# স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী স্বপন দিশেহারা
# ৭২ হাজার ভোটারদের পছন্দ নতুন প্রার্থী
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নে ৩০ বছর পরে নির্বাচন জমে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচ অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় উৎসবের আমেজে মেতেছে ফতুল্লাবাসী। বাড়ি-ঘর থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে নির্বাচনি আলোচনা। কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ফতুল্লার উন্নয়ন অব্যহত রাখবে সেই আলোচনাই সর্বত্র। তবে সবার কথা একটাই ‘সুষ্ঠ নির্বাচন হোক এবং সুন্দর ভাবে যাতে ভোট দিতে পারি। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী ফতুল্লায় এবা ৭২ হাজার নতুন ভোটার ভোট প্রয়োগ করবে। নতুন ভোটারদের একটাই কথা তারা এবার নতুন প্রার্থীকে ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়াারম্যান নির্বাচিত করতে চান। নতুন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নতুন উদ্যোমে কাজ হবে বলে তারা জানান।
খোজ নিয়ে জানাযায়,ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান পদে চেয়ার দখলের জন্য ৪ জন ব্যক্তি প্রতীক নিয়ে মাঠে আছে। এর মাঝে নতুন প্রার্থী রয়েছে ৩ জন। নতুন প্রার্থীদের মাঝে ৩ জন হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী আজম নামের এক ব্যক্তি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে তিনি এখনো প্রচারনায় নামেন নাই। ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখার প্রার্থী শাহ জাহান আলী পোষ্টার ও ব্যানার ফেস্টুনে সিমাবদ্ধ। শক্তিশালি প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান ফতুল্লা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপন। তার বিপক্ষে হেভিওয়েট প্রার্থী স্বপনের ভাতিজা কাজী দেলোয়ার হোসেন আনারস মার্কা নিয়ে মাঠে আছে।
ফতুল্লার একাধিক ব্যক্তি জানান, ফতুল্লা ইউনিয়নের মানুষ এবার দীর্ঘ দিন ভোট দিতে যাচ্ছে। এখানে যাকে দিয়ে উন্নয়ন হবে ভোটাররা তাকেই বেছে নিবে। তা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে। কিন্তু ফতুল্লায় এবার নতুন ভোটার বেশি। নতুন ভোটাররা যাকে নির্বাচিত করতে চায় সেই হতে পারে ফতুল্লার চেয়ারম্যান। তারা নতুন প্রার্থীদের বেছে নিতে চায়। নতুন প্রার্থী হিসেবে ভোট ব্যাংক বেশি আছে হোসেনের। এছাড়াও হাত পাখার প্রার্থীসহ আরও দুজন নতুন প্রার্থী আছে। তাদেরকেও একে বারে বাদ দেয়া যাবে না। যেহেতু ভোট দিবে ভোটাররা সে হিসেবে নির্বাচনে মাঠে প্রার্থীদের কাউকে দূর্বল ভাবা যাবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে চেয়ারম্যান পদে মূল লড়াই হবে চাচা ভাতিজার মাঝে। আনারস মার্কার প্রার্থী হোসেন এবং নৌকার প্রার্থী স্বপন সম্পর্কে চাচা ভাজিা হন। হোসেন জানান স্বপন তার চাচা হন। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের ডেমকেয়ার হিসেবে উল্লেখ্য করেন স্থানীয়রা।
এদিকে নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী ফতুল্লা ইউনিয়নে এবার নতুন ভোট প্রয়োগ করবে ৭২ হাজার ৬৪২ জন ভোটার। ফতুল্লা নির্বাচনে মোট ভোট প্রয়োগ করবে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৪৭ জন ভোটার। এর মাঝে পুরুষ ভোটার হলো ৬১ হাজার ৯৪৫ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০২ জন। ফতুল্লা সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সনে। তখন ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার ছিল সংখ্যা ৫১ হাজার ৫৯ জন। তার মাঝে পুরুষ ২৭ হাজার ১১৫ এবং নারী ২৩ হাজার ৯৪৪ জন। তখন নুর হোসেন নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে কয়েক বছর পরে তিনি মারাযান। পরে ১৯৯৬ সালে ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন ঠেকাতে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের কুতুবআইল এলাকার বাসিন্দা কদর আলী। এর মাঝে ১০ বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন লুৎফর রহমান স্বপন। ১৯৯২ নির্বাচনের পরে এবার প্রায় ৩০ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
ফতুল্লার স্থানীয়রা জানান, এখানে দীর্ঘ দিন পর নির্বাচন হতে যাওয়ায় এবার ফতুল্লাবাসী এবার ভোট প্রয়োগ করতে পারবে। তাই মানুষ জেনে বুঝে শুনে যোগ্যপ্রার্থীকে ভোট দিবে। যাকে দিয়ে ফতুল্লার উন্নয়ন হবে তাকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বপন ১০ বছর যাবৎ ফতুল্লা ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু এতো বছর দায়িত্ব পালন করার পরেও তিনি ওই এলাকার মূল সমস্যা জলাবদ্বতা, বর্জ্যফেলানোর ব্যবস্থা করতে না পারায় তার থেকে নতুন ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই তার এবার ভোট ব্যাংক কমতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ইমন বলেন, এই প্রথম ফতুল্লা ইউনিয়নে ভোট দিতে যাচ্ছি। যাকে দিয়ে আমাদের উন্নয়ন হয় নাই আমরা তাকে ভোট দিবো না। আমরা এবার নতুন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই। কেননা নতুন প্রার্থী জয়ী হলে এখানে সে নতুন উদ্যোমে কাজ করতে পারবে। এক্ষেত্রে নতুন প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় আনারস মার্কার হোসেন আছেন। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন ভাবে সামাজিক মূলক উন্নয়ন কাজ করে ফতুল্লায় ভোট ব্যাংক তৈরী করেছে। স্বপনের কাছে মানুষ নাগরিক সেবায় পেতে ভোগান্তি পাওয়ায় তার থেকে মানুষ দূরে সরে গেছে। আর এজন্য তান কপাল পুরতে পারে। নৌকার প্রার্থী লুৎফর রহমান স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়।
ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস মার্কার হোসেন জানান, আমাদের ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করবে। তাই তারা এখানে চেয়ারম্যান পদে নতুন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। তার মাঝে নতুন প্রার্থী হিসেবে আমি নতুন ভোটারদের আস্থার জায়গায় আছি। তারা ফতুল্লায় নতুন উদ্যোমে উন্নয়ন মূলক কাজ চায়। এই হিসেবে আমি নতুন এবং পুরাতন ভোটারদের নিয়ে ফতুল্লাকে নতুন উদ্যোমে সাজাতে চাই। ফতুল্লার ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করলে এখানকার উন্নয়ন মূলক কাজ গুলো তাদের নিয়ে আমি বাস্তবায়ন করবো। আশা করি নতুন ভোটাররা আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে।


