‘ডন’ হওয়ার স্বপ্ন দেখা দুর্ধর্ষ ছয় কিশোর
ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:২৪ পিএম
ফতুল্লা থানা পুলিশের তৎপরতায় ‘ডন’হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটি দুর্ধর্ষ কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের মোবাইল তল্লাশি করে পাওয়া গেছে ভয়ংকর অনেক স্টাইলিশ ছবি। ধারালো বড় বড় ছুরি হাতে একে-অপরের পেটে ধরে রেখেছে। আবার কেউ ইটের দেয়ালে ছুরি ধার দিচ্ছে। কেউ কাঁধে ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুক্রবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- হাকিম, আনিছ, সৌরভ, স্বাধীন, রাসেল ও আবেদ।
দুর্ধর্ষ এ কিশোররা ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাসদাইর পাকাপুল এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃত কিশোররা বলে, এমন স্টাইল করে ছবি তুলে ফিলিংস নিতেন তারা। তাদের গ্রুপে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সের ৯ বন্ধু রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ গার্মেন্টসে আবার কেউ প্রিন্ট কারখানায় কাজ করে। তবে প্রত্যেকেই কর্মজীবী। পরিবারের অজান্তে তারা মাদক সেবন করে থাকে। আর অবসর সময় নীরব স্থানে ধারালো অস্ত্র চালানোর প্র্যাকটিস করে। তাদের মধ্যে আমান ইসলাম নামে একজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গত শুক্রবার খুন হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায়, ছুরিগুলো এলাকার ঝোপ ঝাড়ে রাখে। অবসর সময় হাতে নিয়ে নিজেরাই অস্ত্র চালানো শিখত। কে কত দ্রুত অস্ত্র চালাতে পারবে এজন্য তারা মোবাইলে ইংলিশ ছবির ফাইটিং দৃশ্য দেখত। তাদের স্বপ্ন একদিন তারা ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলের ডন হবে। নিয়ন্ত্রণ করবে ফতুল্লার পুরো অপরাধ জগৎ। গ্রফতারকৃত রাসেল জানায়, হাকিম, আনিছ, সৌরভ, স্বাধীন, আমান, জীবন, আবেদ ও আশ্রাফুলসহ আমরা ৯ বন্ধু একসঙ্গে চলাফেরা করি। অবসর সময় একসঙ্গে আড্ডা দেই এবং মোবাইলে ফাইটিং ছবি দেখি।
ছবি দেখা থেকে আমাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা আসে কিছু একটা করার। এর মধ্যে একেকজন একেক রকমের কথা বলেছে। কেউ বলেছে নেতার হাত ধরবে। আবার কেউ বলেছে নিজেরাই গ্রুপ তৈরি করে বিসিক নিয়ন্ত্রণ করবে। যাই করি নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এজন্য বেতনের টাকায় সব বন্ধু মিলেই ৫-৬টি বড় ছুরি কিনেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আতাউর রহমান প্রধান বলেন, অনেক ঘনবসতি একটি এলাকা মাসদাইর। এখানে অনেক ভাসমান মানুষ রয়েছে। সবই কর্মজীবী। দিন আর রাত সবসময় এই এলাকায় মানুষ হেঁটে চলাফেরা করে থাকে। কারো কোনো সমস্যার অভিযোগ পাইনি।
তিনি বলেন, আমাদের অজান্তে মাসদাইর পাকাপুল এলাকায় ভয়ংকর একটি কিশোর গ্যাং বেড়ে উঠেছিল। তাদের বিষয় এলাকায় কেউ কিছুই জানত না। তারা যাদের বাসায় ভাড়া থাকতো তারাও তাদের ভদ্র জানত। একজন কিশোর খুন হওয়ার পর আমরা জানতে পেরেছি তারা ভয়ংকর সন্ত্রাসী হওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে ওই গ্যাংয়ের ৬ জন গ্রেফতার করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি অনেক আগে থেকেই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য জানাতে ৯৯৯ নাম্বারসহ থানা পুলিশের নাম্বার সবাইকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি এলাকাতেই পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল নাজমুল হাসান বলেন, মাসদাইর পাকা পুলের কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্যের বিষয় এলাকাবাসীও জানত না।
তারা গোপনে বেড়ে উঠার চেষ্টায় ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের নির্দেশে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাসদাইর পাকাপুল এলাকায় ৯ বন্ধুর মধ্যে খুন হয়েছে আমান (১৭)। নিহত আমান মাসদাইর পাকাপুল এলাকার আউয়াল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জৈবন নেশার ছেলে। তারা মা-ছেলে দুজনই গার্মেন্ট কর্মী।


