অটোর ধাক্কায় সাজিদের মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৪৫ পিএম
ব্যাটারী চালিত অটো রিকশার ধাক্কায় গুরুতরা আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ১১দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন বন্দরের তরুণ ব্যবসায়ী মো. সাজিদ খন্দকার (৩০)। তার এই অকাল অপমৃত্যুর মৃত্যুর প্রতিবাদসহ অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারী চালিত যান চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির বন্দর শাখা ও সাজিদের পরিবার।
গতকাল শনিবার বিকেলে বন্দর প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মজিবুর রহমান খন্দকারের ছেলে সাজিদের গ্রামের বাড়ি বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সেলসারদি হলেও তারা বন্দর আমিন আবাসিক এলাকায় বাস করত। নাগরিক কমিটি বন্দর শাখার সহসভাপতি কবির হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক করিম রেজা, উপদেষ্টা জিএম মাসুদ, নাসিক ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান, সিরাজদৌল্লা নাট্য দলের সভাপতি ফরিদ হোসেন রবি, কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহআলম, যুগ্ম সম্পাদক এসএম সহিদ, গণমাধ্যম সম্পাদক দীপুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা অটো ইজিবাইক (ব্যাটারী চালিত গড়ি) চালকদের কোন প্রতিদ্বন্দ¦ী না। কিন্তু যারা অটো চালায় তাদের সিংহভাগ চালকদেরই ড্রাইভিংয়ের ন্যুনতম জ্ঞান নাই। কোথায় গতি বাড়াতে হবে কোথায় গতি কমাতে হবে এই বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নাই। অন্যদিকে দুর্ঘটনা ঘটানো ইজিবাইককে চিহ্নিত করার জন্য ইজিবাইকের কোন নাম্বার বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় না।
তাই তারা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারে। পরে তাদেরকে খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বক্তারা আরও বলেন, ইজিবাইক চালকরা তাদের গাড়ি ডানে কিংবা বামে ঘুরানোর পূর্বে সামনে পিছনে তাকিয়ে কোন গাড়ি আসছে কিনা লক্ষ্য করে না। গলি থেকে তারা হুট করে রাস্তায় উঠে পড়ে, সেখানে কোন গাড়ি আসছে কি না সেদিকে খেয়াল করে না।
আর এসব কারণেই ইজিবাইকে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয় তাদেরকে প্রশিক্ষণসহ গাড়ি গুলোকে একটা নিয়মের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করতে হবে না হয় এসব গাড়ি চলাচল রাস্তা থেকে তুলে দিতে হবে বলে তারা দাবি জানান। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি মাগরিব নামাজ আদায় শেষে সাজিদ রাস্তার কিনার দিয়ে হেটে বাসায় ফেরার সময় পেছন থেকে একটি মিশুক (ব্যাটারী চালিত গাড়ি) প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দিলে সাজিদ ছিটকে গিয়ে সামনের একটি বৈদ্যুতিক খুটিতে মাথায় আঘাত পায়।
সাথে সাথে সাজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার চিকিৎসা করা সম্ভব নয় বলে ডাক্তাররা জানান। স্বজনরা পরে তাকে সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-একটিভ হাসপাতালে ভর্তি করেন সেখানে আইসিইউতে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি ঘটে। এর পর ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে মারা যান সাজিদ। বন্দর বাজারে সাজিদ টেলিকম নামে সাজিদের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল।


