Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রক্তের নেশায় আকবরনগর ফের উত্তপ্ত

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৪২ এএম

রক্তের নেশায় আকবরনগর ফের উত্তপ্ত
Swapno

# আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলেই এ্যাকশন :  ওসি রকিবুজ্জামান
# বিবাদমান দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার চেষ্টা চলছে : চেয়ারম্যান শওকত আলী

 

আজো শান্ত হয়নি ফতুল্লার বক্তাবলীর আকবর এলাকা। থেমে থেমে চলছে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা। প্রভাব বিস্তার করতে এখনো সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজীর বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে রয়েছে। সামেদ-রহিমর প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে কেরানীগঞ্জের কাশেম নেতা নামের আরেকজন টেঁটা বাহিনীর গডফাদার। পুরো আকবর নগর জুড়ে সামেদ আলী ও কাশেম  নেতার আতঙ্কে থাকে এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে সামেদ আলীর ইটভাটার ইট লুট করতে কাশেম নেতার লোকজন প্রস্তুতি নেয়।

 

আকবর নগর বোট ঘাট এলাকার হাসান আলী কাশেম নেতার নির্দেশে প্রস্তুতি নেয় লুটপাটের। এ লুটপাটের প্রস্তুতিতে সিরাজদীখান এলাকারও বেশ কয়েকজন টেঁটা বাহিনীর সদস্য যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার দুপুরের দিকে সামেদ আলী হাজীর লোকজনদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তারা। এরই সূত্র ধরে রবিবার দুপুরের দিকে আকবরনগর এলাকায় সামেদ ও কাশেম নেতার লোকজন মুখোমুখি টেঁটা বল্লম নিয়ে রণক্ষেত্র করার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরণের সংঘর্ষ মোকাবেলায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।    


স্বাধীনতার আগে থেকেই চর দখল নিয়ে আকবর এলাকার পাশ্ববর্তী সিরাজদীখান থানা এলাকায় টেঁটা ও বল্লম যুদ্ধের সূচনা করেছিলো বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামের সেরাজুল,জালাল মাস্টার,বনী আমিন চেয়ারম্যান,মোল্লা কান্দি গ্রামের আলী হোসেন সরকার,গেদা মেম্বার, লেচু বকসা, গোলাম হোসেন চেয়ারম্যান, পানিয়ারচর গ্রামের আয়ান প্রেসিডেন্ট  প্রমুখ।

 

চর দখলকে কেন্দ্র করে টেঁটা যুদ্ধে নিহত বা আহত মানুষদের নিয়ে আদিম নৃত্যে মেতে উঠতো তারা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও এই টেঁটা ও বল্লম যুদ্ধ থেমে থাকেনি। থেমে থেমে এই যুদ্ধ এখনো চলমান। বর্তমানে মোল্লাকান্দি বালুচর গ্রামের নুরু বাউল,নাছির মেম্বার, কামাল মেম্বার, আমজাদ সরকার, আমীর হোসেন ও আলেক চাঁন মুন্সী, খাসমহল বালুচর গ্রামের শুক্কুর আলী মাদবর, রাজনগর গ্রামের আফজাল মেম্বার, ফিরোজ মেম্বার, আকবর নগর গ্রামের মুক্তার হোসেন,হাজী মমতাজ উদ্দিন, দক্ষিন কেরানীগঞ্জ জাজীরা এলাকার কাশেম নেতা, ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের হাজী সামেদ আলী,রহিম হাজী ও কেরানীগঞ্জের কাশেম নেতা গড়ে তুলেছে টেটা বল্লম বাহীনি।


মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান এলাকার পার্শ্ববর্তী সীমানা ঘেঁষা ফতুল্লার বক্তাবলীর আকবর নগর গ্রাম। এই এলাকায় এখনো আদিম নৃত্যে ক্ষণে ক্ষণে মেতে উঠে সামেদ আলী  ও রহিম হাজী। অপরদিকে কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার কাশেম নেতাও এই টেঁটাঁ যুদ্ধের অন্যতম হোতা হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিতি। আকবর নগরে ইটভাটা ও বালু মহাল দখল করতেই থেমে থেমে উল্লেখিত এলাকায় চলে টেঁটা ও বল্লম যুদ্ধ।

 

এই যুদ্ধে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে লুটপাট,অগ্নি সংযোগ থেকে শুরু করে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল কম থাকায় আকবরনগরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে সামেদ ও রহিম হাজী বাহিনীর সদস্যরা কোনো রকম ভয় পাননা। যদিও আকবর নগর এলাকায় সামেদ আলীর বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ফতুল্লা মডেল থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে তবুও এই এলাকায় সংঘর্ষ, লুট-পাট থেমে নেই।


২০১৮ সালের ৯ আগষ্ট কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার কাশেম নেতার আত্মীয় মাটি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে টেঁটা বিদ্ধ করে হত্যা করে সামেদ আলীর বাহিনী। এ নিয়ে সামেদ ও কাশেম নেতার দ্বন্ধ শুরু। সামেদ আলী   এক সময় কাশেম নেতার লোক হিসেবে পুরো আকবরনগর এলাকা দাবড়িয়ে বেড়িয়েছিলেন। জোর করে অন্যের জমির থেকে মাটি কেটে ইটভাটার বিক্রি করে দেয়া,গরু-বাছুর লুট-পাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যায় অপকর্ম কাশেমের শেল্টারেই করে থাকতো সামেদ।

 

বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীরও কাছের লোক হিসেবে সামেদ আলী পরিচিত। তবে আকবরনগর এলাকায় রক্তপাত দূরীকরণে শওকত আলী একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। জয়নাল হত্যাকান্ডের পর সামেদ আলীকে ঠেকাতে কাশেম নেতা আকবর নগরে রহিম হাজীকে শেল্টার দেয়া শুরু করে। রহিম হাজী এই শেল্টার পেয়ে সামেদ আলীর ইটভাটায় হামলাসহ,বাড়িঘরেও লুটতরাজ চালায়। সামেদ আলী ও  তার আত্মীয় স্বজনদের রহিম হাজীর লোকজন এলাকা ছাড়া করে।

 

এ ঘটনার পর কয়েক মাস সামেদ আলীর পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল,সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম তৎকালীন ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন আলোচনায় সামেদ ও রহিম হাজীকে নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। আর ঐ বৈঠকে সামেদ আলী ও রহিম হাজীর মধ্যে আপোষ মিমাংসা করে দেন তারা।

 

আপোষ মিমাংসার পর সামেদ-রহিম মিলে নতুন করে শুরু করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব। জয়নাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা তুলে নিতে কাশেম নেতার আত্মীয়দের এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন তারা। শুরু করেন নতুন করে আকবর নগরে ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজী। তাদের অত্যাচারে ইতিমধ্যে অনেক ইটভাটা ব্যবসায়ী এলাকা থেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। জয়নাল হত্যা মামলার বাদী পক্ষ এলাকায় আসলেই তাদের উপর সামেদ আলীর বাহিনীর লোকজনদের চলে অত্যাচার। অপরদিকে নিজের আত্মীয় জয়নাল হত্যা কান্ডের ঘটনায় সামেদ আলীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এখনো কাশেম নেতা।  তিনিও সময় সুযোগ বুঝে সামেদ আলীর উপর হামলা চালান।


শনিবার দুপুরে দিকে কাশেম নেতার লোক হিসেবে পরিচিতি আকবর নগর বোট ঘাট এলাকার হাসানর আলী ও তার লোকজন সামেদ আলীর ইটভাটায় ইট লুট করতে যান। এসময় সামেদ আলী ও হাসান আলীর লোকজনদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ উভয় পক্ষকে ধাওয়া দিলে কোনো প্রকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।  রোববার সকাল থেকে সামেদ আলী ও হাসান আলীর লোকজন টেঁটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখেন। ফলে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রেহাই পায় আকবর নগর এলাকাবাসী।


এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান বলেন, সামেদ আলী ও প্রতিপক্ষের লোকজনদের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারামারির প্রস্তুতি নিয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটনানোর চেষ্টা করে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।


বক্তাবলী ইউপির চেয়ারম্যান এম শওকত আলী যুগের চিন্তাকে বলেন, মূলত বালুরচর ইউনিয়নের কিছু লোককে কাশেম নেতা উস্কানী দিয়ে সামেদ আলীর সাথে সংঘর্ষের চেষ্টা করছে। বালুচর ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন