নিতাইগঞ্জে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে চাঁদাবাজি চলছেই
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জে নানা পরিবর্তন হলেও শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজির কোনো পরিবর্তন নেই। দোলন, নাসিম ওসমান, হাজী রিপন ও খাদেম সানাউল্লাহ যখন যেই এই ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছেন চাঁদাবাজির কোনো তারতম্য হয়নি। চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শতবর্ষ প্রাচীন নিতাইগঞ্জ দেশের সবচেয়ে বড় পণ্য বাজার। প্রতিদিন নিতাইগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষ্যে ২‘শ পণ্য বোঝাই ট্রাক যায়। এসব পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের ট্রাক ভাড়ার অতিরিক্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে প্রতিদিন নিতাইগঞ্জ থেকে লক্ষাধীক টাকা চাঁদা আদায় করা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে। যা ইউনিয়নের কথিত নেতারা ভাগ-বাটোয়ারা করে খায়। শ্রমিকের কোনো কাজে লাগেনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের এই চাঁদা তোলার জন্য ৬০ জনের একটি দালাল গ্রুপ আছে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ হলেন সাইফুল ইসলাম পলাশ। অভিযোগ রয়েছে প্রতিদিন পলাশ গমের ট্রাক থেকে বুক স্লিপের নামে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। পলাশের সঙ্গে থাকে সাবেক ক্যাশিয়ার শামীমের ছোট ভাই সবুজ। প্রতিদিন ৫০ টি ট্রাক গম নিয়ে নিতাইগঞ্জ থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়। সাধারণ ট্রাক শ্রমিকদের অভিযোগ, তিনযুগ আগে এই ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিলো। এরপর বেশ কয়েকবার শ্রমিকদের নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও, শেষপর্যন্ত নির্বাচন হয়নি।
সরকার পরিবর্তন হলেই নিত্যনতুন দখলদাররা এসে এই ইউনিয়ন দখল করে। এসব দখলদাররা আদৌ ট্রাক শ্রমিক নয়। এমনকি শ্রমিকই নয়। নিতাইগঞ্জ থেকে প্রতিদিন মোটা অংকের চাঁদাবাজির লোভেই তারা এই ইউনিয়নটি দখল করে আছে। এখানে প্রতিদিন লক্ষাধীক টাকার চাঁদা উঠলেও তাতে সত্যিকারের ট্রাক শ্রমিকের কোনো হিস্যা নেই।
শ্রমিকরা মনে করে, নিতাইগঞ্জে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে, অবিলম্বে এখানে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন হলে এই ইউনিয়নের নেতৃত্ব ট্রাক শ্রমিকদের হাতে আসবে। এতে সার্বিক ভাবে শ্রমিকরা লাভবান হবে।


