নাসিক ১নং ওয়ার্ডে চতুর্মুখী লড়াই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৯ পিএম
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী থাকলেও মূলত চতুর্মুখী লড়াই হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্ধারা। গত ২০ ডিসেম্বর সোমবার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেছেন বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক, সাবেক কাউন্সিলর মো: আব্দুর রহিম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের জৈষ্ঠপুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: আনোয়ার ইসলাম ও তাঁর বড় ছেলে মো: মাহাবুব আলম, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মালিক।
নির্বাচনী মাঠে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক, সাবেক কাউন্সিলর মো: আব্দুর রহিম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের জৈষ্ঠপুত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মো: আনোয়ার ইসলাম। শতকোটি টাকার উন্নয়নের ঝুলি, করোনা মহামারী কালে সাধারণ নাগরিকদের ত্রান সহায়তা এবং অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভোট যুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক।
এ ওয়ার্ডের আরেক শীর্ষ প্রার্থী হচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তিন তিন বারের নির্বাচিত মেম্বার এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম। ওয়ার্ডবাসীর শিক্ষা বিস্তারসহ নানামূখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে বেশি সময় ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। গত নির্বাচনে তাঁরই ছোটভাই বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম প্রতিদ্বন্ধিতা করায় তিনি পরাজিত হন। এবার দুই ভাই এক হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। সে লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুর রহিম।
অপরদিকে, নতুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের জৈষ্ঠপুত্র, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহমুদুর রহমান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হওয়ায় তাঁর ছেলেকে নিয়ে আট-ঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ছেলেকে বিজয়ী করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মজিবুর রহমান। মাহমুদুর রহমান প্রার্থী হওয়ায় এ ওয়ার্ডের নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ হবে বলে ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশা।
এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন অপর কাউন্সিলর প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি আনোয়ার ইসলাম। এরআগেও দুই বার প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন তিনি। এবার আগে থেকেই মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আনোয়ার ইসলাম। বিগত দিনে সামাজিক কর্মকান্ড ও অসহায় মানুষকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে তিনিও এলাকায় একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। এবার সে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এছাড়া তার বড়ছেলে মাহবুব আলমও এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল মালিক। তারাও নিজেদের পক্ষে এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্ব পাড়া, পাইনাদী পূর্ব পাড়া ও বাতেনপাড়া এলাকাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩,১০৫ ভোট। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬,২৭৮ জন, নারী ভোটার ১৬,৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
এ ওয়ার্ডে প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়াদকালে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পান্ন হয়েছে এবং ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ ওয়ার্ডে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও বেরেছে ভুমিদস্যুতা, চাঁদাবাজী, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া মশার উপদ্রুপে ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। অপরদিকে জন্মনিবন্ধনের নিয়ম কানুনের কারণে সাধারণ জনগণ সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করে। ওয়ার্ড বাসী আগামী দিনে এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নতুন প্রার্থীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর প্রার্থীরাও এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে বর্তমান কাউন্সিলর ওমর ফারুক বলেন, আমি গত ৫ বছরে ওয়ার্ডবাসীর জন্য রাস্তা-ড্রেনসহ ১০৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি এবং বর্তমানে আরো ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। আর করোনা মহামারীর কালে ওয়ার্ডেবাসীর পাশে থেকে ত্রান সহায়তা দিয়েছি। আমার ওয়ার্ডবাসী আমার কাজে সন্তোষ্ট। করোনার কারণে আমি তিন বছর কাজ করতে পেরেছি বাকি দুই বছর কাজ করতে পারি নাই। এছাড়া বিগত ৫ বছর এ ওয়ার্ডের তেমন কোন কাজ হয় নাই। সেই দিক দিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি বলেও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা খুশী।
আমার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান লক্ষ্য ছিল মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা। আমার এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূলে সফল হলেও মাদকটি পুরোপুরি নির্মূল করতে পারি নাই। এ কারণেই পারিনাই যারা মাদক সেবন কররে ও বিক্রি করে তাদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে বলেই আমি মাদক পুরোপূরি নির্মূল করতে পারি নাই। যারা মাদক সেবন করে ও বিক্রি করে তারাই কিশোর গ্যাংকে শেল্টার দেয়। এ জন্যই আমি সেটা নিয়ন্ত্রন করতে পারি নাই। আমি এ বিষয়টি নানান সময় প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতাও পেয়েছি। আমি সুখে-দু:খে ওয়ার্ডবাসীর পাশে ছিলাম। আমি সাধ্য অনুযায়ী ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ওয়ার্ডবাসীর প্রতি আমার শতভাগ বিশ্বাস রয়েছে তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।
সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম মেম্বার বলেন, আমি ১৯৮৮ সাল থেকে তিন বার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়াদের নির্বাচনে ২০১১ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ৮৮ সালে এ ওয়ার্ডে ২২০০ ভোট ছিল বর্তমানে ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার। আমি বিগত দিনে জনপ্রতিনিধি থাকা অবস্থায় কারো কাছ থেকে ৩০টি টাকাও নেইনি। ওয়ার্ডবাসীর শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ৩০ বছর আগে পৈত্রিক সম্পত্তি দান করে রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এ পর্যন্ত হাজার হাজার ছাত্রকে বিনামূল্যে লেখা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। আপনারা ওয়ার্ডবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করুন এ ওয়ার্ডে কার অবদান বেশি। জনগণই আগামী ১৬ জানুয়ারী তাদের মূল্যবান ভোটে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবে। এ ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই। আমি সব সময় জনগণের উপর নির্ভরতা রয়েছে। জনগণ যে রায় দিবে আমি তা মেনে নেব। আমি মাদক এবং চাঁদাবাজ মুক্ত একটি সমাজ গঠন করতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এটি আমার নির্বাচনী ওয়াদা। বিগত দিনে আমরা যা দেখেছি এ ওয়ার্ডটি দূর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে আছে।
আগামী দিনে ওয়ার্ডটি দূর্বৃত্তায়নের কবল থেকে মুক্ত করাই আমার প্রধান কাজ। আর দলমত নির্বেশেষে আমরা সবাই যেন মর্যাদাকর অবস্থানে থাকতে পারে সেটিই আমার মূল লক্ষ্যে। আমি ব্যবসায়ী, সবসময় ব্যবসায় ব্যস্ত থেকেছি। নতুন করে আমি নির্বাচনে এসেছি কে ভাল কে মন্দ আমি জানি না। আমি যেমন একজন ভোটার আমার কাছে যারা আসে তারাও ভোটার। যারা মাদকের সাথে জড়িত তারাই মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের চিনে। আমি চিনি তাহলে তাদেরকে আমার আশে-পাশে ভিরতে পারবে না।
আনোয়ার ইসলাম জানায়, আমি ওয়ার্ডবাসীর সেবায় সব সময় নিয়োজিত ছিলাম আগামী দিনেও থাকবো। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
জাহিদুল ইসলাম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার মূলবান ভোটটি পবিত্র আমানত। তাই সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে বুঝে-শুনে আপনার মূল্যবান ভোটটি প্রদান করবেন। কাহারো টাকার বিনিময়ে, ভয়-ভীতি ও প্রলোভনে পরে আপনার মূল্যবান ভোটটি নষ্ট করবেন না।
২৭ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি ভোটযুদ্ধ।


