Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পুলিশ মেরে পিকনিকে গেলেন মাদকের ডন শাহিন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৪১ পিএম

পুলিশ মেরে পিকনিকে গেলেন মাদকের ডন শাহিন
Swapno

 

# গার্মেন্টস এর প্রিন্টের অপারেটর থেকে দুর্ধর্ষ
# শাহিনের নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাংয়ের বাহিনী রয়েছে
# কথার অবাধ্য হলে টার্চার সেলে নিয়ে মারধর করে


রোববার রাতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও এই হামলার মুল হোত ফতুল্লা তল্লা এলাকার মাদকের ডন শাহিন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশের দাবী অপরাধীরা কেউ পার পাবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ফতুল্লা রেললাইন তল্লা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহিন পুলিশের উপর হামলা করেও এখনো দেদারসে ঘুরে বেরাচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের ঘনিষ্ঠ  একজন জানান, এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে শাহিনসহ তার ১৮ জন সহযোগিকে নিয়ে কক্সবাজার সমমূদ্র সৈকতে পিকনিক করতে গেছেন। পুলিশ পিটানোর ঘটনায় তাকে যেন গ্রেপ্তার করতে না পারে তার জন্য তিনি আপাতত কিছু দিনের জন্য শহর ত্যাগ করে আত্মগোপন চলে যান। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে বেরাচ্ছে। তবে পাচ্ছে না। তার হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগীদের জামিনের জন্য কবির হোসেন বাবু দৌড়ঝাঁপ করছেন।


তল্লা এলাকায় গেলে স্থানীয়রা এই প্রতিবেদককে জানান, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের অত্যাচারে জিম্মি হয়ে আছে এলাকাবাসী। সেই সাথে তার ব্যাপারে ছবির সিনেমাকে হার মানানো গল্প বের হয়ে আসে। তিনি বিভিন্ন মসিজদ মাদরাসায় টাকা পয়সা দান করে দানবীর সেজে আছেন। অন্যদিকে মাদকের মাধ্যমে যুব সমাজকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার নিয়ন্ত্রনে ফতুল্লা রেললাইন থেকে শুরু করে তল্লা হাজীগঞ্জ পর্যন্ত মাদক ব্যবসা চলে। সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে মাদকের হার্ট চানমারি বস্তি উচ্ছেদ হওয়ার  পর দার ব্যবসা বেশি বিক্রি বেরে যায়। মাদক সেবনকারীরা এখন তার লোকজনের কাছে গিয়ে মাদক পায়।


স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওয়ান এলিভেনের আগে চানমারি রেললাইন থেকে শুরু করে আজমেরী বাগ ও তল্লা জেমস ক্লাব পর্যন্ত আদিপত্্য বিস্তার করে হেরোইন ব্যবসা করতেন সারোয়ার নামের এক ব্যক্তি। সারোয়ারের জায়গায় গত ১০ বছর যাবৎ আদিপত্য তৈরী করে ওই এলাকা গুলোতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন পুলিশের উপর হামলার মূল হোতা শাহিন।

 

এই ১০ বছরে শাহিন মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ২০০৯ সনে শাহিন ও তার পরিবার তল্লা পোড়া মসিজেদের পিছনে একটি টিনের ঘরে ভাড়া থাকতেন। তখন তার পিতা রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন আর শাহিন হেল্পার হয়ে কাজ করতেন। পরবর্তিতে তিনি একটি গার্মেন্টস কারাখানার প্রিন্ট সেকশনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করেন।

 

এই অল্প টাকার রোজগারে তাদের পরিবার তেমন একটা ভালো ভাবে চলতনা। বেশি টাকা উপার্জনের জন্য এক পর্যায়ে সারোয়ারকে সরিয়ে মাদকের ডন এই শাহিন ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। পর্যায় ক্রমে মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেন বৃহত্তর তল্লা এলাকার মাদক সম্রাট। এই মাদক ব্যবসার বদৌলতে রাতারাতি কোটি টাকা আয় করে বর্তমানে ফতুল্লা বন্দরে ৬টি বাড়ির মালিক তিনি।

 

ফতুল্লা চটলার মাঠ এলাকায় ১০ তলা ফান্ডেশনের ৩ তলা কমপ্লিট বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শাহিন এবং তার পিতা মাতার নামে বাড়ি রয়েছে। তার অন্য কোন ব্যবসা বানিজ্য না থাকলেও তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই ১০ বছরে। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। তার নিয়ন্ত্রণে এখন কয়েকশ যুবক চলে। এমনকি এই শাহিনের জুতা পর্যন্ত আরেকজনে পরিয়ে দেয়। যা অনেক সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।


এদিকে তাকে নিয়ে সম্প্রতি মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসি, পুলিশের উপর হামলার অন্যতম আসামী ও মাদক সম্রাট শাহিন প্রশাসনের নাকের ঢগায় পিকনিক করতে যায় আর পুলিশ প্রশাসন তাকে ধরতে পারেনা এটা হতে পারে না। প্রশাসন চাইলে যে কোন আসামীকে মুহুতের্র মাঝে গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত হামলাকারীর মূল হোতা বাহিরে ঘুরে বেরাচ্ছে।

 

এদিকে হামলা গ্রেপ্তার হওয়া শাহিনের সহযোগিদের ছাড়ানোর জন্য তার একান্ত ক্যাশিয়ার কবির হোসেন বাবু দৌরঝাপ করছে। এই শাহিনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিশেষ পেশার লোকেরাও আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ উঠে। সেই সাথে পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পান বলে জানান তার কাছের লোকজন।

 

এই মাদক সম্রাটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে আছেন শাহ আলম। শাহিনের রয়েছে টর্চার সেল। তার কথার অবাধ্য হলে তাকে ধরে নিয়ে সেই টর্চার সেলে মারধর করা হয়। তাই এবার এলাকার মানুষ তার এই অত্যাচার থেকে বাচতে চায়। সেই সাথে যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে তাকে যেন চিরতরে এই এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয় সেই দাবী তোলেন।

 
অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, ফতুল্লা তল্লা রেললাইন এলাকায় হাজীগঞ্জ পর্যন্ত শাহিনের নেতৃত্বে দেদারসে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার এই মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য কবির হোসেন বাবু সহ ২০ থেকে ৩০ জন ছেলে নিযুক্ত থাকে। সন্ধ্যা হলেই ওই এলাকার ওলি-গলিতে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাদক ব্যবসা করে থাকেন।

 

এই মাদক বিক্রেতাদের পরিচালনা করেন মাদকের ডন শাহিন। এছাড়া ওই এলাকায় যেন কোন ফর্মা প্রবেশ করতে না পারে সুমন এবং তন্ময়ের মাধ্যমে কয়েকজন লোক রাখা হয়েছে। এর আগে ইয়াবাসহ সুমন পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন। মাদককারবারি শাহিন তল্লা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় গোপনীয়ভাবে সিসি ক্যামেরা ফিট করে রেখেছে। ওই এলাকায় যখন পুলিশ পোশাক পরে প্রবেশ করে তখন তিনি তা ক্যামেরার মাধ্যমে মোবাইলে দেখতে পান বলে জানান স্থানীয়রা।


উল্লেখ্য শাহিনের নামে প্রায় ৬ থেকে ৮ টি মাদক মামলা রয়েছে। শাহিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৬টি এবং সদর মডেল থানায় ২ টি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গতবছর ১২ মার্চ ফতুল্লা সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১লক্ষ ২৩ হাজার ইয়াবাসহ শাহিন, তার সহযোগী শাহ আলম, আল আমিন, নাছির, আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সনে ২০ এপ্রিল মাদক দ্রব্য গাজা, ২০১৭ সনে ৪ অক্টোবর, ২০১৮ সালের ২৪ জুন ইয়াবা মামলা রয়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে।

 

২০১৯ সনে আজমেরীবাগ এলাকা থেকে ১৬শ ইয়াবা পিছ সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। এছাড়াও গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম তল্লা এলাকা থেকে ৭শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭৫০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন এই মাদক ব্যবসায়ী শাহিন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন