ডাকাত আখ্যা দিয়ে আড়াইহাজারে তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:৪৮ পিএম
ডাকাত আখ্যা দিয়ে আড়াইহাজারে তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে তাদের লাশ উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ইলমদী বেনজীর বাগ এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ ক্ষত বিক্ষত মরদেহ গুলো উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে। তাদের তিনজনকে ওই ভোর রাত সাড়ে ৪টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হচ্ছেন সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল বৌ-বাজার এলাকার সিরাজুলের ছেলে মফিজুল (২২), একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল ওরফে জেসনু (২০) এবং আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের মোতালিবের ছেলে নবী হোসেন ওরফে নবী (৩০)। তবে কে বা কারা তাদেরকে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাঃ তাদের তিনজনকেই মৃত ঘোষনা করেন। স্বজনদের আহাজারীতে হাসপাতালের বাতাস বারী হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী তাদেরকে ডাকাত বলে চিহ্নিত করলেও পরে নিহতদের স্বজনেরা এসে লাশ গুলো শনাক্ত করেন এবং তারা ভাল লোক বলে দাবী করেন। তারা জানান, নিহত নবী হোসেন এবং মফিজুল পেশায় লেগুনা চালক এবং জহিরুল ওরফে জেসনু লেগুনার মালিক। তারা ভুলতা এলাকায় অবস্থিত একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকবাহী গাড়ী চালায়। এলাকাবাসী জানান, যে এলাকায় তাদের লাশ পাওয়া গেছে সেখানে প্রায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় গতকাল রাতে ঘটনাস্থলের আশে পাশে কোথাও কোন ডাকাতির সংবাদ পাওয়া যায়নী।
নিহত মফিজুলের মা মনোয়ারা বেগম জানান, মফিজুল ভোর ৪টার দিকে ইলমদী এলাকার শ্রমিক নেয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়। তার সঙ্গে লেগুনার মালিক জেসনু ও আসে। সকালে আমরা তার হত্যার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে লাশ শনাক্ত করি। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। নিহত জহিরুলের ছোট ভাই তারেক জানান, আমার ভাই রাত চারটার দিকে লেগুনার ড্রাইভার মফিজুলের সাথে শ্রমিক নেওয়ার জন্য ওই এলাকায় যায়। আমার ভাই একজন ভাল মানুষ তাকে শত্রুতা মুলক ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, প্রাথমিক ভাবে এলাকাবাসী তাদেরকে ডাকাত বলে সম্বোধন করলেও তদন্ত না করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কে বা কারা তাদেরকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারেও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।


