তিনি সব সময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান। তিনি মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তাঁরই ভাতিজা বিল্লাল হোসেন একই স্কুলের দাতা সদস্য।
গত এনায়েতনগর ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনে বিল্লাল সামান্য ভোটে আব্দুল জলিলের কাছে পরাজিত হন। আর এর পর থেকেই চাচা মান্নানের সাথে বিল্লালের চলে আসছে মনোমালিন্য। আগামী কয়েক মাস পরই মুসলিমনগরন কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগে নিয়মঅনুযায়ী দাতা সদস্যের নির্ধারণ করতে হয়। বিল্লাল দাতা সদস্য হিসেবে এবারও ফরম ক্রয় করার পর পর মান্নান চার জনের জন্য ফরম ক্রয় করেন।
এতে বিল্লালও পাঁচ জনের জন্য দাতা সদস্যের ফরম ক্রয় করেছেন। এ নিয়ে মুসলিমনগরে চলছে নানা মুখরোচক গল্প। অপরদিকে মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের চাচা ভাতিজার লড়াইকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কতোদূর গিয়ে ঠেকবে তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মুসলিমনগর নয়াবাজারে অবস্থিত কেএম উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার গুনগত মান রক্ষার্থে নিরলসভাবেই পাঠ দান করে যাচ্ছে শিক্ষকরা। তবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে মাঝে মধ্যে নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ব
র্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে এমএ মান্নান দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকেই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। মান্নানের ভাতিজা বিল্লাল গত ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। বিপুল পরিমান ভোটও বিল্লাল পেয়েছিলেন। কিন্তু অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে বিল্লালকে অপর প্রার্থী আব্দুল জলিলের কাছে পরাজিত হতে হয়। ইউপি নির্বাচনের আগে ভাতিজা বিল্লালের জয়ের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেননি মান্নান।
এছাড়াও কোনো গনসংযোগেও দেখা মিলেনি তাঁর। নির্বাচনে বিল্লাল পরাজিত হওয়ার পর মান্নানের সাথে বাকবিতন্ডাও হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র। তবে ইউপি নির্বাচনে এলাকায় মান্নানের কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনেই বিল্লালের পরাজয় হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।
মান্নান মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং সভাপতি। বর্তমান কমিটিতে বিল্লাল দাতা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষের দিকে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের ৬ মাস পূর্বে দাতা সদস্য ফরম বিতরণ করা হয়। বিল্লালও এবছর যথারীতি দাতা সদস্য ফরম ক্রয় করেন। ভাতিজা বিল্লালকে ঠেকাতে মান্নান চার ব্যাক্তির নামে আলাদা আলাদা চারটি দাতা সদস্য ফরম ক্রয় করেন। এমন ঘটনায় বিল্লাল তার চাচাকে জবাব দিতে নিজেই ৫টি দাতা সদস্য ফরম ক্রয় করেছেন। এনিয়ে মুসলিমনগর এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য নিয়ে চাচা-ভাতিজার লড়াইয়ে এবার কার জয় পরাজয় হয় এ নিয়েও চলছে জল্পনা কল্পনা।
এব্যাপারে বিল্লাল হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, মান্নান বিদ্যালয়ের সভাপতি। অপরদিকে তিনি ছিলেন দাতা সদস্য। আগামী রমজান মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দাতা সদস্য হিসেবে তার চাচা ফরম ক্রয় করেছেন। তিনি যেহেতু বর্তমান কমিটির দাতা সদস্য সেই হিসেবে তিনিও এবার ফরম ক্রয় করেছেন। তবে তিনি অন্য চার জন ব্যক্তির নামে যে ফরম ক্রয় করেছেন তা অসত্য বলে দাবী করেন। এছাড়াও মান্নান কয়টি ফরম সংগ্রহ করেছেন এ ব্যাপারে তিনি অবগত নয় বলেও জানান।


