Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আগুনে পুড়ে গেলো প্রায় ৩০ কোটি টাকার পণ্য

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:২৭ পিএম

আগুনে পুড়ে গেলো প্রায় ৩০ কোটি টাকার পণ্য
Swapno

 

মদনপুরের পোশাক কারখানা জাহিন নিটওয়্যারে আগুন লেগে প্রায় ৩০ কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি)’র এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা উল্লেখ করার সময় এই তথ্য দাবি করছেন পোশাক কারখানা জাহিন নিটওয়্যারের মালিকপক্ষ। বিশাল এই ক্ষয়ক্ষতিতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে কারখানার মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মাঝে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারখানাটি। কারখানার চারটি ইউনিটে আগুন লেগে যায়। চার ইউনিটের ভেতরে থাকা সকল সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৬ ঘন্টার আগুনে ধ্বংসস্তূপে রুপ নিয়েছে কারখানা। বিপুল পরিমাণ ফেব্রিকস, সুতা, উৎপাদিত তৈরি পোশাক, নিটিং মেশিন, সুইং মেশিন ছাড়াও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার ইউনিটের ছাদ হিসেবে নির্মিত স্টিলের ছাদ। দুই ও চার নম্বর ইউনিটের দুটি শেড ধসেও পড়েছে। এর মোট হিসাব করে মালিক পক্ষের দাবি করেছে সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

 

জাহিন নিটওয়্যার কারখানার এমডি জামাল উদ্দিন জানান, আগুনে কারখানার দুই নম্বর ইউনিটের দ্বিতীয় ফ্লোরের সুইং, ফিনিশিং সেকশন ও রফতানির জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য; চার নম্বর ইউনিটের নিটিং সেকশন, বিপুল পরিমাণ সুতা, এর থেকে তৈরি গ্রে ফেব্রিকস, প্যাটার্ন কাগজ ও নিটিং মেশিন; পাঁচ নম্বর ইউনিটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সুইং, ফিনিশিং সেকশন ও তৈরি পণ্য এবং ছয় নম্বর ইউনিটের দ্বিতীয় তলায় রাখা বিপুল পরিমাণ রফতানি পণ্যের কার্টন পুড়ে গেছে। এ ছাড়া চারটি ইউনিটের স্টিলের ছাদ এবং শেড আগুনের তাপে গলে ধসে পড়েছে।’

 

গতকাল শনিবার দুপুরে বিকেএমইএ-এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুবসহ বেশ কয়েকজন আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানা পরিদর্শন করেন।

 

সেখানে  সেলিম ওসমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, ‘জিহান নিটওয়্যার কারখানার আগুন একটি দুর্ঘটনা। আগুনে কারখানার চারটি ইউনিট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারখানাটি ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। এখানে কর্মরত শ্রমিকরা যাতে কর্মহীন বা বেকার না হয়ে পড়ে সেজন্য অর্থায়নকারী ব্যাংক এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে কারখানার পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স, শ্রম মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করলে কারখানাটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

 

তিনি দাবি করেন, ‘আগুনে ১৭ লাখ টন ফেব্রিকস, কয়েক লাখ পিস উৎপাদিত পোশাক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুরো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে আরও বেশ কয়েকদিন লাগবে। তবে আগুনে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে ৩০ কোটি টাকার বেশি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারখানায় চারটি ইউনিটে একযোগে কী কারণে আগুন ছড়িয় পড়েছে এবং আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হলো তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

 

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আশা করছি, আগামী দুই একদিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিই সব কিছু খতিয়ে দেখবে।’

 

কারখানার নির্বাহী পরিচালক সফিউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘৪০ বছরে তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয় গেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম এবং সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলাম। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ হতো। কিন্তু ভয়াবহ আগুন সব কিছু নিয়ে কেড়ে নিয়েছে।’


এ ঘটনায় শোকের ছায়ার সাথে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শ্রমিকদের ওপর। মাস প্রায় শেষ। সারা মাসের বেতন পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেক শ্রমিক।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন