স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও ভূমি অফিস নেই আলীরটেকে
রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০১ এএম
# দুই নদী পার হয়ে মানুষকে ভূমি সেবা নিতে হয়
# সরকারের কাছে তালিকা গেছে : ডিসি
স্বাধীনতার আগে সদর উপজেলা এবং আলীরটেক একটি ইউনিয়ন ছিল। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পরে আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলবী আবদুল কুদ্দসের প্রচেষ্টায় গোগনগর থেকে ভাগ করে আলীরটেককে আলাদা ইউপি করা হয়। তার সাথে আরো অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি সহযোগী হিসেবে ছিলেন। স্বাধীনতার আগে আলীরটেকবাসীকে দুই নদী পার হয়ে নাগরিক সেবাসহ গোগনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে কর সেবা নিতে হত। কিন্তু স্বাধীনতার পরে আলীরটেকবাসী আলাদা ইউপি পেলেও ভূমি অফিস পায় নাই। ৫০ বছর পরেও ওখানে গিয়ে ভূমির সেবা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ভূমি অফিসের জন্য দাবী জানিয়ে আসলেও তাদের সেই দাবী পুরণে কোন আশ্বাস ছাড়া কিছুই পায় নাই। আর এতে করে এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এখনো দুই নদী পাড়ি দিয়ে ভোগান্তিতে ভূমি করসেবাসহ নামজারি করতে হয়ে। আলীরটেক ইউপিতে আদৌ ভূমি অফিস হবে কি না জানে না স্থানীয়রা। যত দিন পর্যন্ত গোগনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আলীরটেকের মানুষকে সেবা নিতে হবে ততদিন তাদের ভাগ্যে কষ্ট পোহাতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলীরটেক ইউনিয়নটি শহর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি আলাদা এলাকায় গঠিত হয়। এই ইউনিয়নের চারদিকে ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা নদীবেষ্টিত আলাদা দ্বীপের মত এলাকাটি। ১৯৭৩ সনে গোগনগর থেকে আলাদা হয়ে আলীরটেক ইউনিয়ন গঠিত হয়। কিন্তু এখানে স্বাস্থ্য সেবা, ইউনিনয়ন ডিজিটাল সেবাসহ অন্যান্য সেবা চালু হলেও ইউনিয়ন ভূমি অফিস না থাকায় ভূমি সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানকার মানুষদের ভূমি সেবা পেতে হলে ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে গোগনগর সৈয়দপুর ভূমি অফিসে গিয়ে সেবা গ্রহণ করতে হয়। আর এতে করে মানুষকে যেমন কষ্ট পোহাতে হয় তেমনি অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়। এত কষ্টের পরেও ওই এলাকার মানুষ কোন আশার আলো দেখছে না। অনেক সময় ভাড়া এবং ভূমি কর এক সমান হয়ে যায়। আলীরটেক ইউনিয়নের ‘খ” শ্রেণিভুক্ত। এখানে ১ শতাংশ জমির কর ৪০ টাকা করে দিতে হয়। এখানে অনেকে আছে ৩ শতাংশ জমির মালিক। এক্ষেত্রে তাদের ১ বছরের কর আসে ১২০ টাকা। তাকে ভূমি কর দিতে হলে আলীরটেক থেকে সৈয়দপুর গোগনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে কর দিতে হলে তার যাতায়ত ভাড়া গুনতে হয় প্রায় ১৫০ টাকা। এক্ষেত্রে জনগণকে অনেক সময় খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হয়।
আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন জানান, আমার বয়স ৭০ শেষ হয়েছে। ছোট বেলা আমার বাপদাদাদের দেখেছি তারা নৌকা দিয়ে গোগনগর ভূমি অফিস গিয়ে কর দিয়েছে। দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর শেষ হতে চলেছে এখনো পর্যন্ত আমরা আলীরটেক ইউপিবাসী আলাদা করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস পেলাম না। জীবনের ধারপ্রান্তে এসে পড়ছি। মরে যাওয়ার আগে দেখতে পারবো বলে মনে হয় না। এখনো কষ্ট করে নদী পার হয়ে আমাদেরকে আরেক ইউনিয়নে গিয়ে ভূমি সেবা নিতে হয়।
তার পাশে ৩৫ বছরের নান্নু বলে উঠেন, আমাদের আশ পাশের সকল ইউনিয়নের নিজস্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। কিন্তু আমরা দুর্ভাগা হওয়াতে ৫০ বছর পরেও আরেক ইউনিয়নের ভূমি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে হয়। এতে করে আমাদের সময় বেশি লাগে। সেই সাথে ভাড়াও বেশি দিয়ে যেতে হয়। তারমাঝে আবার কাঙ্খিত সেবা পেতে অনেক সময় বসে থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।
আলীরটেক আওতাধীন ডিক্রিরচর এলাকার শরীফ বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়ন ভূমি অফিস করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আদৌ এখানে ভূমি অফিস দেখে যেতে পারবো কি না জানি না। তবে এখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস হলে হাজার মানুষের ভোগান্তির লাঘব হবে। তাই এখানে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত ব্যক্তিরা যদি একটু দৃষ্টি দেন তাহলে হয়ত একদিন এই দাবি পুরণ হবে।
আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, এলাকার মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে আমরা এবিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করবো। সেই সাথে আমরাও চাই এখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস হোক। মানুষ তার কাঙ্খিত সেবা গ্রহণ করুন।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ইতিমধ্যে এখানে ভূমি অফিস নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে তালিকা গেছে। আশা করি আলীরটেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস হয়ে যাবে। মানুষও তার কাঙ্খিত সেবা পেতে পারবে।


