Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সিদ্ধিরগঞ্জে এক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল

Icon

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫৫ এএম

সিদ্ধিরগঞ্জে এক শ্রমিকের  মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল
Swapno

সিদ্ধিরগঞ্জে মো: শামীম (২৩) নামে এক নিটিং ডাইং শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুতে ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের ৭নং ওয়ার্ডের কদমতলী উত্তরপাড়া এলাকার আলমগীরের বাড়িতে একটি নারী সংক্রান্ত ঘটনায় রহস্যজনক কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে সে। যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী পরিবেশের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যস্ত থাকায় ঘটনাটিকে ধামা-চাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি স্বার্থান্বেসী মহল। মৃত্যুর একমাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি নিয়ে দ্বন্ধে জড়িয়ে পরেছেন তৃতীয় পক্ষ। এদিকে, আচমকা একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে শোকে নির্বাক শামীমের মা তাসলিমা।



অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শামীম বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার কাজলাকাঠি গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী উত্তরপাড়া এলাকার আলমগীরের বাড়ির নিচতলায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকাস্থ একটি নিটিং ডাইং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সে তার পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে। তাই সে মা-বাবা এবং চার বোনের খুব আদরের ছিল।



অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শামীমের মা তাসলিমা বেগম জানায়, আমার ছেলে শামীম কদমতলী উত্তরপাড়া ওয়াবদা রোডে আলমগীর নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভাই ভাই হাউজের নিচতলায় পশ্চিম পাশে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। তার বাসার সামনেই পূর্ব পাশের ফ্লাটে বসবাস করতো মোবারক ওরফে কামাল নামে এক চায়ের দোকানদারের পরিবার। ওই পরিবারে সাবিনা ওরফে স্মৃতি (১৮) নামে একজন যুবতী মেয়ে রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলবে। ওই মেয়ে ছলে-বলে কৌশলে আমার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে
অনেক দিন ধরে মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত ২৩ ডিসেম্বর আমার ছেলে আমাকে গ্রামের ফোন দিয়ে আমার কাছে কান্না-কাটি করে বলে মা ওই মেয়েটির কারণে খুব যন্ত্রনায় আছি। মা তুমি আমার জন্য দোয়া কইরো। তখন আমি আমার ছেলেকে সান্তনা দেই। রাত ১২টার দিকে আমার মেয়ের জামাই আমাকে ফোন দিয়ে বলে মা আপনার ছেলে আর নেই।
কিভাবে মারা গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য তাগিদ দেয় সাবিনা ওরফে স্মৃতি। এসময় আমার ছেলেকে নাকি ওই মেয়েটির বাবা নিজ হাতে মেরেছে কিন্তু কে বা কারা বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় এবং অন্যান্য ঘরের দরজাও নাকি সে বন্ধ করে দেয়। আমার ছেলের শরীরে আগুন লেগেছে বলে চিৎকার করলেও কেউ বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়নি। তখন তার ডাক-চিৎসার শুনে আশ-পাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে কামালের প্ররোচনায় ওই এলাকার শিপনের স্ত্রী লাকী নামে এক মহিলা শামীমের পরিবারের কাছ থেকে সই স্বাক্ষর নিয়ে কাগজ তৈরী করে লাশ দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু মিমাংসার আশ্বাস দিলেও সময় সুযোগ মত কামালের পরিবারকে এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে শিপনের স্ত্রী লাকী। মিমাংসাতো দূরের কথা বর্তমানে উল্টো আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য। আমরা গরীব বলে কি আমার ছেলের বিচার পাব না।  তিনি আরো জানায়, আমার ছেলের ঘটনাটিকে ধামা-চাপা দেওয়ার জন্য শিপনের স্ত্রী লাকী কামালের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এ বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় সানী নামে এক যুবককে লাকী ১০ হাজার টাকা দিতে চায়। তখন সে টাকা না নিয়ে ওই মহিলার শরীরে থুথু মারে এবং বলে আমি যদি আজ এই মৃত্যুর ঘটনায় টাকা খাই তাহলেও আমার বেলায়ও তা হবে। আমার বাবা কোটি কোটি টাকার সম্পাদ রেখে গেছেন। এই নীরিহ পরিবারের যাতে ন্যায় বিচার পাই আমি তা চাই। তারপর থেকে লাকী নামের মহিলাটি আমাদেরকে এই এলাকা থেকে সড়িয়ে দিতে নানা রকম ফন্ধি করতাছে। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার চাই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন