Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বনভোজনগামী যাত্রীদের পিটুনিতে ব্যবসায়ী হত্যা : গ্রেফতার হয়নি কেউ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:০৭ এএম

বনভোজনগামী যাত্রীদের পিটুনিতে ব্যবসায়ী হত্যা : গ্রেফতার হয়নি কেউ
Swapno

# ড্রাইভার-হেলপারকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
# মামলা পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর দাবি

বাস ধাক্কা দিয়েছিলো মোটর সাইকেলকে। বাসটিকে আটকানোর কারনে মোটর সাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ানকে বনভোজনগামী বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারিরা মিলে পিটিয়ে হত্যা করে। সুফিয়ানের বন্ধু ও এলাকাবাসি বাসের হেলপার ও চালককে ধরে দিয়েছিলো হাইওয়ে পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বাসের নাম্বার ভুল লিখেছে পুলিশ। চালক ও হেলপারের নামটিও উল্লেখ করেনি। আর ঘটনার জন্য দায়িদের গ্রেফতারে করছে চরম অবহেলা। এমনকি নিহতের পরিবার মামলা সংক্রান্ত তথ্য চাইতে গেলেও দিচ্ছেনা পুলিশ।  রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে এমন অভিযোগ করেছে নিহত আবু সুফিয়ানের পরিবার।

 


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি পশ্চিম পাড়া বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান। তার বাবার নাম আহাম্মদ আলী। গত ১৯ জানুয়ারী সুফিয়ান ও তার বন্ধু অনিক সরকার হৃদয় ঢাকা থেকে মোটর সাইকেলে ফিরছিলো।

 

নিহতের উকিল শ্বশুর মতিউর রহমান জয় জানান, সুফিয়ান ও অনিক ঘটনার দিন রাত সাড়ে দশটায় যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় বনভোজনগামী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৬৪৯) তাদের মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে সামনে চলে যায়। আবু সুফিয়ান সাইনবোর্ড মোড়ে এসে বাসটিকে থামাতে সক্ষম হন।

 

মোটর সাইকেলকে কেন ধাক্কা দিলো বাসের ড্রাইভারকে এ প্রশ্ন করায় বাসের ২০-২৫ জন যাত্রী নেমে আবু সুফিয়ানকে ধরে বাসের ভেতরে নিয়ে রড, লাঠি দিয়ে বেধরক পিটায়। তাকে গলায় পা দিয়ে চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাস থেকে রাস্তার উপরে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

 

সুফিয়ানের বন্ধু অনিক আবারো বাসটিকে ধাওয়া করে চিটাগাং রোড মোড়ে এলাকাবাসির সহায়তায় আটকায়। বাসসহ বাসের হেলপার, ড্রাইভার ও কয়েকজন যাত্রীকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশের এস আই আহসানের কাছে সোপর্দ করেন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দেয়।


ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এস আই আহসান বলেন, ড্রাইভার ও হেলপারকে আমাদের কাছে তুলে দেয়া হয়নি। তিনি এ ব্যাপারে কাঁচপুর হাইয়ে থানার ওসির সাথে কথা বলতে বলেন।


নিহত আবু সুফিয়ানের উকিল শ্বশুর মতিউর রহমান জয় এ প্রেক্ষিতে বলেন, আমরা তাদের পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছি কিনা তা ঐ এলাকার ও হাইওয়ে থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করলেই বুঝা যাবে। জয় ও নিহতের মা আছিয়া বেগম আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার ব্যাপারে নিহতের চাচা জজ মিয়া বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।

 

মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরনিতে পুলিশ বাসের নাম্বার ইচ্ছে করে ভুল করেছে। যাতে বাসটি দ্রুত ছাড়িয়ে নিতে পারে। এছাড়া তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই শওকত জামিল মামলার সময় বাসের হেলপার ও ড্রাইভারসহ বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রীর নাম, ঠিকানা নিলেও মামলায় তাদের নাম উল্লেখ করেনি।

 

বঙ্গবাজার সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী মাহফুজ মহাল ও মোহাম্মদ সাঈদ গাড়িটি রিজার্ভ করে। তাদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না। পুলিশ এ ঘটনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও সেটির কপি আমাদের দিচ্ছেনা। সেটির কপি পেলে আমরা কারা কারা এ হত্যাকান্ডে জড়িত তা বের করে পুলিশকে সহযোগিতা করতে পারতাম। আসামীদের ছবি গণমাধ্যমে এলে পুলিশের তাদের খুঁজে পেতে সহজ হতো।  


এসব অভিযোগের ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই শওকত জামিল বলেন, তারা যখন এত জানে তারাই তদন্ত করুক। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মামলার তদন্ত করছি। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তারা যাদের নাম বলেছে তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর ভিডিও ফুটেজ কাউকে দেয়ার নিয়ম নেই।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন