গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার পর ডোবায় ফেলে দেয় চাচা-ভাজিতা
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২০ পিএম
নিহত ফয়সাল। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি অপূর্ব চন্দ্র দাস ও তপু চন্দ্র দাস ওরফে অপু।
# পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড
সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের আটদিন পর ডোবা থেকে ফয়সাল (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব-১১ এর একটি দল। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে অপূর্ব চন্দ্র দাস (১৯) ও তপু চন্দ্র দাস ওরফে অপু (২৫) নামের দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ও গতকাল শুক্রবার সকালে তাদের সোনারগাঁ পৌর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপূর্ব চন্দ্র দাস উপজেলার বাগমুছা ঋষিপাড়া গ্রামের তপন চন্দ্র দাসের ছেলে ও তপু একই এলাকার নিতাই চন্দ্র দাসের ছেলে। আসামী অপূর্ব চন্দ্র দাসের দেয়া তথ্যে গতকাল শুক্রবার সকালে বাগমুছা ঋষিপাড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে নিখোঁজ ফয়সালের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফয়সাল লাহাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
র্যাব-১১ প্রধান নির্বাহী লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে আসামী অপূর্ব। গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৯ টার দিকে পাশ্বর্বতী লাহাপাড়া গ্রামের মামার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি ফয়সাল। নিখোঁজের পর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজাখুজির পরদিন তার মামা মানিক মিয়া বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।
সাধারণ ডায়েরীর সূত্র ধরে পরবর্তীতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা দল নিখোঁজ ফয়সালের সন্ধানে ছায়া তদন্তে নামেন। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মুঠোফোনে ডেকে আনা আসামী অপূর্ব চন্দ্র দাসকে শনাক্ত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র্যাব সদস্যরা সোনারগাঁ পৌর এলাকা থেকে অপূর্ব চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে। অপূর্বের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সকালে তপু চন্দ্র দাস ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তিনি আরো জানান, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত অপূর্ব নিখোঁজ ফয়সালকে নীল রঙের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে বাগমুছা এলাকায় একটি ডোবায় লাশ সনাক্ত করে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। আসামীরা স¤পর্কে চাচা-ভাতিজা।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে আসামি অপূর্ব চন্দ্র দাস ফোনে নিখোঁজ ফয়সালকে তার সাথে দেখা করতে বলে। পরবর্তীতে ফয়সাল অপূর্বের সাথে দেখা করতে গেলে অপূর্ব ভিকটিমকে জরুরী কথা আছে বলে তার বাড়ির পাশে থাকা উচু ভিটায় নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের সাথে কথা বলার এক ফাঁকে আসামি অপূর্ব তার হাতে থাকা দড়ি দিয়ে ভিকটিমের গলা প্যাঁচিয়ে ধরে তার বুকের ওপর ওঠে বসে। এসময় ফয়সাল চিৎকারের চেষ্টা করলে অপর আসামী অপু ফয়সালের পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং মুখ চেপে ধরে। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত হলে দুজন মিলে মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পরস্পরের সহায়তায় তাদের বাড়ির অদূরে ঝোপের মধ্যে থাকা একটি ডোবায় কচুরীপানার নিচে লাশ ডুবিয়ে রাখে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র্যাব। অত্র হত্যাকান্ডের সাথে আরো কেউ যুক্ত আছে কিনা তা আরো অধিকতর তদন্তে জানা যাবে। সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ নিখোঁজের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।


