লঞ্চের ধাক্কায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৯
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:০৫ এএম
গতকাল সকালে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে অর্ধশত যাত্রী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি।
# উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া ট্রলার কিংবা নিখোঁজ কেউ
# উদ্ধার অভিযান স্থগিত; ধাক্কা দেওয়া লঞ্চ শনাক্ত; লঞ্চ মালিক সাংসদ
# লঞ্চের মাস্টারসহ আটক ৪, মামলার প্রস্তুতি
সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে অর্ধশত যাত্রী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পালেও অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জ যাওয়ার পথে লঞ্চের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজরা হলেন, আব্দুল্লাহ (২২), মোতালেব (৪২), সাব্বির (১৮), বিল্লাল হোসেন, জেসমিন আক্তার (৩২), তামীম খান (৮), তাফসিয়া (২), তাসমিম ওরফে তাসলিমা (১৫) ও আওলাদ (২৮)।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দুর্ঘটনার ১২ ঘন্টা পরেও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে যাত্রীবাহী ট্রলারটিকে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চটি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। ধাক্কা দেওয়া ওই লঞ্চটি এমভি ফারহান-৬। লঞ্চটি বরিশালের ভোলা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন। তিনি বলেন, আমরা লঞ্চটি শনাক্ত করেছি। লঞ্চের এক যাত্রী ফোন করে জানিয়েছেন এমভি ফারহান-৬ নামে লঞ্চটি ট্রলারটি ধাক্কা দেয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের তিনটি ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
কোস্টগার্ডের একটি সূত্র জানায়, ধলেশ্বরী নদীর ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের পশ্চিমপাড় থেকে পূর্বপাড়ে আসার পথে কাঠপট্টিমুখী একটি লঞ্চ যাত্রীবাহী ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। নিখোঁজ আব্দুল্লাহ বক্তাবলীর উত্তর গোপালনগরের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। তার বন্ধুমো. করিম খান ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়েই নদীর পাড়ে আসেন করিম। কয়েকজনকে তারা এই পাড় দিয়ে উঠতে দেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, ট্রলারটিতে পঞ্চাশের অধিক যাত্রী ছিল। নদী পারাপারের সময় নদীর মাঝখানে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। নদীর দুই পাড় দিয়ে অসংখ্য মানুষ উঠেছেন।
সাঁতরে তীরে ওঠা দ্বিন ইসলাম বলেন, ‘ট্রলারে নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে আসার পর হঠাৎ ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি লঞ্চের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। কুয়াশার কারণে দেখা যাচ্ছিল না। ট্রলারটিতে প্রায় ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিল। এ সময় মানুষের চিৎকারে লঞ্চ থেকে বয়া ফেলা হয়। পরে ঘাটে থাকা অন্য একটি ট্রলার এসে অনেককে উদ্ধার করে। এর মধ্যে এক নারী ও দুই যুবককে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছেন। রাত সাড়ে ৯টায় পর্যন্ত নিখোঁজ ৯ জনের কাউকেই উদ্ধার করার খবর পাওয়া যায়নি।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা লঞ্চটি আটক করা এবং চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কুয়াশার কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে। আমাদের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে।’
রাতে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, ‘ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় দএমভি ফারহান-৬দ লঞ্চটি জব্দ ও লঞ্চের দুই মাস্টার, দুই চালককে আটক করেছে নৌ পুলিশ। বিআইডব্লিউটিএ জানায়, ট্রলার ডুবিতে দায়ী ট্রএমভি ফারহান-৬ লঞ্চটি জব্দ করা হয়েছে। লঞ্চটির রুট পারমিটও বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, সারাদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাননি এবং জীবিত বা মৃত কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ধ্যায় উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছে।’
লঞ্চ মালিক সমিতি জানিয়েছে, ‘এমভি ফারহান-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চটির মালিক বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু।’


