# অতীতের মতো এবারও আইভীর প্রতি বন্দরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসায় অটুট
মাত্র দুই মাসের মতো ব্যবধানে সম্পন্ন হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর নির্বাচন। আর ইউপি নির্বাচনে ওসমান পরিবারের বলয় খ্যাতরা যতটা দাপট ও সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন ঠিক ততটাই ধরাশায়ী হয়েছেন নাসিক নির্বাচনে। ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছেন নাসিক নির্বাচনে তারা প্রার্থী হয়ে ধরাশায়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে এবারের নাসিক নির্বাচনেও বন্দর এলাকায় দাপট বজায় রেখেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। তবে বরাবরের মতো এবারও বিভিন্ন দোহাই দিয়ে নৌকাকে এড়িয়ে গেছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ। আবারও প্রভূ ভক্তির প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে কেন্দ্রের নির্দেশে নৌকার পক্ষে মাঠে ছিলেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন প্রধান। তাছাড়া ইউপি নির্বাচনে কাজিম উদ্দিনের নৌকার বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নেওয়া ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খান মাসুদ এবং ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল আহমেদ দুলালকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের এলাকার জনগণ। তারা দুজনেই ওসমান পরিবারের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত। তবে ওসমান পরিবারের মাঠ হিসেবে পরিচিত বন্দরের মানুষ এবার ওসমান পরিবারের ভক্তদের পরিহারের সাথে সাথে আগের মতই বরণ করে নিয়েছেন আইভীর নৌকাকে। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বন্দর উপজেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক এড. হাবীব আল মুজাহিদ পলুসহ আরো এক ঝাক আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গোটা নির্বাচনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। যার ফলে সেখানে আইভীর দাপট একটুও ক্ষুন্ন করতে পারেননি ওসমান সমর্থকরা। এবারের নির্বাচনের হিসেব মতে, বন্দরের মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৪১৩জন। যার মধ্যে বৈধ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৬৬টি। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৪৫ হাজার ৫৯৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের হাতি প্রতীক পেয়েছে ২৪ হাজার ৩৮৮ ভোট। অর্থাৎ তৈমুর আলমের চেয়ে ২১ হাজার ২০৭ ভোট পেয়েছে আইভীর নৌকা।
বন্দরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী চিত্র দেখা যায় তাহলো, বন্দরের মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১নং কেন্দ্রে ১,৭৫১ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০৯৭ এবং হাতি ৪৫০ ভোট, ২য় কেন্দ্রে ১,৬৮০ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,১৬৬ এবং হাতি ৩৬৮ ভোট পায়। লক্ষারচরের কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৭৪১ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,১৮২ হাতি ৩৫৬ ভোট পান। শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,৩৬৯ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,৭৮৩ এবং হাতি ৩৭৫ ভোট পায়। সোনাকান্দা বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম কেন্দ্রে ১,৬০২ ভোটের মধ্যে নৌকা ৯৫৮ এবং হাতি ৪৯০ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৫৬২ ভোটের মধ্যে নৌকা ১০৬২ এবং হাতি ৩৯৭ ভোট পায়। সোনাকান্দা উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাকান্দা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম কেন্দ্রে ২,০৬৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ৯৪০ এবং হাতি ৮৫৬ ভোট পায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় কেন্দ্রে (নীচতলা) ১,৭৬৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০০০ এবং হাতি ৫৮৭ ভোট পায়। ১নং ফরাজীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,৩৪০ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,৬১৪ এবং হাতি ৫৮১ ভোট পায়। ৫০নং সোনাকান্দা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,২১৭ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,৩১৩ এবং হাতি ৬৪১ ভোট পায়। সোনাকান্দার বিএনডিডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয় ১ম কেন্দ্রে ১,২০৯ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭১৯ এবং হাতি ৩৫১ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৩০১ ভোটের মধ্যে নৌকা ৬২৫ এবং হাতি ৫৬৮ ভোট পান। বন্দর কলোনীর সিকদার আবদুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬০৬ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০০৭ এবং হাতি ৪১৯ ভোট পায়।
বন্দর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১,৫০৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ৮২৬ এবং হাতি ৪২০ ভোট পায়। সালেহনগর তৈয়ব হোসেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬৩১ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৬১ এবং হাতি ৫৬৪ ভোট পায়। বন্দর শ্রমকল্যাণ এর ১ম কেন্দ্রে ১,২৪৭ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭০২ এবং হাতি ৩৭৩ ভোট পান। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,১৯০ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৭০ এবং হাতি ২৭৬ ভোট পায়। বিএম ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজ ১ম কেন্দ্রে ১,৫৩৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০১১ এবং হাতি ৩৮২ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৩৭৪ ভোটের মধ্যে নৌকা ৯৭৯ এবং হাতি ২৯৩ ভোট পায়। বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ২,১৭০ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,৩৯৬ এবং হাতি ৫৭২ ভোট পায়। বন্দর শিশু নিকেতন কেন্দ্রে ২,৪৭০ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,৪৮৮ এবং হাতি ৭৭৫ ভোট পায়। বন্দর শিশুবাগ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৩৯৫ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৯৯ এবং হাতি ৪৪০ ভোট পায়। বন্দর বালিকা (জামাইপাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬০৭ ভোটের মধ্যে নৌকা ৯৫১ এবং হাতি ৪৮৪ ভোট পায়। স্বল্পেরচকের পশ্চিম বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬৯৬ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০৪৭ এবং হাতি ৪৯১ ভোট পায়। একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬১৬ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০১২ এবং হাতি ৪১১ ভোট পায়। নবীগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১ম কেন্দ্রে ১,৪৬৯ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৫৫ এবং হাতি ৬০৬ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৩৯২ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭২৫ এবং হাতি ৪৯৫ ভোট পায়। সরকারি কদম রসুল কলেজ ১ম কেন্দ্রে ২,০০২ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,২৮৫ এবং হাতি ৫৬৫ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,দ৬৪৬ ভোটরে মধ্যে নৌকা ১,০৯৮ এবং হাতি ৩৮২ ভোট পায়। হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ১ম কেন্দ্রে ১,৬৩২ ভোটের মধ্যে নৌকা ৮৭২ এবং হাতি ৬২৭ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৪৬৬ ভোটের মধ্যে নৌকা ৮৪৬ এবং হাতি ৪৬২ ভোট পায়। ৪৫নং নবীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,২৪৭ ভোটের মধ্যে ১,১৩৭ এবং হাতি ৮৫৩ ভোট পায়। ৪৬নং কদম শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৩৫১ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭০৮ এবং হাতি ৫১৩ ভোট পায়। নবীগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৫৮১ ভোটের মধ্যে নৌকা ৩০১ এবং হাতি ২১৫ ভোট পান। নোয়াদ্দার কাইতাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ১,৮২১ ভেটের মধ্যে নৌকা ৯২৯ এবং হাতি ৭২০ ভোট পায়। ৪৪নং আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,১০৮ ভোটের মধ্যে নৌকা ৪৬৪ এবং হাতি ৩৯৭ ভোট পায়। চৌরাপাড়া ৬২নং কবি নজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,০৫৯ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৬৪ এবং হাতি ৭৬২ ভোট পায়। লক্ষনখোলা আলহাজ্ব ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৯৯৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ৮৯৪ এবং হাতি ৭৭১ ভোট পায়। লক্ষণখোলা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,৩৩৮ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,১০৭ এবং হাতি ৯০৭ ভোট পায়। লক্ষণখোলা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,৭৯৫ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,২৭৪ এবং ১,০৫৬ ভোট পায়। ঢাকেশ্বরী মিলস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৬৬৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,০২৭ এবং হাতি ৪৫৩ ভোট পায়। রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২,২৭৫ ভোটের মধ্যে নৌকা ১,২৬৬ এবং হাতি ৬৬৪ ভোট পায়। চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,৪৪২ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৩৪ এবং হাতি ২৫৬ ভোট পায়। কুড়িপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ১ম কেন্দ্রে ১,৪৬৫ ভোটের মধ্যে নৌকা ৭৪৬ এবং হাতি ৩৬৪ ভোট পায়। এখানকার ২য় কেন্দ্রে ১,৪৯৭ ভোটের মধ্যে নৌকা ৮১৮ এবং হাতি ২৮৩ ভোট পায়। ফুলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১,০৪৭ ভোটের মধ্যে ৬৬২ এবং হাতি ১৯৭ ভোট পায়। মুরাদপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১,৫২৩ ভোটের মধ্যে নৌকা ৬১৯ এবং হাতি ৩২১ ভোট পায়। যার হিসেবে দেখা যায় বন্দরের প্রায় সকল কেন্দ্রেই আইভীর নিরংকুশ জয়।


