Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

কাঁচপুর থেকে মেঘনা অবাধে চলছে তিন চাকার নিষিদ্ধ যান

Icon

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ পিএম

কাঁচপুর থেকে মেঘনা অবাধে চলছে  তিন চাকার নিষিদ্ধ যান
Swapno

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকা এখন অরক্ষিত। ট্রাফিক আইন না মেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম এমহাসড়কে অবাধে চলছে তিন চাকার নিষিদ্ধ ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও বটবটিসহ বিভিন্ন যান।

 

দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এমহাসড়কের বিভিন্নস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করলেও কাঁচপুর, মদনপুর, কেওডালা, দড়িকান্দি ও মোগরাপাড়া এলাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। যার ফলে কয়েক দিন পর পর ঘটছে মারাত্বক সড়ক দূর্ঘটনা। গত এক বছরে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে।

 


সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের কাঁচপুর, মদনপুর, কেওডালা, দড়িকান্দি, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা সেতু এলাকার বিভিন্নস্থানে অবস্থান করে দেখা যায় পুরো সড়ক অরক্ষিত। এমহাসড়কে অবাধে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও বটবটিসহ উল্টোপথে চলছে বিভিন্ন যানবাহন। কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানা হচ্ছে না। পুলিশের চক্ষু ফাঁকি দিয়ে উল্টোপথে চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন ও সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ইজিবাইক, নসিমন, বটবটি ও অটোরিকশা।

মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে নিয়োজিত কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সামনে দিয়ে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন। হরহামেসা উল্টোপথে তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচলের কারণে কাঁচপুর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সময় ঘটে দূর্ঘটনা।


মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ও বন্দরগামী যেসব পন্যবাহী ট্রাক ও লরি মদনপুর-জয়দেবপুর (ঢাকা বাইপাস) সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে। উল্টোপথে নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে অনেক সময় মহাসড়কের দুপাশে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের সামনেই দেখা গেল মহাসড়কের ওপর অবৈধ যানবাহনের রীতিমত স্ট্যান্ড বানিয়ে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করছে। তাছাড়া পথচারীদের জন্য ফুট ওভার ব্রিজ থাকা স্বত্বেও পথচারী ব্রিজের নিচে মাত্র ৩০ গজ দুর দিয়ে পুলিশের সামনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী শিশু ও পথচারীরা সড়ক পারাপার হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মদনপুর এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে পথচারীরা সড়ক পারাপার হওয়ায় এবং উল্টোপথে নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।


হাইওয়ে পুলিশের একজন সদস্য জানান, আমরা নিষেধ করলেও অবৈধ যানবাহন কোনো ভাবেই বন্ধ রাখতে পারছি না। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী এসব যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর মানুষ সচেতন না হওয়ার কারণে কয়েকটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ থাকা স্বত্বেও নিচ দিয়ে লাফিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে প্রায় সময় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।


সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা জানান, সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও বটবটি চলাচল করে। মহাসড়ক দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করতে পুলিশকে তাদের প্রতি যানবাহন বাবদ ঘুষ দিতে হয়। তাছাড়া একটি শ্রমিক সংগঠনকে আলাদা চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা দিয়েই তারা মহাসড়ক ব্যবহার করার সুযোগ পান।


ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক আব্দুর রহমান জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কিভাবে সরকারের নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করে তা সবাই ভালো করেই জানে। মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত দূর্ঘটনার প্রধান কারণ এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। এসব যানবাহন বেশির ভাগ সময়েই উল্টোপথে চলাচল করে।


সোনারগাঁ থানা ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় গত এক বছরে ৫৯ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে প্রায় ৩০ জনের প্রানহানি ও অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানী ঘটে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।


সোনারগাঁ নাগরিক কমিটির সদস্য ও লেখক জামান ভূইয়া জানান, মানুষ সচেতন না হওয়ার কারণে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে স্থাপিত ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না। তাছাড়া পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। এ কারণে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।


কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ করিম খান জানান, যানজট নিরসনে ও দূর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার লক্ষে আমি নিজে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে পথচারী ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নিষিদ্ধ যানবাহন হয়তো চলাচল করে। আমরা এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন