Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আকবরনগরে টেঁটার রণডাক!

Icon

ফরিদ আহম্মেদ বাধন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:১৭ এএম

আকবরনগরে টেঁটার রণডাক!
Swapno

# সতর্ক প্রশাসন, বেপরোয়া দুই গ্রামের বাসিন্দারা
# কয়েকদিন যাবৎ পুলিশ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে : ওসি রকিবুজ্জামান


এখনো চলছে আকবরনগর ও বালুরচরে টেঁটা ও বল্লমের ঝনঝানির শব্দ। গত কয়েকদিনে তুলনায় গতকাল সকালে দুইগ্রামবাসীর মধ্যে টেঁটা ও বল্লম হাতে রণডাকে আতংকিত ছিলো এলাকাবাসী। ফতুল্লার বক্তাবলীর আকবরনগরে বেশ কয়েক বছর আগে টেঁটাবিদ্ধ করে বালু ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে হত্যা করে সামেদ আলীর লোকজন। ঘটনার দিন রাতে যখন জয়নাল আকবরনগর থেকে ট্রলার যোগে আনন্দবাজার যাচ্ছিলেন, তখনই সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনির নেতৃত্বে তার উপর টেঁটা হামলা চালানো হয়।

 

জয়নালকে টেঁটাবিদ্ধ করার পর সামেদ আলীর বাড়ির সামনে ওসমান ও তার লোকজন আদিম নৃত্য করেছিলো। গত কয়েকদিন যাবৎ বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবর নগরের সামেদ আলী বাহিনী ও সিরাজদীখান থানা এলাকায় বালুচর ইউনিয়নের হাসান আলীর পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে চলছে টানটান উত্তেজনা। দফায় দফায় উভয় পক্ষ টেঁটা ও বল্লম নিয়ে রণযুদ্ধের জন্য এক পক্ষ আরেক পক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। সিরাজদীখান ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিদিনই সকাল থেকে দুই পক্ষকে টেঁটাযুদ্ধ থেকে নিবৃত করতে প্রাণপন চেষ্টা করতে হচ্ছে। আকবরনগর ও বালুচরের সাধারণ মানুষ সামেদ ও হাসান আলীর মধ্যে সংঘর্ষের আশংকায় রয়েছে।

 

গতকালও দুই পক্ষ খোলা মাঠে মারমুখী ভুমিকায় ছিলো বলে জানা গেছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে অনেকে। সামেদ আলীর নিজ গ্রাম আকবর নগর থেকে বালুর চরে আধিপত্য বিস্তার করতে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে বলে জানাগেছে। অপরদিকে দুটি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মাঝখান থেকে ফায়দা লুটতেই আকবরনগর ও বালুচরের টেঁটা বাহিনীকে উস্কে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে কেরানীগঞ্জের কাশেম নেতাও  প্রতিপক্ষ সামেদ আলীকে হটাতে বালুর চরের টেঁটা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে যাচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছেন অপর একটি সূত্র। রহিম হাজী তার দোসর সামেদ আলীর সাথে টেঁটা যুদ্ধে জোগান দিয়ে যাচ্ছে বলেও সূত্রের দাবী।  


আকবরনগরে জীবন্ত মানুষকে ইট ভাটার চুল্লিতে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে হত্যা করা হয়েছিলো খলিলকে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খলিলকে ২০/২৫ বছর  আগে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সামেদ আলীর উত্থান মূলত সেই সময় থেকে। বর্তমানে বক্তাবলীর ১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতিও তিনি। তবে এই সামেদ আলীর চাইতেও আরো ভয়ানক তার কয়েকজন ছেলে। সামেদের সাথে সাথে ছেলেদেরও রয়েছে বিশাল বাহিনী। পুরো টেঁটা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনি।

 

শুধু ওসমান গনি ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু ফতুল্লা মডেল থানায় ৪ মার্চ ২০১৯ হত্যা মামলা, ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৪৯ তারিখ ১০ আগস্ট হত্যা মামলা, ফতুল্লা থানা মামলা নং- ১১(১) ২০০৯ হত্যা মামলা, ফতুল্লা থানা মামলা নং-২৩ (১২) ২০১১ হত্যা মামলা, মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরজাদিখান থানা মামলা নং- ৫(৪) ২০১৬ ইং হত্যা মামলা, মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান থানা ৩(৭) ২০১৩ ইং হত্যা মামলা, ,মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান থানা মামলা নং ২৩(৭) ২০১৩ ইং হত্যা মামলা, মুন্সীগঞ্জ সিরজাদিখান মামলা নং৭(৪)২১৬৫ ধর্ষন মামলা, ফতুল্লা মডেল থানা মামলা নং-৬(১১)২০০৯ ছিনতাই মামলাসহ কেরানীগঞ্জ থানায়সহ মোট ২০-২২ টি মামলা রয়েছে।

 

বর্তমানে  সামেদ আলীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আকবরনগর গ্রাম। আকবর নগরে প্রতিটি ইটভাটা থেকে চাঁদা তোলে সামেদ আলীর বাহিনী। ঐ চাঁদার ভাগ থানা ও শহরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পেয়ে থাকেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। মূলত ঐ সমস্ত নেতাদের শেল্টারেই সামেদ আলী উল্লেখিত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। র‌্যাবের হাতে সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনি গ্রেফতার হলেও আদালত থেকে জামিনে এসে পুনরায় এলাকায় ত্রাস শুরু করেছে।

 

পূর্বে বিরোধ থাকলেও বর্তমানে রহিম হাজীর সাথে মিলে মিশেই পুরো চরাঞ্চলে রাজত্ব করে চলছে সামেদ। বর্তমানে সামেদ আলী নিজ এলাকার বাইরেও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান থানার বালুরচর গ্রামের দিকে হাত বাড়ায়। গত কয়েকদিন আগে বালুরচরে চাঁদাবাজী ও বালু মহাল দখল করতে সামেদ বাহিনী তৎপর হয়ে উঠে। আর বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বালুরচরের আরেক টেঁটা বাহিনীর প্রধান হাসান আলী ও তার বাহিনীর সদস্যরা। দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধের মধ্যে ঘি ঢেলে দিয়েছে নিহত জয়নালের আত্মীয় কেরানী গঞ্জের আরেক গডফাদার  কাশেম নেতা। আর এই কাশেম নেতাই বালুরচরের পক্ষকে সামেদ আলীর বিরুদ্ধে টেঁটা যুদ্ধের ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।


একটি সূত্রের দাবী, গত কয়েকদিনের ঘটনায় বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান এম শওকত আলী ও বালুর চর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে শান্ত করতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে ফতুল্লা ও সিরাজদীখান থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত কয়েকদিন যাবৎ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে পুলিশ কতোটা সফল হবে এ নিয়েও চলছে নানা জটিলতা। সূত্র আরো জানায়, দুই থানা এলাকার কিছু আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষের মধ্যে যাতে সংঘর্ষ বাঁধে সেজন্য পিছন দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে কিছু নেতাদের বাড়তি সুবিধা হয়। মূলত এ কারনেই আকবর নগর ও বালুরচরের বর্তমান টেঁটাযুদ্ধের প্রস্তুতী থেকে কোনো পক্ষকে নিবৃত করা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।


এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.রকিবুজ্জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, আকবর নগর ও বালুচরবাসীর মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ যাতে না হয় সেজন্য উভয় থানার পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন যাবৎ পুলিশ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। যে বা যারাই টেঁটা যুদ্ধের ইন্ধনে কাজ করুকনা কেনো তথ্য পেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।  
   

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন