নৌকা এনে দিয়ে তার কাজ শেষ। এমন অনেক প্রশ্ন নিয়ে চির চেনা রূপে বিশ্লেষণ করছেন সুধীমহল।
অন্যদিকে স্বপনের বিপক্ষে শক্তিশালি স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন ভোটার দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে ছোট থেকে মুরুব্বি এমনকি কোন আবাল বৃদ্ধ নারী পুরুষের কাছে ভোট চাইতে বাদ রাখেন নাই। তার তেমন একটা দরবার না থাকায় তিনি মানুষের উপর আস্থায় আছেন। কিন্তু আনারস প্রতীকের দাবি তাকে এবার মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। কেননা মানুষ যে কোন সময় তাকে ডেকেছে তখনি তার ডাকে তিনি সারা দিয়েছেন। তাই হোসেন ভোটারদের উপর আস্থা রেখেছেন। মানুষ এখন অপেক্ষায় আছেন ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লায় কে নির্বাচিত হন। ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে কাকে বেঁছে নিবেন তা ওই দিনই জানা যাবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে।


