এমপি’র সাক্ষাত পায়না ফতুল্লাবাসী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৫৬ এএম
# অফিসে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাক্ষাৎ দেন আইভী
# আইভীর বাড়িতেও রয়েছে সাধারন মানুষের অবাধ বিচরণ
ফতুল্লার জনগণ কী আর কখনোই সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাক্ষাৎ পাবেন না। এই প্রশ্ন এখন ফতুল্লার প্রতিটি মানুষের। কারণ শামীম ওসমান এ পর্যন্ত তিনবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হলেও তার স্বাক্ষাত পান না নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষ। অথচ মেয়র আইভীর বাড়িতে সারাদিনই মানুষের ভির লেগে থাকে। তিনি যখন অফিস করেন তখন তিনি প্রতিদিনই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় দিয়ে থাকেন। কিন্তু শামীম ওসমান কোনো সময় দেন না। আইভী মনোনযোগ দিয়ে সাধারন মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, নিজে নোট রাখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের ব্যাবস্থা করেন। কিন্তু ফতুল্লাবাসী শামীম ওসমানের দেখাই পান না। জনগনের সঙ্গে দেখা করার জন্য শামীম ওসমানের কোনো নির্ধারিত সময়ও নেই। তাই নানা রকম দুঃখ দুর্দশা নিয়ে মানুষ দিনের পর দিন এই এমপির সাক্ষাৎ চেয়েও পান না। মানুষ সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেতে চান। জানাতে চান তার এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার আর সন্ত্রাসীরা কে কি ধরনের আচরন করছেন মানুষের সাথে। কিন্তু কিছুতেই মিলেনা তার সাক্ষাৎ। তাই যা হবার তাই হচ্ছে। দিনে দিনে শামীম ওসমান গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন। যার ফলে মানুষ এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার আর সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিষ্পেসিত হচ্ছেন। তাই শামীম ওসমানের এলাকার জনগন একন নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে একেবারে দিশেহারা।
এদিকে আইভী আর শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সমালোচিত রাজনীতিবিদ। দুইজনই জনপ্রতিনিধি। প্রায় সারা বছরই তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তবে তারা দুইজন একই দল করলেও তাদের কাজ কর্মে রয়েছে আকাশ পাতাল পার্থক্য। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এদের একজন সারাক্ষন জনগনের কল্যানে নিয়োজিত থাকেন, ফলে তিনি কাজ পাগল জননন্দিত একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিপরিতে অপরজন পরিচিতি লাভ করেছেন চাঁপাবাজ বাঁচাল হিসাবে। তিনি কোনো কাজ করেন না। তার একটাই কাজ। আর তা হলো মাঝে মাঝে কিছু লোকজন জরো করে কেবল বড় বড় কথা বলা, প্রতিপক্ষকে আক্রমন করা।
এই শহরের রাজনীতিতে যিনি জননন্দিত জনপ্রতিনিধি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। যতোবার নির্বাচন করেছেন ততোবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিরি সাধারন মানুষের মন জয় করে রাজনীতি করছেন। জনগন তাকে মোটেও ভয় পান না। বরং প্রায় সকলেই শ্রদ্ধা করেন। তিনি সকাল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রতিদিন জনগণকে নির্ধারিত সময় দেন কথা বলার জন্য। নিজের কানে শোনেন মানুষ দুঃখ দুর্দশার কথা। প্রয়োজনে নিজে সরেজমিন গিয়ে দেখেশুনে সমস্যার সমাধান করেন। রাজনৈতিক ভাবেও সব সময় দৃঢ় অবস্থানে থাকেন। তার পরিবারের সবাই একটাই দলে করে আসছেন আর সেটা হলো আওয়ামী লীগ। কিন্তু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি কখনো ভিন্ন দলের লোকদেরকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন না। তার উন্নয়নে সুফল ভোগ করছেন সকল মানুষ। তাই সব দলের মানুষের কাছেই তিনি শ্রদ্ধার পাত্র। তাইতো নির্বাচনে তিনি সব দলের মানুষের ভোট পান এবং এ কারণে তিনি বার বার বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। এই শহরের রাজনীতিতে তিনি হয়ে উঠেছেন অসাধারণ এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী একজন।
বিপরীতে আরেকজন আছেন নিজেকে খুব বড় মনে করেন। সব সময় বড় বড় কথা বলেন। মাঝে মাঝে ছোটোখাটো জনসভা করে রাজনৈতিক বক্তৃতার নামে নানা রকম গল্প বলেন। সব সময়ই বলেন আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে বড় কোনো অঘটন ঘটবে। যেনো যারা অঘটন ঘটাবেন তারা তাকে বলে দিচ্ছেন তারা কি অঘটন ঘটাবেন। কিন্তু অঘটন আর ঘটে না। আর কাজের বেলায়তো তিনি অষ্টরম্বা। তার নিজের এলাকা পূরো বর্ষা মৌসুম ডুবে থাকে। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। উল্লেখ করার মতো কিছুই নেই তার এলাকায়। মানুষযে তাকে মনে রাখবে এমন কিছুই নির্মান করেননি। তবে তার অপকর্ম মনে রাখবে মানুষ। নিজেকে সিংহপুরুষ, গডফাদার বা মাফিয়া ডন ভাবতে পছন্দ করেন তিনি। তাই এসব জাহির রাখার জন্য প্রায়ই হুংকার ছাড়েন। হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা বলে বক্তৃতা করেন। কোনো সুষ্টু নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারবেন না। এর আগে দুই নির্বাচনে পরাজয় বরন করেছেন।
এক নির্বাচনেতো তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে এক লাখ দুই হাজার ভোটে হেরে গেছেন। এই মুহুর্তে কোনো নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনেও তিনি জিততে পারবেন না। কখনোই নিজের এলাকার সাধারন মানুষের কোনো খবর রাখেন না তিনি। মানুষ তার সাক্ষাৎ পান না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর দুর্নীতি লুটপাটের অভিযোগ। লুটপাটে জরিত তার পরিবার এবং সাঙ্গপাঙ্গরাও। তাই বর্তমান সরকারের যদি কখনো পতন ঘটে তাহলে অতীতের মতো এবারও পালিয়ে যাবেন তিনি। ইতিহাস স্বাক্ষী ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি রাতের আধারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। যতোদিন না আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরেছে ততোদিন আর দেশে ফিরতে সাহস পাননি। দল ক্ষমতায় থাকলে তিনি বাঘ, না থাকলে বিড়ালও না। তাই তার মতো এমন একজনকে কেনো যে দলে ধরে রাখা হয়েছে সেটাই বুঝতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
তবে নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকে মনে করেন যে যাই বলুকনা কেনো, এক ধরনের ন্যাচারাল পানিশম্যান্টের শিকার হচ্ছেন তিনি। ফলে বার বারই অমুককে বাদ দিতে হবে বলে তিনি বায়না ধরেন এবং নানা রকম কাহিনী করেন। কিন্তু তার কথার কোনো পাত্তা দেন না। দলীয় প্রধান। এবারও একই রকম বায়না ধরেছিলেন এবং নানা রকম নাটকের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো পাত্তা পাননি। তিনি যে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সেই সম্পদ থেকে মোটা অংকের টাকা খরচ করেও তিনি তার নিজ দলীয় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেননি। তাই এই ব্যাক্তির পতন এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
কিন্তু তার বিপরীতে যিনি রয়েছেন এবং যাকে তিনি হিংসা করেন তিনি যতো দিন যাচ্ছে ততোই উজ্জল নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠছেন। তিনি সারা দেশে নারায়ণগঞ্জের নাম আলোকিত করছেন। তিনি আছেন এবং থাকবেন বলেই সকলের বিশ^াস। তিনি হলেন ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। বিপরীতে মানুষের জন্য শামীম ওসমানের কোনো মায়াদয়া নেই। তাই মানুষের কল্যাণে কোনো রাজনীতি করেন না শামীম ওসমান এমপি।


