Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আলীরটেকে সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুই গ্রামের মারামারি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:০০ এএম

আলীরটেকে সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুই গ্রামের মারামারি
Swapno

# ঠিক জায়গায় কাজ চলমান আছে  উপজেলা প্রকৌশলী
# জাকির চেয়ারম্যানের লোক গিয়ে কাজে বাধা দেয়


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন হলো আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নের চার দিকের তিন দিকেই নদী বেষ্টিত। এই ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার চরআলীরটেক ও মাঝেরচর গ্রামের  দুই গ্রামের মানুষকে সাঁকো দিয়ে যাতায়াৎ করতে হয়। বর্ষাকালে তাদের নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। কয়েক যুগ ধরে চর আলীরটেক এবং মাঝেরচর গ্রামের বাসিন্দারা ব্রীজের জন্য দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু এর মাঝে কয়েকজন ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হলেও তাদের দাবী পুরণ হয় নাই। তবে সকল জল্পনা কল্পনা শেষে এই দুই গ্রামের মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে চর আলীরটেক ব্রীজ থেকে ছমির নগর ব্রীজ ঢাকা গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নামে বরাদ্ধ পাশ হয়। চরআলীরটেকের ২০০ গজ দূরে কুড়েরপাড় টু সবুজ নগর একটি ব্রীজ আছে। যা দিয়ে চরআলীরটেক, সবুজ নগর, ছমিরনগর, গঞ্জকুমারিয়া, তেলখিরাচর সহ ৬টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।


এদিকে এই ব্রীজের চলমান কাজ নিয়ে বাধা তৈরীকে কেন্দ্র করে আলীরটেক ইউপির দুই গ্রামের মানুষের মাঝে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনার মাশুল দিতে দুই গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নিরীহ মানুষকে। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গ্রামের মাঝে কয়েক লাখ টাকার মালামালসহ ১৫ জন আহত হন। তবে সচেতন মহল আশঙ্কা করছেন এই ঘটনার পিছনে উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে। যা সচেতন সর্বস্তরের মানুষ মোটেও কাম্য নয়। আবার কেউ কেউ বলছে এই ঘটনার পিছনে জনপ্রতিনিধিদের অদৃশ্য ইন্ধন রয়েছে। যাদের ইশারায় দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জরিয়ে পরে। আর এতে করে মানুষের রক্তক্ষরণ সহ কয়েক লাখ টকার ক্ষতি হয়। এছাড়াও এখান থেকে ব্রীজটি সরিয়ে নিলে তা সরকারের কয়েক লক্ষা টাকা ক্ষতি হতে পারে।


স্থানীয়রা জানান, চরআলীরটেক মুরুব্বিদের দাবী ব্রীজটি যেদিক দিয়ে হওয়ার কথা ওই দিক না হয়ে আরেক দিক দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে। খোজ নিয়ে জানাযায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী টেন্ডার অনুযায়ী ব্রীজটি চরআলীরটেক রোড টু ছমিরনগর ব্রীজ রোড পর্যন্ত ৬০ মিটার দীর্ঘ আইডি নম্বর ৩৬৭৫৮৫৩৫২ অনুযায়ী ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬০৪ টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মাণ করার বরাদ্ধ পাশ হয়। এই কাজের টেন্ডার পান ওরিয়ন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি। চরআলীরটেকের এলাকাবাসি জানান, ব্রীজের নির্মাণের কাজের জায়গা স্থানান্তর হওয়ার বিষয় গোপন রেখে অন্য জায়গায় কাজ করছে টেন্ডার পাওয়া কোম্পানি এবং দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ারকে দায়ী করছে এলাকাবাসী। অভিযোগ করে চরআলীরটেক বাসীর লোকজন বলেন, গত ২ মাস যাবত ব্রীজ নির্মাণ কাজ চলে আসলেও আমাদের এখানে ব্রীজ নির্মাণ কাজের কথা গোপন রেখে ইঞ্জিনিয়ার ও কন্ট্রাক্টর নিজেদের স্বার্থে মাঝেরচর গ্রামে ব্রীজ নির্মাণ কাজ করতে থাকে। নির্মাণ কাজের বিস্তারিত উল্লেখ করে সাইনবোর্ড লাগানোর পর আমরা জানতে পারি আসল ঘটনা। পরে ব্রীজ নির্মাণ কাজ করতে বাধা তৈরী করতে গিয়ে দুগ্রাম বাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।


তবে মাঝেরচর গ্রামবাসীর জানান, চর আলীরটেকের পাশেই একটি ব্রীজ আছে। তারা কুড়েরপাড় ব্রীজ দিয়ে চলাচল করতে পারে। আমরা অনেকদিন যাবৎ ব্রীজের দাবী জানিয়ে আসছি তাই সরকার আমাদের ব্রীজ করে দিচ্ছে। এখানে এসে বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছের লোক ফরিদ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধা তৈরী করে। এসময় ফরিদের বাহিনীর সদস্য মজিবর রহমান, পিয়ার আলী, নুর আলী বাধা দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ তর্কাতর্কি করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন।


সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের কেন মারা মারি করে রক্তক্ষরণ হতে হবে। এখানে দায়িত্বরত উপজেলা স্থানীয় কর্মকর্তা সহ স্থানীয় সরকারপ্রকৌশলীর কর্তৃপক্ষ রয়েছে তাদেরকে না জানিয়ে গ্রামের মানুষেরই বা কি দরকার বাধা তৈরী করার। আর ওই এলাকার চেয়ারম্যানই বা কি করলেন। তিনিওতো এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করায় গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। আর এতে করে সংঘর্ষের ঘটনার পিছনে তার দায়িত্ব অবহেলা তা এরিয়ে যেতে পারেন না। এখানে তারও গাফলতি আছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।  


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রকৌশলী সামসুন্নাহার জানান, সরকারি প্রকল্পে বাধা দেয়ার এখাতিয়ার কারো নেই।  আলীরটেকে যে দিক দিয়ে ব্রীজের কাজ চলমান আছে তা ওই খানেই পাশ হয়েছে। এটা নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মাঝে সংঘর্ষ হওয়ার কিছু নাই। যারা মারামারি করেছে তারা না বুঝে করেছে। এটা তাদের বিষয়। ব্রীজ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন তথ্য জানার প্রয়োজন হলে তারা আমাদের কাছে চিঠি দিতে পারত। এছাড়া একটি ব্রীজ পাশ হওয়ার আগে সরেজমিনে গিয়ে সয়েল টেষ্ট, ডিজাইন, রোড ম্যাপ একাধিকবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে তা পাশ করার অনুমতি দেয়া হয়। একটি ব্রীজ এমনি এমনি হয় না। এখানে অনেকবার গিয়ে দেখে তার পর তা বরাদ্দ হয়ে প্রকল্প আকারে পাশ হয়। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে, গ্রামের মানুষ মারামারিতে না জড়িয়ে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের জানাতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেন নাই। যেদিক দিয়ে কাজ চলমান আছে তা ওই খানেই পাশ হয়েছে। এখানে গ্রামের মানুষের বুঝার ভুল আছে।


অন্য দিকে মারামারির বিষয়ে সদর থানায় দুই গ্রামের পক্ষে দুটি অভিযোগ হয়েছে। এবিষয়ে এই ঘটনায় শুক্রবার সদর থানা হতে পুলিশের একটি টিম তদন্তে যান। সদর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহ জামান জানান, ঘটনার দিন আমি খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়েছি। এঘটনায় কোন মামলা হয় নাই। পরবর্তীতে এ ঘটনা স্থানীয়রা আপোষ মিমাংসা করার দায়িত্ব নেন। একই সাথে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন