ফতুল্লায় সামেদ সিরাজদিখানে হাসানের মামলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:১৮ পিএম
# সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ : ওসি ফতুল্লা
গত কয়েকদিন যাবৎ ফতুল্লার আকবরনগরে সামেদ আলী ও হাসান আলী পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। টেঁটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতী নিয়েও দুই পক্ষ পুলিশী তৎপরতার কারনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সামেদ আলীর পক্ষ হয়ে তার ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৩জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে বালুর চরের হাসান আলী সিরাজদী খান থানায় সামেদ আলীসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেও একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে দুই থানায় দুটি পাল্টা পাল্টি মামলা হলেও এখনো আতংক কাটেনি আকবরনগরবাসীর। যেকোন সময় আকবরনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে অনেকেই।
আকবরনগরের গন্ডি পেড়িয়ে সামেদ আলী এখন সিরাজদীখান থানার বালুর চর গ্রামেরও আতংক। গত কয়েকদিন আগে প্রভাব বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে সামেদ আলীর ছেলে ওসমান গনি ও তার লোকজন হাসান আলীর বাড়ি ঘরে হামলাসহ লুটপাট করে। এ ঘটনার পরপরই পুরো বালুচর ইউনিয়নের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সামেদের বিরুদ্ধে। বালুর চরের লোকজন সামেদ আলীর পক্ষের সাথে টেঁটা যুদ্ধের ডাক দেয়। এতে সামেদের পক্ষও টেঁটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। এরপর দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে টেঁটা যুদ্ধের জন্য বালুর চর ও আকবরনগরের বর্ডারে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। দুটি থানার পুলিশ উভয় পক্ষকে টেঁটা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখেন। গতকাল ফতুল্লা মডেল থানায় সামেদ আলীর ভাতিজা সাইফুল ইসলাম বালুর চরের হাসান আলীকে প্রধান আসামী করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন,গত ১৮ জানুয়ারী হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজিবের ইটভাটায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসামীরা। চাঁদা না পেয়ে মামলার বিবাদীরা ইটভাটায় হামলাসহ ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় মুসলিমা আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর হতে বিবাদীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই সূত্র ধরে গত ৬ ফেব্রুয়ারী বিবাদীরা পুনরায় ১০ লাখ টাকার জন্য সাইফুল ইসলামের ভাই সামসুল ইসলামকে মারপিট করে আহত করে। অপরদিকে হাসান আলীও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান থানায় সামেদ আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছে। তবে এলাকাবাসীর দাবী,সামেদ আলী ও হাসান আলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই একের পর সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। একে অপরের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করছে এর সূত্র ধরে পুনরায় বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশংকা করছে তারা।
আকবরনগরে সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান বলেন, আকবরনগরে কোনো পক্ষই যাতে সংঘর্ষ করতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। একটি ইটভাটার ম্যানেজারের ভাই বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানা এলাকার বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


