Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মাদকের ডন শাহিনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৪০ পিএম

মাদকের ডন শাহিনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
Swapno

# সিএনজি শাহিনকে দিয়ে মাদক সরবরাহ
# জামান ব্যক্তিকে টর্চার সেলে নিয়ে মেরে মাথা ফাটায়

 

ফতুল্লা চাষাঢ়া তল্লা রেললাইন এলাকার পুলিশের ঘটনায় উপর হামলার ঘটনায় মাদকের ডন শাহিনকে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। সেই সাথে এলাকাবাসি তাকে গ্রেপ্তারের দাবী তুলেন। একই সাথে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে এত অপকর্মের হোতা তল্লা এলাকার মাদকের ডন শাহিন কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের বাধা কোথায়।

 

পুলিশের নাকের ঢগায় তার বাহিনী নিয়ে কক্সবাজার টেকনাফে ঘুরতে গেলেন কিভাবে। পুলিশের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনার মুল হোতা শাহিনকে গ্রেপ্তারের দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা। সেই সাথে তার টর্চার সেলের অত্যাচার থেকে মানুষ বাচতে চায়।
এদিকে খোজ নিয়ে জানাযায়, মাদক ব্যবসায়ী শাহিন তার মাদক বহন করার জন্য তারই নামে শাহিন নামের আরেক ব্যক্তিকে সিএনজি ক্রয় করে দেন। তার মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হয়। নগরীর মেট্রো হলের জোরা ট্যাংকি মোরে তিনি সিএনজি নিয়ে দাড়িয়ে থাকেন। তাকে ওই এলাকায় সিএনজি শাহিন নামে সকলে চিনে এবং জানে।

 

মাদক সম্রাট শাহিনের টর্চারসেলের বর্ননা দিতে গিয়ে জামান নামের এক ব্যক্তি জানান, গত সপ্তাহের প্রশাসনের ডিবি থেকে এসে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করে শাহিন কে এখানে। তখন আমি তাকে বল্লাম মেট্রো হল এলাকায় ৩ জন শাহিন আছে আপনি কোন শাহিনের কথা বলছেন। তখন আমি সিএনজি চালক শাহিন সহ ৩জনকে দেখায় দেই। পরের দিন সিএনজি শাহিন তল্লা এলাকার মদাক শাহিনের বাহিনী নিয়ে এসে আমার উপর হমালা চালায়। আমাকে  বেধে তার টর্চার সেলে নিয়ে আমার মাথায়, হাত পায়ে রট দিয়ে বাইরায়। তাদের মাইরের আঘাতে আমার মাথা ফেটে যায়। সেই পায়ের হাটুতে কেটে যায়। মাথার আঘাতের জায়গায় ১১ টি সিলি পরে।

 

তিনি আরও বলেন, এই মাদক শাহিনের বিশাল সন্ত্রাসীবাহিনী রয়েছে। একই সাথে তাদের কাছে বিভিন্ন অস্ত্র থাকে। আমাকে আরিফ বাচাতে এলে তারা তখন আরিফকে মাইরধর করে । এঘটনায় সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। আমার মত এমন অনেক মানুষকে নিয়ে শাহিনের টর্চার সেলে নিয়ে মাইরধর করা হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জানান, শাহিন তল্লা এলাকার মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত। ওই এলাকার প্রভাবশালি লোকদের ম্যানেজ করে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। তারই বাহিনী পুলিশের উপর হামলা করেছে। সে যেন কোন ভাবে পার না পায় তার জন্য মানুষ এভার মুখ খুলতে শুরু করেছে। সেই সাথে তাকে যেন ওই এলাকা থেকে বিতারিত করে চিরতরে মাদককারবারি বন্ধ করা হয় তার জন্য দাবী জানান এলাকাবাসী।

 

এই মাদক সম্রাটের রয়েছে বিশাল নারীর বাহিনী। নারীদের মাধ্যমে সে কক্সবাজার থেকে বড় বড় চালানের মাদক আনেন। সেই সাথে তাদেরকে সে বিভিন্ন সময় ব্যবহার করে। তার এত অপকর্মের পরেও যদি তাকে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে  এই এলাকায় আরও শান্তি এবং সন্ত্রাসী বেরে যাবে। তাকেই এখনি লাগাম ধরতে হবে। সে যদি পুলিশের হামলা করে পার পেয়ে যায় তাহলে এই এলাকা সন্ত্রাসের এবং মাদকের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হবে। তাই যবু সমাজকে বাচতে অন্তত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিৎ বলে মনের করেন সচেতন মহল।


অন্যদিকে রোববার রাতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও এই হামলার মুল হোত ফতুল্লা তল্লা এলাকার মাদকের ডন শাহিন এখনো গ্রেপ্তার হন নাই। পুলিশের দাবী অপরাধীরা কেউ পার পাবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ফতুল্লার চাষাড়া রেললাইন তল্লা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহিন পুলিশের উপর হামলা করেও এখনো দেদারসে ঘুরে বেরাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের ঘনিষ্ঠ  একজন জানান, এই ঘটনার পর তরিগড়ি করে শাহিন সহ তার ১৮ জন সহযোগিকে নিয়ে কক্সবাজার সমমূদ্র সৈকতে পিকনিক করতে গেছেন।


স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওয়ান এলিভেনের আগে চানমারি রেললাইন থেকে শুরু করে আজমেরী বাগ ও তল্লা জেমস ক্লাব পর্যন্ত আদিপত্্য বিস্তার করে হেরোইন ব্যবসা করতেন সারোয়ার নামের এক ব্যক্তি। সারোয়ারের জায়গায় গত ১০ বছর যাবৎ আদিপত্য তৈরী করে ওই এলাকা গুলোতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন পুলিশের উপর হামলার মূল হোতা শাহিন।

 

এই ১০ বছরে শাহিন মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ২০০৯ সনে শাহিন ও তার পরিবার তল্লা পোরা মসিজেদের পিছনে একটি টিনের ঘরে ভাড়া থাকতেন। তখন তার পিতা রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন আর শাহিন হেল্পার হয়ে কাজ করতেন। পরবর্তিতে তিনি একটি গার্মেন্টস কারাখানার প্রিন্ট সেকশনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করেন।

 

এই অল্প টাকার রোজগারে তাদের পরিবার তেমন একটা ভালো ভাবে চলতনা। বেশি টাকা উপার্জনের জন্য এক পর্যায়ে সারোয়ারকে সরিয়ে মাদকের ডন এই শাহিন ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। পর্যায় ক্রমে মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেন বৃহত্তর তল্লা এলাকার মাদক সম্রাট। এই মাদক ব্যবসার বদৌলতে রাতারাতি কোটি টাকা আয় করে বর্তমানে ফতুল্লা বন্দরে ৬টি বাড়ির মালিক তিনি।

 

ফতুল্লা চটলার মাঠ এলাকায় ১০ তলা ফান্ডেশনের ৩ তলা কমপ্লিট বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শাহিন এবং তার পিতা মাতার নামে বাড়ি রয়েছে। তার অন্য কোন ব্যবসা বানিজ্য না থাকলেও তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই ১০ বছরে। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। তার নিয়ন্ত্রনে এখন কয়েকশ যুবক চলে। এমনকি এই শাহিনের জুতা পর্যন্ত আরেকজনে পরিয়ে দেয়। যা অনেক সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।


এদিকে হামলা গ্রেপ্তার হওয়া শাহিনের সহযোগিদের ছাড়ানোর জন্য তার একান্ত ক্যাশিয়ার কবির হোসেন বাবু দৌরঝাপ করছে। এই শাহিনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিশেষ পেশার লোকেরাও আর্থিক সুবিধা নেন বলে অবিযোগ উঠে। সেই সাথে পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পান বলে জানান তার কাছের লোকজন। তার কথার অবাধ্য হলে তাকে ধরে নিয়ে সেই টর্চার সেলে মারধর করা হয়।

 

তাই এবার এলাকার মানুষ তার এই অত্যাচার থেকে বাচতে চায়। সেই সাথে যুব সমাজকে বাচাতে হলে তাকে যেন চিরতরে এই এলাকা থেকে বিতারিত করা হয় সেই দাবী তোলেন।  


উল্লেখ্য শাহিনের নামে প্রায় ৬ থেকে ৮ টি মাদক মামলা রয়েছে। শাহিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৬টি এবং সদর মডেল থানায় ২ টি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গতবছর ১২ মার্চ ফতুল্লা সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১লক্ষ ২৩ হাজার ইয়াবাসহ শাহিন, তার সহযোগি শাহ আলম, আল আমিন, নাছির, আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।

 

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সনে ২০ এপ্রিল মাদক দ্রব্য গাজা, ২০১৭ সনে ৪ অক্টোবর,২০১৮ সালের ২৪ জুন ইয়াবা মামলা রয়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সনে আজমেরীবাগ এলাকা থেকে ১৬শ ইয়াবা পিছ সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। এছাড়াও গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম তল্লা এলাকা থেকে ৭শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭শ৫০ পিছ ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হন এই মাদক ব্যবসায়ী শাহিন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন