ফতুল্লার ট্রলার ডুবির ৪দিন পর ভেসে উঠলো ৬ মরদেহ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৩৭ পিএম
ফতুল্লায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছয়জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে। ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় রোববার (৯ জানুয়ারি) সকালে মা-মেয়েসহ চারজনের এবং বিকেলে আরো দুই জনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা ফায়ারসার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার করে।
এদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন নিখোঁজের ঘটনায় মা-মেয়ে দুইজন রয়েছে। এরা হলেন-জেসমিন আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে তাসফিয়া (২)। বাকি চারজনের মধ্যে একজন কলেজ ছাত্র সাব্বির (১৮)। অন্যগুলোর পরিচয় শনাক্ত হয়নি। এ ঘটনায় এখনও আরও তিনজন নিখোঁজ আছে বলে জানা গেছে। তাদের সন্ধানে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত ফেরদৌস মিডিয়াকে জানান, সকালের দিকে মা-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এবং বিকেলের দিকে আরও দুজনের মরদেহ ভেসে উঠেছে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকার নদীর কিনার থেকে মা ও মেয়েসহ তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ বাকিদের সন্ধানে আমাদের ফায়ার সার্ভিস সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এখানে ফায়ার সার্ভিস এর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশও চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সকালে ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদীতে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা লঞ্চের ধাক্কায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নিখোঁজরা হলেন- কিশোরগঞ্জের ইদ্রিস আলীর ছেলে কিশোরগঞ্জের ইদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, রেকমত আলীর ছেলে মোতালেব, চর বক্তাবলী এলাকার রাজুর ছেলে সাব্বির, মধ্য চরের সোহেলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, সোহেলের ছেলে তামীম খান, মেয়ে তাফসিয়া, তাসমিম ওরফে তাসলিমা, আওলাদ, মো. শামসুদ্দিন ও জোসনা বেগম।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই লঞ্চটি জব্দ করে নৌ-পুলিশ। আটক করা হয় লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ ড্রাইভার মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি মো. জসিম মোল্লাকে (৩০)। পরের দিন ৬ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের এমভি ফারহান-৬ নামক লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ চালক মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি মো. জসিম মোল্লাকে (৩০) আসামি করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন।


