Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের করুণ হাল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৩ এএম

ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের করুণ হাল
Swapno

ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের অতীত ইতিহাস ম্লান হওয়ার পথে। অতীতের সমস্ত জৌলুস হারাতে বসেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ। নামমাত্র কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে পদ পদবী আগলে রেখেছেন। ফতুল্লায় ছাত্রলীগের সব নেতারাই বিবাহিত। অনেকে লেখা পড়ার গন্ডি পেরিয়েছেন অনেক আগেই।

 

খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছেন ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ। সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান থানা আওয়ামীলীগের কমিটিতে পদ পদবী পেয়েছেন। প্রকৃত ছাত্র নেই ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগে। আর এ কারনে অনেক আগে থেকেই থানা ছাত্রলীগের বেহাল দশা। তবে  অয়ন ওসমানের  আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন সদর উপজেলার ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে থাকেন বলেও সূত্রের দাবী।


ফতুল্লা থানা  ছাত্রলীগের মূল কমিটিতে কারা ছিলেন তা বিস্তৃতির অতল গহীনে অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। ছাত্রলীগ বলতে শরীফ ও মান্নানকেই শুধু চিনে মানুষ। তবে এই দুই নেতার অধীনে কি পরিমান ছাত্র রয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন বরাবরের মতোই উঠে আসে। সদ্য বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের রিয়াদের বেশ কিছু কর্মী রয়েছে ফতুল্লায়। মূলত ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগে তাদের কোনো পদ পদবী নেই। আবার অনেকে ছাত্র না হয়েও রিয়াদের আশির্বাদে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে যে যার মতো।

 

ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হলেও সেই কমিটির একটি সভাও করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের অদূরদর্শীতার কারনেই এখনো ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি আলোর মুখ দেখছে না বলে দাবী সূত্রের। ফতুল্লার রাজনীতি আগে  যেমন চাষাঢ়া ভিত্তিক ছিলো, এখনো এই বলয় থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ। থানা আওয়ামীলীগের নমনীয় ভাব থাকার কারনেই ফতুল্লার মতো একটি থানা এলাকায় ছাত্রলীগ পড়ে আছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কমিটিহীন অবস্থায়।


ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের একজন নেতা বলেন, ফতুল্লায় ছাত্রলীগ নেতা আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক ও  এম এ মান্নান। এই দুইজনকেই চেনে নারায়ণগঞ্জের নেতারা। কিন্তু ছাত্রলীগের এই কমিটিতে অন্য কোনো নেতাকে জেলা নেতৃবৃন্দ তেমন একটা  চিনেন না। এর কারণ ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের পূর্বের যে নেতারা ছিলেন তারা দুইজনকে কেন্দ্র করেই ছাত্রলীগ নামে কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এর বাইরে অন্য যারা ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন তাদেরকে কোন মিটিং মিছিলে ডাকা হতো না। সভাপতি হিসেবে শরীফ ও মান্নান কয়েক বছর কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে প্রকৃত ছাত্ররা তাদের সাথে তেমন ছিলো না।

 

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সভা সেমিনারে যে লোকজন জড়ো করতো এর বেশির ভাগই ভাড়া করা লোক। এতে অবশ্য তাদের ভুল ধরা যাবে না। কারন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ছাত্রলীগের দুইজনকে যেমন রাজনীতি শিখিয়েছেন তারাতো সে রকমই করবেন তা-ই স্বাভাবিক।  


তিনি আরো বলেন,ফতুল্লায় পুরাতন ছাত্রলীগ নেতাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ছাত্রদের যদি দলের সাথে সম্পৃক্ত না করা যায় তাহলে ফতুল্লায় ছাত্রলীগ ভবিষৎতে নেতৃত্বে আসতে পারবে না। নতুবা আগের মতোই ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের করুন অবস্থা হবে।


এব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের একজন নেতা বলেন, সাংসদ শামীম ওসমান আগামী দিনের কথা চিন্তা ভাবনা করেই রাজনীতি পরিচালনা করছেন। আশা করি তিনি আগামীতে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে প্রকৃত ছাত্রদের সামনে আনতেই কাজ করবেন। শামীম ওসমান আগামী দিনে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজাবেন বলেও আশা করি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন